পরিবর্তনের লক্ষে বিজেপি-কে ভোট দিয়েছে বঙ্গবাসী, তাঁদের সাথে প্রতারণা করবেন না।

অর্ক সানা, সম্পাদক(নজরবন্দি): সদ্য সমাপ্ত হয়েছে লোকসভা নির্বাচন, দেশ জুড়ে মোদী ঝড়ে কার্যত উড়ে গেছে বিরোধীরা। হাওয়া লেগেছে এ রাজ্যেও, রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের গদি টলোমলো। ২২টি আসনে তৃণমূল জিতলেও ১৮টি আসন জিতে ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে বিজেপি। কিন্তু বিজেপি-র এই উত্থানের কারন কি? দেশ জুড়ে মোদী ঝড় উঠলেও এরাজ্যে হাওয়া লেগেছে পরিবর্তনের। কারন, তৃণমূলের বুথ স্তর থেকে রাজ্যস্তর সব রকমের নেতা নেত্রীদের প্রতি সাধারন জনগনের বিতৃষ্ণা ভোট বাক্সে আশির্বাদ হয়ে ঝরে পড়েছে বিজেপির পক্ষে।
রাজ্যের জনগন তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপি-কে ভোট দিয়েছেন অনেক আশায়, বলাচলে শৃঙ্খল মুক্তির আশায়। কয়েকটি বাদ দিলে রাজ্যের প্রায় সবকটি লোকসভা আসনেই তেমন সংগঠন নেই বিজেপি-র। ভোট গ্রহনের দিনগুলোতে দেখা গেছে অনেক বুথে এজেন্টই দিতে পারেনি বিজেপি। তবুও ভোট পড়েছে বিজেপির পক্ষে! ভোট পড়েছে মারের বদলা মারের পক্ষে, ভোট পড়েছে মোদীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের পক্ষে, ভোট পড়েছে দিলীপ ঘোষের হুঙ্কারের পক্ষে। তৃণমূলের সাথে চোখে চোখ রেখে কথা বলা যায় তা একাধিকবার আক্রমনের মুখে পড়েও প্রমাণ করেছেন বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি।
এরাজ্যে জেতেনি বিজেপি, তৃণমূল কে হুশিয়ারি দিয়েছে সাধারণ মানুষ। বলা ভাল ২০১৯ এ তৃণমূল কে ট্রেলার দেখিয়েছে সাধারণ মানুষ, বুঝিয়ে দিয়েছে বিরোধী দলের সংগঠন না থাকলেও তৃণমূল কে হারানো সম্ভব। কিন্তু সেই মানুষের সাথে প্রতারনা করতে এখন থেকেই শুরু করেছেন বিজেপি-র একটা অংশের নেতৃত্ব। যে তৃণমূল নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে বিতৃষ্ণায় মানুষ ভোট দিল বিজেপির পক্ষে সেই নেতা-নেত্রীদের গলাতেই ঘাসফুলের বদলে পদ্মফুলের উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
আর এই প্রবনতা দিন দিন চরম আকার নিচ্ছে। সাম্প্রতিক উদাহরন স্বরূপ বলা যায় মনিরুল ইসলামের নাম। কে এই মনিরুল ইসলাম? সেই বিখ্যাত সংলাপের মালিক "পায়ের তল দিয়ে তিনজন কে পিশে মেরে দিয়েছি" এতদিন তিনি তৃণমূলে ছিলেন, আজ বিজেপিতে। সাধারণ মানুষ যার বিরুদ্ধে ভোট দিল সে জামা বদলে আবার সেই সাধারণ মানুষগুলরই নেতা হয়ে গেল! এতো জনগনের আবেগের সাথে প্রতারনা করা!!

