ব্রিগেডের সাফল্য কি লোকসভায় গতবারের চেয়ে বেশী প্রতিনিধি পাঠাতে সাহায্য করবে বামফ্রন্ট কে?

অরুনাভ সেনঃ রাজ্যে বাম-কংগ্রেস লোকসভায় আবার জোট করবে কিনা সেই বিষয়ে এখনও অনেক মানুষ উৎসুক৷সন্দেহ নেই এই মানুষগুলি আপাদমস্তক তৃণমূল বিরোধী,বিজেপি বিরোধী৷দুই পক্ষের নীচু তলার কর্মী সমর্থকেরা চান হারাতে হবে তৃণমূলকে,হারাতে হবে বিজেপিকে৷কিন্তু এখনও পর্যন্ত জোট প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বাম বা কংগ্রেস নেতৃত্ব ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছেন তেমন খবর কিন্তু দলের কর্মী,সমর্থকেরা পাননি৷স্বভাবত প্রশ্ন হল তাহলে কি রাজ্যে আলাদা ভাবে লড়বে বাম-কংগ্রেস?কোনও সন্দেহ নেই বাম,কংগ্রেস আলাদা লড়লে রাজনৈতিক লাভ বিজেপির,অবশ্যই রাজনৈতিক লাভ তৃণমূলের৷ যদিও পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের সঙ্গে কোনও রকম জোটে না যাওয়ার কথা দীর্ঘদিন ধরেই বলছেন রাজ্য কংগ্রেস নেতারা। রাহুল গাঁধীর সঙ্গে কথা বলার পরে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেছেন আসন্ন লোকসভা ভোটে বাংলায় তৃণমূলের সঙ্গে জোটের দরজা বন্ধ করল কংগ্রেস।তিনি আরও দাবি করেছেন রাজ্য কংগ্রেসের প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি।কোনও সন্দেহ নেই ১১-র বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূল লাগাতার শক্তি বাড়িয়েছে৷কংগ্রেসের নেতা থেকে জনপ্রতিনিধিদের নিয়মিত ভাবে ভাঙিয়ে দূর্বল করা হয়েছে প্রদেশ কংগ্রেসকে৷ক্রমশ শক্তি কমেছে তাদের৷স্বভাবত প্রশ্ন উঠেছে এভাবে চললে আগামীদিনে রাজ্য রাজনীতিতে কংগ্রেস কি তার প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখতে পারবে!হয়ত আরও দূর্বল হবে প্রদেশ কংগ্রেস৷ঠিক এই জায়গা থেকে ঘুরে দাঁড়াবার চেষ্টা কিন্তু করছেন প্রদেশ সভাপতি সোমেন মিত্র৷নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করার দিকেই তিনি নজর দিয়েছিলেন৷সেটাই স্বাভাবিক, কারন সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে না পারলে কোনও রাজনৈতিক দলই আদর্শগত বা সাংগঠনিক ভাবে প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করতে পারে না৷কিন্তু মূল প্রশ্ন হল সারা রাজ্যে কি কংগ্রেসের সেই শক্তি আছে যার জোরে তারা একলা চলার বার্তা দিতে পারেন?অতিবড় কংগ্রেস সমর্থকও বোধহয় জোরগলায় সেই দাবি করতে পারবেন না৷
সেক্ষেত্রে বাংলায় তাদের প্রাসঙ্গিকতা বাঁচিয়ে রাখতে,কিংবা লোকসভায় কিছু আসন জিততে জোট তাদের করতেই হবে৷এখন প্রশ্ন জোটটা তারা কাদের সঙ্গে করবে বাম নাকি তৃণমূল?২০১৬-এর নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস জোটের সুফল পেয়েছিল কংগ্রেস৷বামেদের থেকেও বেশী আসন জিতেছিলেন কংগ্রেস প্রার্থীরা৷বাম সমর্থকদের অভিযোগ তারা জোটধর্ম মেনে কংগ্রেসকে ভোট দিলেও কংগ্রেসের বিরাট অংশের ভোট বাম প্রার্থীরা পান নি৷তাদের দাবি বাম সমর্থকরা যেভাবে জোটধর্ম মেনে কংগ্রেসকে দ্বিধাহীন ভাবে ভোট দিয়েছিলেন ঠিক একই রকম মনোভাব যদি কংগ্রেস সমর্থকেরা দেখাতেন তাহলে বামেরা আরও অনেক বেশী আসনে জয়লাভ করতেন৷সেক্ষেত্রে বিধানসভায় বামেদের প্রতিনিধির সংখ্যা অনেক বাড়ত৷কিন্তু তেমনটি হয়নি৷স্বভাবত এবারও বাম সমর্থকরা এখন পর্যন্ত জোট চেয়ে দলীয় সভা,বা সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন এমন ছবি কিন্তু চোখে পড়ছে না৷যদিও বামপন্থীরা রেজিমেন্টেড, দলের নির্দেশ বাস্তবায়িত করতে তাদের সামান্য সময় লাগবে না৷ফের যদি লোকসভায় বাম-কংগ্রেস জোট হয় জোরগলায় বলা যায় বাম সমর্থকরা জোটধর্ম পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ,তারা যেখানে বামেদের প্রার্থী নেই সেখানে কংগ্রেসকে ভোট দেবেন৷কিন্তু প্রশ্ন হল কংগ্রেস সমর্থকেরা কি জোটধর্ম পালন করবেন,পারবেন কি তারা যেখানে কংগ্রেস প্রার্থী নেই সেখানে তাদের ভোটটা বামেদের দিতে!