মফঃস্বল শহরের কলেজ পড়ুয়ার ভাবনায় ফ্যাশন আর স্টাইল। অরুনাভ সেন

২০/২২বছর আগের এক মফঃস্বল শহরের কলেজ পড়ুয়ার ফ্যাশন নিয়ে ভাবনা৷

অরুনাভ সেন

কি কারনে লিখেছিলাম মনে ঠিক পড়েনা,সম্ভবত তখন কলেজের দ্বিতীয় বা তৃতীয় বর্ষের ছাত্র! খুব ফ্যাশন নিয়ে লেখা পড়তাম,কিন্তু ঠিক মত বুঝতাম না৷আজও ঠিক বুঝি বলে এখনও আমার মনে হয় না৷ তবে ফ্যাশন কি বিষয়টা নিয়ে একটা লেখা লেখার আগ্রহ তৈরি হচ্ছিল৷সেটা থেকেই একটু চেষ্টা করেছিলাম আসলে ফ্যাশন কি! সেটা একটু ভাবা যাক,আর সেই ভাবনা থেকে কলকাতা থেকে প্রকাশিত এক প্রথম শ্রেনীর দৈনিকে লেখাটা পাঠানো,স্বপ্নেও কল্পনা করিনি তারা ছাপতে পারে,কিন্তু যেদিন কাগজে নিজের নামের সঙ্গে লেখাটা দেখলাম,খুব আনন্দ পেয়েছিলাম৷আজ নজরবন্দির পাঠকদের সঙ্গে সেই লেখাটা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ হঠাৎ এসে গেলো৷সেজন্য মনে হচ্ছে সেই লেখাটা কেমন ছিলো একটু দেখি৷মজার বিষয় নিজেই ফ্যাশন দুস্তর একেবারেই না হয়েও কিভাবে এমন একটা লেখার সাহস করলাম ভাবলেই ভিরমি খাই এখন৷আসলে ফ্যাশন জিনিসটা কি তা অধিকাংশের ধারনায় নেই৷এই বিষয় সম্পর্কে প্রত্যেকেই কিছু না জেনে শ্লীল, না অশ্লীল এটা নিয়ে ঘন্টার পর ঘণ্টা তর্ক করে যেতে থাকেন৷এটাই বোধহয় ফ্যাশনের আসল মজা৷ঠিক যেমন দেশি-বিদেশী সব বাঘা বাঘা ফ্যাশন ডিজাইনার এবং বড়,বড় ব্যান্ডনেমের পোশাকে ছেয়ে আছে কলকাতা,তেমনই তিলোত্তমার হৃদয়ে আছে আর এক কলকাতা যাকে সস্তা কলকাতা বললে বোধহয় খুব একটা ভুল বলা হয় না!সেখানে ব্যপ্ত হয়ে আছে এলিফেন্ট টু আলপিন৷সাহিত্য,সংস্কৃতি,মোহনবাগান-ইষ্টবেঙ্গল,কফি হাউজের নিখাদ আড্ডা,পিওর বামপন্থায় যাদের আধিপত্য ছিলো একচেটিয়া সেই বাঙালি নাকি অনুধাবন করেছে সব ব্যাপারটাই কমার্স আর অর্থনীতির বিষয়৷ফ্রি সোসাইটির দখিনা বাতাস হু-হু করে বয়ে চলেছে,তাতে 'ওয়্যার ইউর এট্যাচুড' এর ন্যায় স্লোগান জনপ্রিয় হচ্ছে যুব সমাজে৷বলা বাহুল্য সবটাই ফ্যাশনের দৌলতে৷সম্ভবত ফ্যাশন সম্বন্ধে আমাদের ধারনা খুব একটা প্রগাড় ও স্বচ্ছ নয়৷পরিশীলিত রূচির প্রকাশ তখনই দেখা যেতে পারে যখন ফ্যাশন নামক শব্দটির সঙ্গে অদ্ভুতভাবে চটকে তোমায় ভোলাবোই বাক্যটির সমার্থকতা অনুভূত হয়৷যুবকরা আজকাল ফ্যাশন ব্যাটলে মহিলাদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার পটভূমি তৈরিতে ব্যস্ত!