Header Ads

জলের কল অকেজো, উদাসীন স্কুল কতৃপক্ষ।

পল মৈত্র,দক্ষিন দিনাজপুরঃ দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমন্ডি ব্লকের ১০ নং রাজ্য সড়কের পাশে কুশমন্ডি উচ্চ বিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠে রয়েছে দুটি গভীর নলকূপ। যদিও নলকূপগুলি চারিদিকে আগাছা দিয়ে ঘেরা।শুধু তাই নয়, তার মধ্যে একটি অকেজো ও অন্যটি সচল থাকলেও জল পানের অযোগ্য কারন ঐ জল আয়রণযুক্ত এমনটাই জানালেন স্থানীয় লোকজন ও অভিভাবকেরা। অপরদিকে, কুশমন্ডি উচ্চ বিদ্যালয়ের পিছনে প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে রয়েছে তিনটি গভীর নলকূপ। তার মধ্যে একটি অকেজো।সেটিও আগাছা দিয়ে ঘেরা। অপর দুটি গার্লস হোস্টেলে রয়েছে তাই সেটা গার্লস হোস্টেলের ছাত্রীরা ছাড়া অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারেনা। এমত অবস্থায় দুই বিদ্যালয়ের চার হাজার পড়ুয়া তীব্র গরমে চরম জলসঙ্কটে পড়েছে।
শুধু তাই নয়, কুশমন্ডি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র সংখ্যা ৪৬৬ জন। এই বিদ্যালয়ে প্রবেশের নির্দিষ্ট্য কোনো পথ নেই। প্রবেশ পথ বলতে কুশমন্ডি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ। বর্ষাকালে এই মাঠের উপর দিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। ছোট ছোট পড়ুয়ারা পড়ে গিয়ে হাত পা ভেঙ্গে যাওয়ার মত অবস্থা। এমনটাই জানালেন কুশমন্ডি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উমাশঙ্কর সরকার। তিনি আরোও বলেন, একাধিকবার রাস্তা সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। প্রসঙ্গত, এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গোটা জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছাত্র- ছাত্রী রয়েছে। অপরদিকে, এই তীব্র দাবাদহে দুই বিদ্যালয়ের শতাধিক ক্ষুধে পড়ুয়া থেকে শুরু করে কিশোর-কিশোরী ঐ স্কুল সংলগ্ন মাঠে সকাল সন্ধ্যা ফুটবল,ভোলি ও ক্রিকেট খেলে। তাদের জল তেষ্টা পেলে ক্ষুধে খেলোয়াড়রা অন্যত্র জল খেতে যায়। অবশ্য জল সঙ্কটের ব্যাপারে কুশমন্ডি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, আমাদের অযত্নের জন্য এই কলগুলি নষ্ট হয়েছে এবং সেই ছোটো ছোটো খেলোয়াড়রা বিদ্যালয় খোলা থাকলে আমাদের বিদ্যালয়ের ভিতর জল খেতে আসে। অপরদিকে, কুশমন্ডি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায়, অপর এক শিক্ষক জানান, জল সঙ্কট ও টিউবওয়েল মেরামতির জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।
 অবশ্য, কুশমন্ডি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবী তাদের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রয়োজনীয় জল স্কুলে থাকা টিউবওয়েল থেকে পান করে। অবশ্য আমাদের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে অন্য চিত্র। সেখানে দেখা যাচ্ছে অনেক পড়ুয়া সেই আয়রণযুক্ত জল পান করছে। এই গরমে প্রশ্ন উঠছে যে সব শিক্ষার্থীরা দেশের ভবিষ্যত সেই সব শিক্ষার্থীরা আজ আয়রনযুক্ত জন পান করছে,কিছু হলে এর দায় কে নেবে? অবশ্য এ নিয়ে পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি তথা বর্তমানে জেলা পরিষদের নারী ও শিশু কল্যান সমিতির কর্মাধ্যক্ষ মিঠু জোয়ারদার বলেন, আমি সভাপতি থাকাকালীন টিউবওয়েলগুলি সচল ছিল ও পরিষ্কার ছিল। এর পরেই সদ্য লোকসভা ভোট হয়ে যাওয়ায় সে বিষয়ে আর কোনো খোঁজখবর নেওয়া হয়নি। আমাকে এ ব্যাপারে কেউ জানালে আমি পঞ্চায়েত সমিতি ও বিডিও- কে জানবো।

No comments

Theme images by lishenjun. Powered by Blogger.