PRT-র দাবি নিয়ে UUPTWA- র প্রতিনিধিদল রওনা দিতে চলেছে দিল্লীর উদ্দেশ্যে। #Exclusive

নজরবন্দি ব্যুরোঃ গত ১৫ই মার্চ, ২০১৮ তে উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারী টিচার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের আত্মপ্রকাশের পর থেকেই বাংলা দেখে চলেছে একের পর এক শিক্ষক বিদ্রোহ। UUPTWA-র পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রাথমিক শিক্ষকদের অবগত করান হয় তাদের বঞ্চনা সম্বন্ধে। যেখানে ভারতবর্ষের সকল রাজ্যে ৭ম বেতন কমিশন গঠনের পর প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রারম্ভিক বেতন কাঠামো হয়ে গেছে ৩৫৪০০, সেখানে কেবলমাত্র পশ্চিমবঙ্গ এখনো পড়ে রয়েছে সেই মাত্র ৫৪০০+২৬০০ বেতন কাঠামোতেই।
প্রতি মাসে বঞ্চনার পরিমান কমপক্ষে ১০,০০০ টাকা। ইউইউপিটিডাব্লুএ-র অভিযোগ কেন্দ্রের ষষ্ঠ বেতন কমিশন মেনে রাজ্যের সমস্ত বেতন কাঠামো গঠন হলেও ব্যতিক্রম শুধুমাত্র প্রাথমিকে। কেন্দ্রের ষষ্ঠ বেতন কমিশন মেনেও যদি তারা বেতন পেতেন তাহলে তারা বর্তমানে প্রাপ্ত প্রারম্ভিক বেতনের তুলনায় আরো ১০০০০ টাকার বেশী বেতন পেতেন।  UUPTWA-র পক্ষ থেকে সকল প্রাথমিক শিক্ষকদের বঞ্চনা অবগত করানোর পাশাপাশি তারা রাজ্যের প্রতিটি দফতরে দরবার করেছেন বারংবার। প্রতিটি জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক কে ডেপুটেশন দেওয়ার পাশাপাশি UUPTWA ডেপুটেশন দেয় শিক্ষা সচিব এবং শিক্ষামন্ত্রী কে। সংগঠনের পক্ষ থেকে বারংবার দেখা করতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে।
কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তবে দমে জাননি সংগঠনের শিক্ষক-রা। শহর করকাতায় নিজেদের দাবী নিয়ে একাধিকবার করেছেন মিছিল-সমাবেশ। সম্প্রতি গত ৬ই ফেব্রুয়ারি তারা কলকাতা রামলীলা ময়দানে সমাবেশ করে কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজ্য সরকারকে।রাজ্য সরকারকে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যদি ২৫শে ফেব্রুয়ারি এর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী তাদের সঙ্গে আলোচনায় না বসেন তাহলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন। যার প্রভাব ভোট বাক্সেও পড়বে। এই নিয়ে উস্থির সহ সভাপতি শান্তনু মন্ডল জানান, "শুধুমাত্রই যে ভোট বাক্সে এর প্রভাব পড়বে এমনটি নয়। আমরা রাজ্যব্যাপী বিশেষ প্রচার অভিযান কর্মসূচি গ্রহণ করতেও বাধ্য হব এবং জনমানসে নেতিবাচক দিকগুলি উপস্থাপন করব। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক শিক্ষকগণ প্রত্যক্ষভাবে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তা সম্পর্কে সরকার যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। আমরা আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান এবং সরকারি নোটিফিকেশন চাই।"
  এই সংগঠনের সভাপতি মাননীয় সন্দীপ ঘোষ জানান তারা নেতাজীর কায়দায় ''দিল্লী চলো" ডাক দিয়েছেন। যার জন্য দিল্লী তে মানব সম্পদ উন্নয়ন দফতর, এনসিটিই, এর অনুমতিও নেওয়া হয়ে গেছে বলে খবর। আগামী ৬ই মার্চ দিল্লির যন্তর মন্তর এ UUPTWA এর উদ্যোগে সকাল ১০ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত অবস্থান বিক্ষোভ করবেন করবেন এ রাজ্যের হাজারো বঞ্চিত প্রাথমিক শিক্ষক। সবরকম বন্দোবস্ত প্রায় শেষ। সংগঠনের সম্পাদিকা পৃথা বিশ্বাস জানিয়েছেন, "অনেক হয়েছে সরকারকে অনুনয় বিনয় এবার সরকার যে ভাষা শুনতে চাইছেন সে ভাষাতেই জবাব দেওয়ার সময় এসেছে।" আরও একধাপ এগিয়ে সন্দীপ ঘোষ বলেন, এই রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী দিল্লী দৌড়োচ্ছেন, সমস্ত ভারতের নেতাদের একত্রিত করছেন।
তাই এবার আমরা দিল্লীতে গিয়েই তাদের প্রিয় নেত্রীর আসল চেহারা উন্মোচন করব। সমস্ত দেশ দেখবে যিনি সমস্ত ভারতের রাজনীতিবিদদের এক ছাতার তলায় আনছেন, তারই রাজ্যে জাতি ও সমাজের মেরুদন্ড গঠনকারী প্রাথমিক শিক্ষকদের কি দুরবস্থা। যিনি ক্ষমতায় আসার আগে নির্বাচনী ইস্তেহার এ বলেছিলেন এক অথচ করেছেন এক।"
অন্যদিকে আগামীকাল অর্থাৎ ২৫শে ফেব্রুয়ারি শেষ হচ্ছে সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকার কে দেওয়া সময়সীমা। তাই পূর্ব নির্ধারিত ঘোষনা অনুযায়ী দিল্লীর জন্তর মন্তরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন ইউইউপিটিডাব্লুএর সদস্যরা। একমাত্র লক্ষ পিআরটি স্কেল প্রাপ্তির লক্ষ্যে ১৪ জনের প্রতিনিধিদল সহ মুর্শিদাবাদ ইউইউপিটিএ রওনা দেবে দিল্লীর উদ্দ্যেশ্যে আগামী ৪ মার্চ, সম্পূর্ণ নিজের নিজের খরচায়। সেখানে HRD ডিপার্টমেন্টে ডেপুটেশন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের মুর্শিদাবাদের সম্পাদক - মনিষ কুমার মন্ডল ও বিশ্বরূপ মন্ডল ।
তাই উস্থি ইউনাইটেড এর নেতৃত্বে এবার প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন যে জাতীয় রাজনীতিকেও নাড়া দিতে চলেছে তা বলাই বাহুল্য।
Bengali Movie Air Hostess

DESCRIPTION OF IMAGE
Loading...

No comments

Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.