তথাপি তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করতে যুবকদের এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে৷ইদানিং কালের ফ্যাশন পত্রিকাগুলোর স্লোগান নারী জাগো৷এটা বোধহয় এক ধরনের স্লিপিং ক্যাপসুল৷নারীকে চিন্তাশূন্য সৌন্দর্য সাধনায় মগ্ন থাকার ক্ষেত্রে ফ্যাশন পত্রিকাগুলো অনুঘটকের ভূমিকা পালন করছে!রবীন্দ্রনাথ শেষের কবিতায় বলেছিলেন অমিতের কাছে কিটি হল ফ্যাশন,আর লাবন্য স্টাইল৷সমস্যা হল স্টাইল আর ফ্যাশনের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করতে গিয়ে আমরা ভুল পথে চলি৷গুলিয়ে ফেলি ফ্যাশন আর স্টাইলের সংজ্ঞা৷তাহলে কি দুটির সমন্বয়ের সম্ভাবনা নেই?আছে নিশ্চয়ই,ফ্যাশন আর রূচিবোধের সমন্বয়৷কামিল পাল্যিয়া পড়া,উইমেন্স স্ট্যাডিজের সঙ্গে যুক্ত থাকা,অথবা মানসিক চাপ হতে মুক্ত হতে সাইকোথেরাপিষ্টের নিকট চার অঙ্কের নোট গুনে দিয়ে আসাটাই নাকি আজকাল ফ্যাশন!তবে ব্যাক্তিগত অভিমত ফ্যাশন হল পোশাক আর প্রসাধন নয়,বরং সাহিত্য,শিল্প,সংস্কৃতি সকল বিষয়গুলিতে যা কিছু নতুন এবং জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে সেটাই ফ্যাশন৷ আসলে ফ্যাশন বিবর্তনের একটি অঙ্গ৷তবে অনেক ক্ষেত্রে ফ্যাশন দীর্ঘস্থায়ী হয় তখন কিন্তু সেটি সংস্কৃতি৷ সামগ্রিক জীবনধারার অঙ্গ৷সামগ্রিক জীবনধারার একটা অংশ৷অর্থনীতি,সমাজ,সংস্কৃতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে,পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠছে বাঙালির জীবনে,আসলে গতকাল যা ছিলো বিলাসিতা,আজ সংসারে সেটাই প্রয়োজনীয়৷হয়তো সেই কারনে বাঙালির চেহারা,মেজাজ বদলাচ্ছে,বাড়ছে সমালোচনা বা আলোচনা,তবে সুখের বা দুঃখের যাই বলুন না কেন তরুন প্রজন্ম সমালোচনা গায়ে মাখে না,বরং ধুতি,শাড়ি ত্যাগ করে তারা এখন যুগোপযোগী ফ্যাশনে নিজেদের সাজাতে ব্যস্ত৷ অনেকদিন আগের লেখা,হঠাৎ করে পেপার কার্টিংটা খুঁজে পেতেই মনে হল সবার সঙ্গে ভাগ করে নিই লেখাটি ছাপার আনন্দ৷২০/২১ বছর আগে আমরা যখন কলেজের ছাত্র ঠিক কেমন ভাবে ভাবতাম ফ্যাশন নিয়ে৷
লেখকঃ অরুনাভ সেন
বাড়িঃ বসিরহাট
জেলাঃ উত্তর ২৪ পরগনা 
রাজ্যঃ পশ্চিমবঙ্গ
দেশঃ ভারত
Bengali Movie Air Hostess

DESCRIPTION OF IMAGE
Loading...

No comments

Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.