সেমিফাইনাল থেকে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডের তুলনায় এগিয়ে ভারত৷

অরুনাভ সেনঃ আরও একবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন ১৩০কোটি ভারতীয়৷সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপায়িত করতে প্রথম ধাপ, হারাতে হবে নিউজিল্যান্ডকে৷তবে প্রশ্ন কে হাসবেন শেষ হাসি কোহালি নাকি উইলিয়ামসন?উত্তর মিলবে,অপেক্ষা আর মাত্র কয়েক ঘন্টার৷ গ্রুপ পর্বে মাত্র একটি ম্যাচ হেরে সাত সাতটিতেই জিতে সেমিফাইনালে যাওয়ার টিকিট পেয়েছে মেন ইন ব্লু৷কোনও সন্দেহ নেই ভারতের এই দুরন্ত পারফরমেন্সে যদি হিটম্যান রোহিত শর্মার নাম প্রথমে আসে তবে দুই নম্বর নামটি যশপ্রীত বুমরাহের৷তাঁর অনবদ্য বোলিং,ডেথ ওভারের মারনাস্ত্র ইয়র্কারে ঘায়েল হয়েছেন বিশ্বের বাঘা-বাঘা ব্যাটসম্যানেরা৷আফগানিস্থানের বিরুদ্ধে ম্যাচ চেঞ্জিং বোলিং করেছেন,প্রয়োজনীয় সময়ে দেশকে এনে দিয়েছেন উইকেট,বাংলাদেশের দৌড় থামিয়ে দিয়েছেন তাঁর বিষাক্ত ইয়র্কারে৷
এক্সপ্রেস গতি,অনবদ্য লাইন লেংথ,স্লোয়ার,ইয়র্কার থেকে দুদিকে বলকে স্যুইং করানোর ক্ষমতা ধরেন ভারতীয় ফাস্ট বোলার যশপ্রীত বুমরাহ৷সত্যি কথা বলতে কি বুমরাহের দশ ওভার ম্যাচের ফারাক গড়ে দিচ্ছে৷সব ম্যাচেই অনবদ্য বোলিং করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন তিনি বিশ্বের পয়লা নম্বর বোলার৷ ম্যাজিক দেখাচ্ছেন হিটম্যান৷ এক বিশ্বকাপে পাঁচটা সেঞ্চুরি,দুটি অর্ধশতরান৷ ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টানা তিনটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে রোহিত বিপক্ষের বোলারদের রাতের ঘুম দুঃস্বপ্ন৷এই ভারতীয় দলটি গ্রুপ পর্বে এত দাপট দেখিয়েছে দুজন ক্রিকেটারের উপর ভর করে৷প্রথম জন যদি হন হিটম্যান রোহিত শর্মা,অন্যজন অবশ্যই বুমবুম বুমরাহ৷অধিনায়ক কোহলি একটিও সেঞ্চুরি না পেলেও ব্যাটিং করেছেন নিজের ছন্দে,হার্দিক পান্ডিয়া বুঝিয়েছেন কেন তিনি ম্যাচ উইনিং অলরাউন্ডার৷
 ভারতের দাপট নিশ্চয়ই নিউজিল্যান্ড অধিনায়ককে চিন্তায় রাখবে৷ ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন ইংল্যান্ড ম্যাচকে বাদ দিলে ভারত খেলছে চ্যাম্পিয়নের মত,বিশ্বকাপে ভারতীয় দল ছুটছে যেন এক্সপ্রেসওয়ে ধরে,টপ গ্রীয়ারে,উল্টোদিকে নিউজিল্যান্ড দলটা ভাল শুরু করেও শেষের দিকে পয়েন্টের তালিকায় পিছিয়ে পড়ে৷ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা ঠিক এই জায়গাটি চিহ্নিত করেছেন৷তাদের মতে সেই দলটি অপেক্ষাকৃত ভাল যারা লাগাতার জিততে পারে,পারফরমেন্সের গ্রাফের ধারাবাহিকতা আছে৷ তবে কিউয়ি বোলাররাও অনবদ্য বল করেছেন বিশ্বকাপে৷ লকি ফাগুর্সন ও ট্রেন্ট বোল্টের মিলিত সংগ্রহ ৩২টি উইকেট। ম্যাট হেনরি পেয়েছেন ১০টি উইকেট। অলরাউন্ডার জিমি নীশাম ও কম যান না,তিনি পেয়েছেন ১১টি উইকেট।
এরপরেও তাঁদের অলরাউন্ডার কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমে পাঁচটি উইকেট সংগ্রহ করেছেন৷সব মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে কিউয়ি পেসাররা যতেষ্ট সফল৷তবে সেমিফাইনাল অন্য ম্যাচ,নতুন দিন৷আবার নতুন করে শুরু করতে হবে ভারত-নিউজিল্যান্ডকে৷এর আগে নিউজিল্যান্ড ৮বার সেমিফাইনালে উঠলেও মাত্র একবারই ফাইনালে উঠেছে৷উল্টোদিকে ভারত দুবার বিশ্বকাপ জিতেছে,একবার ফাইনালে রানার্স আপ৷অর্থাৎ বড় ম্যাচ জেতার ব্যাপারে কিউয়িদের থেকে এগিয়ে ভারত৷ক্রিকেট মহান অনিশ্চয়তার খেলা৷তবুও বলতে হয় সেমিফাইনাল থেকে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এগিয়ে ভারত৷
DESCRIPTION OF IMAGE
Loading...

No comments

Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.