সন্দেহ নেই এই বিষয় নিয়ে অবশ্যই ভাববেন বাম নেতৃত্ব,কারন অতীতের অভিজ্ঞতা তাদের কাছে সুখকর নয়৷ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা রাজনীতি করেন৷ কংগ্রেস অবশ্য গত মাসে মমতার ডাকে বিরোধীদের ব্রিগেডে দলের তরফে লোকসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাগড়েকে পাঠিয়েছে৷তবে তার অর্থ এই নয় তারা তৃণমূলের সঙ্গে রাজ্যে জোট করে ভোটে লড়ার কথা বলেছে৷বরং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর লোকসভা ভোটের কৌশল নিয়ে আলোচনার জন্য সব রাজ্যের প্রদেশ সভাপতি ও পরিষদীয় দলনেতাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী৷ সেখানেই বাংলার কংগ্রেস নেতারা তাঁকে জানিয়েছেন তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেসের কেউই জোট করতে চান না৷ প্রদেশ নেতাদের দাবি, তাঁদের প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি৷যদি প্রদেশ নেতাদের দাবি সঠিক হয় তাহলে কংগ্রেসকে এই রাজ্য থেকে আসন পেতে হলে অবশ্যই বামেদের হাত ধরতে হবে৷কিন্তু সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে প্রকাশ মর্যাদার আসন পাওয়া যায়, তা হলে বামেদের সঙ্গে জোটে যেতে নাকি আপত্তি নেই প্রদেশ কংগ্রেসের৷কোনও সন্দেহ নেই সার্বিক ও সাংগঠনিক শক্তিতে বামেরা এই রাজ্যে এখনও কংগ্রেসের থেকে অনেক এগিয়ে৷সদ্য শেষ হওয়া ব্রিগেডের জমায়েত বাম নেতৃত্বের মুখে হাসি ফুটিয়েছে৷তারা এটুকু বুঝেছেন লোকসভায় কতগুলি আসন বামেরা নিজেদের শক্তিতে জিততে পারবে সেটা পরের প্রশ্ন,কিন্তু রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে,কোনে বাম কর্মী,সমর্থক আছেন৷বামদলগুলি ফের সংগঠন গুছিয়ে নিয়েছে৷নতুন প্রজন্ম বাম রাজনীতিতে ফের উৎসাহিত হচ্ছেন৷সবমিলিয়ে বলা যায় আবার যেন বাংলায় ফিরছে বাম রাজনীতির ফিল গুড পরিবেশ৷তবে ব্রিগেডের উচ্ছাস,আবেগকে বামেদের ভোটবাক্সে প্রতিফলিত করার দক্ষতা দেখাতে হবে৷কোনও সন্দেহ নেই ভর্তি ব্রিগেড দেখে বাম নেতৃত্ব সেই প্রত্যাশা করতেই পারেন৷ তবে শুধু ব্রিগেডের ভিড় ব্রিগেডে ফেলে আসলে চলবে না,ঐ ভিড়কে এবার পৌঁছে দিতে হবে ইভিএমে৷একক শক্তিতে কি কংগ্রেসের সঙ্গে জোট, যাই হোক না কেন ভরা ব্রিগেডের উজ্জ্বীবিত হয়ে বাম কর্মী সমর্থকেরা দলের প্রার্থীদের জয়ী করতে দ্বিগুন উৎসাহে ঝাঁপাবেন একথা জোর গলায় বলা যায়৷অনেকে বলছেন বাম নেতৃত্ব কংগ্রেসের সাথে জোটের ব্যাপারে কি ভাবছেন?
সিপিএমের পলিটবুরো বৈঠক শেষে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট সম্পর্কে ইয়েচুরিকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনিও বলেছেন,এখনও পর্যন্ত স্থির আছে, ৩-৪ মার্চ দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে এই নিয়ে আলোচনা হবে। পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষিতে ঠিক হয়েছে, বামেদের প্রার্থীরা লড়বেন। যেখানে বামেদের প্রার্থী নেই, সেখানে বিজেপি-তৃণমূলকে হারাতে হবে৷অর্থাৎ তিনি সরাসরি জোট হচ্ছে এমন বলেন নি,আবার হবেনা এমনও বলেনি৷সবমিলিয়ে এটুকু বলা যায় বামেদের ভর্তি ব্রিগেড অনেক অঙ্ক বদলে দিচ্ছে৷নেতৃত্ব পুনরায় ভরসা পাচ্ছেন৷ মেনস্ট্রীম মিডিয়াতে বামেদের যত দূর্বল বলে প্রচার করা হয় বাস্তবে বামেদের শক্তি অনেক বেশি৷স্বভাবত প্রশ্ন নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির ভরসায় কি বামেরা একক শক্তিতে লড়াই করে রাজ্য থেকে লোকসভা আসন জয়ের স্বপ্ন দেখছে?বিশেষত রায়গঞ্জ সহ বেশ কয়েকটি আসনে বামেরা একক শক্তিতে জিতে নিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল৷সবমিলিয়ে এটুকু বলাই যায় বোধহয় ভর্তি ব্রিগেড আবার যেন বাম রাজনীতিতে ফিরছে ফিল গুড পরিবেশ৷কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হলেও স্বাগত না হলেও ক্ষতি নেই নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির ভরসায় বাম নেতা,কর্মী,থেকে সমর্থকরা রাজ্য থেকে লোকসভায় গতবারের থেকে বেশী প্রতিনিধি পাঠানোর ব্যাপারে আশাবাদী৷দিন যত গড়াচ্ছে,তাদের আত্মবিশ্বাস যেন আরও বাড়ছে৷
Loading...

No comments

Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.