রাজ্যে গেরুয়া ঝড়, এবার সারদা নারদার অভিযুক্তরা জেলে যাবে না বিজেপিতে?

অর্ক সানাঃ রাজ্যে ভরাডুবি হয়েছে বামেদের মাত্র ৮ বছর আগে ক্ষমতাচ্যুত বামেরা কার্যত মুছে গেছে রাজ্য থেকে। ভোট শতাংশ নেমে এসেছে ৭ এর গোড়ায়। ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যে বিরোধীরা একেবারে কোন ঠাসা হয়ে গিয়েছিল। বনধ হরতালের রেকর্ডধারী মমতা বন্দোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর রাজ্যে বনধ হরতালের প্রথাটাই তুলে দিয়েছেন প্রায়। বিরোধীদের প্রচার করার জায়গাটুকুও ছাড়েননি বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১৬ সালে জেতার পর সেই 'অত্যাচার' আরও বেড়েছে।
এরমধ্যেই রাজ্যে চিটফান্ড বা নারদা কেলেঙ্কারির মত ঘটনা ঘটেছে। জড়িয়ে গিয়েছেন শাসক তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট নেতা। বিরোধী আসনে বসার পর বামেদের আক্রমনের সুর সেভাবে কখনই দানা বাঁধেনি। পাড়ায় পাড়ায় শাসকের নেতার অত্যাচারে অতীষ্ঠ মানুষ তাই অবশেষে বিরোধী বামের জায়গায় স্থান দিয়েছেন বিজেপি কে। অনেক আশা, অন্যায় অত্যাচারের অবসান ঘটাবে বিজেপি। মানুষের সমর্থন দুহাত ভরে পেয়েছে বিজেপি। যেভাবে লোকসভায় সাফল্য পেয়েছে বিজেপি এভাবে চললে বিধানসভায় তৃণমূলের ক্ষমতাচ্যুত হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা।
কিন্তু কিছু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। নারদায় প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পরেও সংসদের এথিকস কমিটি কার্যত কিছুই করেনি। সিবিআই সারদা বা চিটফান্ড তদন্তকে ঝুলিয়েই রেখেছে! ঘুষ নেওয়া নেতা মন্ত্রীরা সদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে, সারদা বা রজভ্যালিতে প্রতারিত আমজনতা সুবিচার পায়নি! কেন? এবার কি জনগন দেখবে সারদা বা রোজভ্যালি অথবা নারদা কাণ্ডের অভিযুক্তরা জেলে যাচ্ছে নাকি তাদের বীরের সম্মান দিয়ে দলে জায়গা দেবে বিজেপি? প্রশ্নটা অবান্তর নয়। ভারতবর্ষের সবকটা প্রধান দলই কখনও না কখনও ক্ষমতায় এসেছে, অথবা সরকার গড়তে সাহায্য করেছে। কিন্তু এতে কিছুই বদলানোর নয়, যে দলই জিতুক মনে রাখবেন দেশের সাধারন মানুষের অবস্থা বদলে যাবে না। আমার মনে হয়েছে এর পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারন রয়েছে।
১) অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস নিম্ন মধ্যবিত্ত বা গরীবের নেই।
২) অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সময় মধ্যবিত্তের নেই।
৩) অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার প্রয়োজন ধনীদের নেই।
 সুতরাং
 ১) সরকারি কর্মীরা কাজে ঢিলেমি দেবে।
 ২) পুলিশ ঘুষ নেবে, প্রভাবশালী বা ক্ষমতাসীন দল অথবা অর্থবানের দাস হয়ে থাকবে।
৩) বিচারালয়ে তারিখের পর তারিখ পড়বে।
৪) তোলাবাজি বন্ধ হবে না। সিন্ডিকেট চলবে।
৫) সরকারি কাজ জনগণের জন্য হওয়ার আগে বরাদ্দ টাকার একটা অংশ ভাগ বাটোয়ারা হয়ে যাবে।
৬) শুধু মেধার ভিত্তিতে চাকরি হবে না, জাতের নীচতা আর অর্থের উচ্চতা তফাত গড়ে দেবে।
৭) গরীবকে ব্যাঙ্ক সামান্য অর্থ লোন না দেওয়ার জন্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে আর বিজয় মালিয়াদের হাজার হাজার কোটি টাকা লোন মাফ করে দেবে।
৮) রাজায় রাজায় যুদ্ধ হবে আর মরবে উলুখাগড়া রা।
৯) সংবাদমাধ্যম গরীব বা প্রতারিতদের হয়ে বলবে না, ক্ষমতা আর অর্থের কাছে বিক্রি হয়ে যাবে।
১০) বিভিন্ন রকম অপ্রাপ্তির কারনে মাঝে মধ্যেই একাধিক সংগঠন 'চলছে না চলবে না' স্লোগানে রাজপথ মাতাবে কিন্তু তবু তা চলতেই থাকবে।
 দিনের শেষে আমরা শুধুই ভোটার! নিজের নিজের কাজ করি, খেটে খাই আর ফি বছর ভোট দিই! 'দিনবদলের ডাক' শুনতে পাই কিন্তু দিনের বদল আর আসে না। জাগো মানুষ জাগো বলব না, বরং বলব চলো বদলাই না হলে নিজেই বদলে যাই।
DESCRIPTION OF IMAGE
Loading...

No comments

Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.