নবচেতনায় নববর্ষ: রজত ভরদ্বাজ

বিশেষ প্রতিবেদন: বাঙালী আবেগময়, বাঙালী উৎসবমুখর, বাঙালীর বারো মাসে তেরো পার্বণ। আজ আবারও বাঙালী আরও একবার গোটা একটি বছরের স্মৃতি সম্বলিত বর্ষ বিদায়ের মুখোমুখি দাড়িয়ে। কয়েকটি ঘণ্টার ব্যবধান, সকলকে বিদায় জানিয়ে চলে যাবে ১৪২৫ কালের আপন নিয়মে, কিন্তু রেখে দিয়ে যাবে স্মৃতির সরণি বেয়ে কত কত অভিজ্ঞতা, কত আনন্দ, কত হতাশা সাফল্যে ব্যর্থতায় মাখামাখি পাওয়া না পাওয়ার একবুক অম্লমধুর অভিজ্ঞতা।

পাশাপাশি সম্পূর্ণ নতুন ভাবে আরও একরাশ  নির্মল টাটকা স্বপ্ন বুকে নিয়ে বাঙালী পুর্ণোদ্যমে আহ্বান করতে চলেছে আরও একটি নতুন বছরের। গাদা খানেক স্বপ্ন, ততোধিক আশা আকাঙ্খা, বুকের মধ্যে সযত্নে লালিত পর্বত প্রমাণ অনাস্বাদিত প্রত্যাশা পূরণের বার্তা নিয়ে বাঙালীর জীবনে আজ আগমন ঘটতে চলেছে আরও একটি নতুন বছরের। বর্ষ বিদায় ও বর্ষ বরণের এই সন্ধিক্ষণে দাড়িয়ে স্বাগত জানাই ১৪২৬ কে।

ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় মানুষ পরম্পরাগত ভাবেই কিছু আনন্দ এবং স্মৃতিকে আপন করে নেয়। এটাই প্রথা আর প্রথা-মাফিক এ আপন করে নেওয়ার বিভিন্ন স্তর এবং সময়ের পথ ধরেই গড়ে ওঠে নিজস্ব কিছু সংস্কৃতির বিকাশ। প্রতিটি জাতি ও সভ্যতা সংস্কৃতির মাধ্যমে খুঁজে পায় তার নিজস্ব অনুভূতি এবং স্বকীয় বৈশিষ্ট্য। বাঙালী জাতি হিসেবে, সর্বোপরি হিন্দু হিসেবে ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় আমাদের এমন একটি আবেগঘন উৎসব হল পয়লা বৈশাখ। পয়লা বৈশাখ হল বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। পয়লা বৈশাখ মানে নতুন বস্ত্র, দোকানে দোকানে গণেশ পুজো, হালখাতা মিষ্টিমুখ ও হাতে করে নতুন ক্যালেন্ডার নিয়ে বাড়িতে ফেরা। পয়লা বৈশাখ মানে হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী পঞ্জিকা প্রকাশ। সর্বোপরি, পয়লা বৈশাখ মানেই যাবতীয় মলিনতা কে দুরে সরিয়ে সকলকে আপন করে নেওয়া।
আসুন আমরা আজ থেকে নতুন বছরের এই নতুন দিনটিকে একটু নতুন ভাবে উজ্জাপণ করার শপথ গ্রহণ করি। আজ থেকে পয়লা বৈশাখ হয়ে উঠুক ক্ষমা দিবস, অর্থাৎ ক্ষমা চাওয়ার দিন, ক্ষমা করার দিন, সকলকে আপন করে নেওয়ার দিন।
স্বাগতম, সুস্বাগতম বাংলা নববর্ষ। সুস্বাগতম ১৪২৬।
Bengali Movie Air Hostess

DESCRIPTION OF IMAGE
Loading...

No comments

Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.