রাজ্য বিজেপি কি এই ভোট দাতা সাধারণ জনগনের মধ্যে থেকেই আগামীর নেতা তুলে আনতে পারে না? আজ যারা ক্ষমতার লোভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ছাড়ছেন তাঁরা কিন্তু দিব্যি এতদিন তৃণমূলে থেকে ক্ষমতার স্বাদ গ্রহন করেছেন।
কি চলছে রাজ্যে? বিজেপি কি শিখছে না? যারা আজ জামা বদলে তৃণমূল কে ডোবাতে সচেষ্ট তাঁরা কাল ক্ষমতার লোভে আবার তাঁরা বিজেপি কে ডোবাবে না তাঁর কি মানে আছে? বিশ্বাসঘাতকরা আর যাই হোক বিশ্বাসযোগ্য হন না। বিজেপি আরএসএস দ্বারা নিয়ন্ত্রিত দল, সেই দলেও এই সব ঘটবে! তাহলে তফাত কোথায় থাকল।কিছুদিন আগে মুকুল গিয়েছিল, তারপর অর্জুন, আজ মনিরুল গেছে, কাল হয়তো ববি, পরশু মদন বা শুভেন্দু! তাহলে পরিবর্তন হলটা কোথায়? সিম্বলের পরিবর্তন?
বাংলার মানুষ কি এই প্রত্যাশায় ভোট দিয়েছে বিজেপি-কে যে এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা যারা অত্যাচার করত এতদিন সে বা তাঁরা এখন জামা বদলে বিজেপি-র নেতা তথা জনগনের বন্ধু হয়ে যাবে! এটা হয় নাকি? একে আর যাই হোক ম্যাজিক বা চানক্যগিরি বলে না সোজা কথায় নোংরামো বলা চলে।
বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার কিছুদিন আগেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি নরেন্দ্র মোদিকে সাম্প্রদায়ীকতার নায়ক বলে ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন গুজরাট গনহত্যায় নরেন্দ্র মোদীর হাত রক্তে লাল হয়ে আছে। আজ তিনি বিজেপি-র বলিষ্ঠ নেতা। কিছুদিন আগে এক তৃণমূল ছাত্রনেতা নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমন করে বলেছিলেন নরেন্দ্র মোদী দেশ কে বেচে দিচ্ছে, মোদী একজন দেশদ্রোহী। সে এখন বিজেপি-র নেতা!
পায়ের তল দিয়ে পিশে মেরে দেওয়ার কৃতিত্ব নেওয়া তৃণমূল নেতা আজ থেকে গেরুয়া নামাবলি গায়ে চাপিয়েছেন! বিজেপি নেতাদের বলছি, যে জনগন এত আবেগ নিয়ে পরিবর্তনের লক্ষে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট দিল তাঁদের সাথে প্রতারণা করছেন কেন? সব দস্যুই তো আর রত্নাকর নয় যে বাল্মিকী হয়ে যাবেন!
 বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের কাছে প্রশ্ন, আপনি তো মাটির মানুষ তাহলে মাটিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না কেন?  জনগন-কে গুরুত্ব দিন, মাটি থেকেই নেতা তুলে আনুন, ক্ষমতা দিন জনগনের হাতে। দেখবেন বামরাজের মত রামরাজও ৩৪ বছর চলবে নাহলে ৮ বছরেই...... ভেবে দেখবেন, স্রোতে শুধু নেতা নয় কচুরিপানাও ভেসে আসে আর মনে রাখবেন তৃণমূল মানে শুধু মমতা নয়, মনিরুলরাও বটে। দিলীপ বাবু শুনলাম আপনি বলেছেন "দলের ওপর ভরসা রাখুন, তৃণমূল থেকে কেউ বিজেপি-তে যোগ দিয়ে দাদাগিরি করলে তৎক্ষণাৎ দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।" ব্যাপারটা অনেকটা ড্যামেজ কন্ট্রোলের মতই শোনাল। সবে তো শুরু... তাই সময় থাকতে সাধু সাবধান! 
DESCRIPTION OF IMAGE
Loading...

No comments

Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.