রাফাল নিয়ে নতুন করে বিপাকে মোদী সরকার।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ভোটের আগে রাফাল নিয়ে ফের অস্বস্তিতে মোদী সরকার। রাফাল চুক্তিতে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের হস্তক্ষেপের কথা সামনে এসেছে আগেই।
এ বার চুক্তি থেকে দুর্নীতি বিরোধী জরিমানার শর্ত বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠল কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। রাফাল চুক্তি সংক্রান্ত নথি তুলে ধরে সোমবার ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকায় একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রতিরক্ষা সামগ্রী কেনাবেচা প্রক্রিয়া (ডিপিপি) সংক্রান্ত নিয়মাবলীর ধার ধারেনি মোদী সরকার। মোটা অঙ্কের চুক্তির ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন জড়িয়ে থাকে। সে সবকে গুরুত্বই দেওয়া হয়নি। ভারত-সহ বিশ্বের প্রতিটি দেশে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তির ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত থাকে, যার মধ্যে অন্যতম হল দুর্নীতি বিরোধী জরিমানা শর্ত। যাতে দুই দেশের মধ্যে হওয়া চুক্তিতে কোনও দালাল, সংস্থা বা প্রভাবশালীর ভূমিকা না থাকে।


 শর্ত ভঙ্গ হলে জরিমানার সংস্থানও থাকে।কিন্তু রাফাল কেনার ঠিক এক মাস আগে অগস্টে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক বসে। সেখানে দুর্নীতি বিরোধী জরিমানা শর্ত এবং এসক্রো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেনের প্রক্রিয়া চুক্তিপত্র থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সঙ্গে বিমান সরবরাহ প্রক্রিয়া, অফসেট বরাত এবং সময়সূচি সংক্রান্ত মোট ৮টি বদলের প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেপ্টেম্বর মাসে তত্কালীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পর্রীকরের নেতৃত্বে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (ডিএসি)-এর বৈঠক বসে। সেখানে যাবতীয় বদলে অনুমোদন দেওয়া হয়। তাতে সই করেন তত্কালীন ভাইস অ্যাডমিরাল অজিত কুমার।

দ্য হিন্দু-র দাবি, ফ্রান্সের সঙ্গে রাফাল নিয়ে দরদামে নিযুক্ত থাকা উপদেষ্টা এম পি সিংহ, বায়ু সেনার ফাইনান্সিয়াল ম্যানেজার এ আর সুলে এবং বায়ুসেনার যুগ্ম সচিব ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়সংক্রান্ত ম্যানেজার রাজীব বর্মা এই বদলে আপত্তি তুলেছিলেন। কিন্তু তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বিমান সরবরাহে ব্যর্থ হলে ভারত সরকারকে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ফ্রান্সের। সেই মতো ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি দিতে হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তাও মানা হয়নি। শুধু মাত্র ফরাসি প্রেসিডেন্টের তরফে চিঠি মারফত আশ্বস্ত করা হয়েছিল ৮ সেপ্টেম্বর। যার কোনও আইনি গুরুত্ব নেই। ফলে ভোটের আগে আরও একবার অসস্থিতে মোদী সরকার।
Loading...

No comments

Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.