Header Ads

বামপন্থীদের সমর্থনে রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছিলেন মৃণাল দাঃ স্মৃতিচারনে বিমান বসু। #Exclusive

নজরবন্দি ব্যুরোঃ মৃণাল সেন কেন্দ্রে সংযুক্ত মোর্চা (ইউনাইটেড ফ্রন্ট)-র সরকার থাকাকালীন বামপন্থীদের উদ্যোগে রাজ্যসভার মনোনীত সাংসদ হন। ১৯৯৭ সালের ২৭শে আগস্ট থেকে ২০০৩ সালের ২৬শে আগস্ট পর্যন্ত তিনি সাংসদ ছিলেন।বরেণ্য চলচ্চিত্র-ব্যক্তিত্ব মৃণাল সেনের জীবনাবসানে গভীর শোক ও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রবিবার বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান ও সি পি আই (এম) পলিট ব্যুরো সদস্য বিমান বসু বলেন মৃণাল সেন একজন কিংবদন্তী ভারতীয় তথা আন্তর্জাতিক ‘ফিল্ম মেকার’ বলেই পরিচিত।
তাঁর বিপুলায়তন সৃষ্টি না হলেও ত্রিশটির মতো পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ছায়াছবিতে ছিল পরিচিত সমাজ ও সময়। এর ওপরেই তাঁর সৃষ্টিগুলি কালজয়ী হয়ে উঠেছে। তিনি ছিলেন একজন সমাজবন্ধু, মানবিক এবং মার্কসবাদী ব্যক্তিত্ব। যদিও তিনি কোনো বামপন্থী রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন না। তবে, বামপন্থীদের সমর্থনে রাজ্যসভায় সাংসদ হয়েছিলেন বামফ্রন্ট আমলে। যেখানে যখন সাধারণ মানুষ অত্যাচারিত হয়েছেন তখনই সমাজসচেতন স্রষ্টা এই মানুষটির মন কেঁদেছে। তিনি বিচলিত হয়েছেন। সেই অস্থিতিকর পরিস্থিতির দিনলিপি বর্ণিত হয়েছে তাঁর কাহিনীমূলক বহু চলচ্চিত্রে। মৃণালদা ছিলেন এই দেশ ও বিশ্বের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে মানবিক সমাজসচেতন এক ব্যক্তিত্ব। দেশবিদেশে তাঁর খ্যাতি ছিল সর্বজনবিদিত। তাঁর শুরুর দিকের ছবি ‘ভোরের আকাশ’, ‘নীল আকাশের নীচে’ দেখেছি একাধিকবার। ‘ভূবন সোম’-ও দেখেছি। তারপরেও তাঁর অনেক ছবি দেখেছি। তবে তিনি এখনকার চলচ্চিত্র পরিচালকদের অনেকের মত অসংখ্য সৃষ্টি করেননি। সমকালীন সময় নিয়ে সাধারণের জীবনের ওপর দরদ দিয়ে ছবি তৈরি করতেন। বলতে গেলে সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক আর মৃণাল সেন ছিলেন সৃষ্টির মহিমায় একই বন্ধনীর মধ্যে থাকা চলচ্চিত্রকার। ছাত্রজীবনের মাঝামাঝি সময় থেকে তাঁর বামপন্থী মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায় নানান সামাজিক কাজে। চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে গিয়েও তাঁর সৃষ্টিতে বামপন্থী চিন্তাচেতনার প্রতিফলন এসেছে বারবার। তিনি ছিলেন গণনাট্য সংঘের প্রথম সারির একজন। এখনকার বাংলাদেশের ফরিদপুরে তাঁর জন্ম হলেও মৃণালদা ছিলেন আদ্যন্ত কলকাতার মানুষ। গত শতাব্দীর সত্তর দশকের অশান্ত ও উথাল-পাথাল সময়ে তিনি তৈরি করেছিলেন ‘কলকাতা ৭১’ ছায়াছবি, যা সর্বত্র প্রশংসিত হয়েছে। দেশবিদেশে একাধিক সম্মানে তিনি ভূষিত হয়েছেন। মস্কো ও বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে একাধিকবার জুরি বোর্ডের সদস্য হয়েছিলেন। ‘প্যারালাল সিনেমা’-র ক্ষেত্রে মৃণালদা ছিলেন একজন অনন্য ভারতীয় চলচ্চিত্রকার। তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল খুবই ঘনিষ্ট। তিনি ছিলেন একজন বামপন্থী সৎ ও সাহসী মানুষ। এটা এদেশের সকল বামপন্থী মানুষের গর্ব। কলকাতা, ৩০শে ডিসেম্বর, ২০১৯

দিনটা ছিল ১৯৮৫ সালের ২রা সেপ্টেম্বর, নন্দন উদ্বোধন হল।  
DESCRIPTION OF IMAGE

No comments

Theme images by sndr. Powered by Blogger.