রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন, বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী মুকুল রায়। #Exclusive

অর্ক সানাঃ সময় টা ২০১১ সাল বাংলার আকাশে বাতাসে পরিবর্তনের গন্ধ, জনগনের একরাশ স্বপ্নকে পাথেয় করে ক্ষমতায় এল তৃণমূল। মমতা বন্দোপাধ্যায় হলেন মুখ্যমন্ত্রী, বাম সরকারের পতন ঘটল। তৃণমূল আর কংগ্রেসের জোট ক্ষমতায় এলেও জয়ের মূল কান্ডারী ছিল তৃনমূলই।  সাধারণ মানুষের চোখে সেই ঐতিহাসিক জয়ের কারিগর মমতা বন্দোপাধ্যায় হলেও আসল হিরো ছিলেন মুকুল রায়, বলা ভাল মুকুল রায়ের কুশল রাজনীতি। দেখতে দেখতে চলে এল ২০১৪ সাল! মোদী জ্বরে আক্রান্ত দেশ, ঝড় বইছে কার্যত রাজ্যে রাজ্যে। ইতিহাস গড়ে জিতলাম একক ক্ষমতায় বিজেপির সরকার।
পশ্চিমবঙ্গে অনেক ভোট বাড়ল বিজেপির, কিন্তু হাতে এল মাত্র ২টি আসন! দেশ জয়ের আনন্দ কিছুটা ম্লান হয়ে গিয়েছিল এরাজ্যের বিজেপি কর্মীদের কারন, মোদী ঝড় কে রাজ্যে সেভাবে প্রভাব পড়তে দেননি মুকুল-মমতা জুটি। প্রবল মোদী ঝড়েও মুকুল রায়ের স্ট্র‍্যাটেজিতে ৩৪ টি আসন পেল তৃণমূল!! ইতিমধ্যে রাজ্যে চলে এল বিধানসভা নির্বাচন,  রাজ্যে বিজেপির ফল তেমন ভাল না হলেই দিলীপ ঘোষ প্রমান করলেন তিনি লম্বা রেশের ঘোড়া। যেখানেই কর্মীরা আক্রান্ত সেখানেই নিজে পৌঁছে যাওয়ার প্রবনতা এবং স্পষ্টবাদীতার কারনে দিলীপ ঘোষকে ক্রমাগত বাংলার মানুষ নিজেদের পরিত্রাতা ভাবতে শুরু করেছে। ততক্ষনে রাজ্যের মানুষ চিনে নিয়েছেন মমতা ব্যানার্জীর শাসন ব্যাবস্থা কে। বেকারের চাকরি না পাওয়ার হতাশা, শিক্ষকদের ক্ষোভ, সরকারি কর্মীদের পে কমিশন-মহার্ঘ্য ভাতা শিকেয়। এছাড়াও পুলিশ যেভাবে দলদাসে পরিনত হয়েছে তা বাম আমলেও হয়নি বলে অভিযোগ ছিল। ভোট লুটের মাত্রা মাত্রাহীন!  তার ওপর চিটফান্ডের কোটি কোটি টাকা লুঠ, দিদির ভাইদের হাত খুলে ঘুষ নেওয়ার ছবি দেখতে দেখতে বিরক্ত মানুষ পরিত্রান চাইছে তৃণমূলের হাত থেকে! কিন্তু উপায়?
২০১৭ সালের শেষের দিকে ভারতীয় জনতা পার্টির ব্যাটন হাতে তুলে নিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি মুকুল রায়। বাকিটা ইতিহাস, রাজ্যে শুরু হল মুকুল ম্যাজিক। ফল মিলল হাতে নাতে, তৃণমূলের অত্যাচার আর ভয়ানক সন্ত্রাস উপেক্ষা করেও ২০১৮ পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপি হয়ে উঠল রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল। অমিত শাহ কঠিন দায়িত্ব দিলেন ২০১৯ লোকসভায়, রাজ্যের ৪২ টি আসনের মধ্যে জয় পেতে হবে ২৩ টি আসনে। মুকুল রায় কিন্তু বাস্তব করে দিয়েছেন অমিত শাহের স্বপ্ন। রাজ্যে ম্যাজিক হয়েছে, যে বামশক্তি রামশক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন চালাত এবার সেই গ্র্যাসরূটের বামজনতা দুহাত ভরে ভোট দিয়েছেন বিজেপি-কে। এই অসম্ভব কে সম্ভব করেছেন মুকুল। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হতে পারে ২০২১ সালের আগেই, কারন যা খবর তাতে কমপক্ষে ৫৩ জন তৃণমূল বিধায়ক যোগ দিতে চলেছেন বিজেপি-তে।

রাজ্যে বর্তমানে এমনই অবস্থা যে এক্ষুনি বিধানসভা নির্বাচন হলেও ক্ষমতাচ্যুত হতে পারে তৃণমূল। সেক্ষেত্রে বিজেপি-র মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবীদার কে হবেন? একটাই নাম সামনে আসে মুকুল রায়। কারন দিলীপ ঘোষ এখন সাংসদ এবং কেন্দ্রের সম্ভাব্য মন্ত্রী, সুভাষ সরকার সাংসদ;মন্ত্রীও হতে পারেন। এই অবস্থায় মুকুল রায়ের সামনে একদম ফাঁকা গোল পোস্ট! শুধু ক্রশবাড়ের ভূমিকায় দেখা যেতে পারে আরএসএস কে, তবে আরএসএস কে সামলানো মুকুল রায়ের কাছে বোধ হয় তেমন কঠিন কিছু হবেনা। আর আরএসএস রাজ্যে এমন ভাবে বিজেপির উত্থানের কারিগর কে মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবীদার হতে বাঁধাও দেবে বলে মনে হয় না।  তাই বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী যে মুকুল রায় হচ্ছেন তা বলাই বাহুল্য। আর যদি তা নাও হন বা আরএসএস যদি একান্তই মুকুল রায় কে মুখ্যমন্ত্রী পদ প্রার্থী হিসেবে মেনে না নেয় তাহলেও রাজ্য সভাপতির পদ তো থাকছেই। আগেই  লিখেছিলাম ২০০৯ ফিরছে ২০১৯ এ আর ১১ একুশে! কেন বুঝুন। নির্দিষ্ট সূত্রে খবর বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী পদ প্রার্থী হচ্ছেন মুকুল রায়, নির্বাচন সম্ভবত ২০২০তেই।
DESCRIPTION OF IMAGE
Loading...

No comments

Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.