মমতাময়ী সরকার, সরকারি কর্মীদের ঘেউ ঘেউ এবং কিছু প্রশ্ন! #Editorial

অর্ক সানা, সম্পাদক(নজরবন্দি): রাজ্য সরকারি কর্মীরা খুশির খবর পেয়েছেন গতকাল। বকেয়া ডিএ-র দাবিতে আদালতে মামলা করা রাজ্য সরকারি কর্মীদের জয় হয়েছে। দেশের  ক্রেতা মূল্যসূচক বা সিপিআই এর উপর ভিত্তি করে এ রাজ্যের সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা দিতে নির্দেশ দিয়েছে স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল বকলমে স্যাট। শুধু তাই নয় স্যাট জানিয়েছে, কত ডিএ বকেয়া, নির্ধারণ করতে হবে ৩ মাসের মধ্যে আর দিতে হবে ৬ মাসের মধ্যে!
ষষ্ঠ বেতন কমিশন চালু করার আগে পর্যন্ত দিয়ে দিতে হবে বকেয়া  যা মেটাতে হবে ১ বছরের মধ্যে! ষষ্ঠ বেতন কমিশন চালু হওয়ার পর বছরে দুবার ডিএ দিতে হবে!  অন্যদিকে 'নেই' রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী রায় বেরনোর পরেই জানিয়েছেন "আমার পক্ষে আর দেওয়া সম্ভব নয় এখন। তোমরা সবসময়ই এই দাও, ওই দাও করছ। সবটাই সরকার যেন বিনা পয়সায় করে দেবে।" মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, " সরকার ট্যাক্স বাড়াবে না। বিদ্যুতের দামও বাড়াবে না। বিনা পয়সায় চিকিৎসা করাবে। বিনা পয়সায় শিক্ষার ব্যবস্থা করবে। ২ টাকা কেজি দরে চাল দেবে। জলের ব্যবস্থা করবে। এত টাকা কোথা থেকে আসবে? সরকারটা চলবে কোথা থেকে?"
কিন্তু এখানেই বাদ সেধেছে তারই দলের সরকারি কর্মী সংগঠন! তৃণমূল প্রভাবিত সরকারি কর্মচারি ফেডারেশনের মেন্টর গ্রুপের নেতা মনোজ চক্রবর্তীর মন্তব্য, "আদালতের রায় সকলকেই মানতে হয়। আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি, ডিএ নিয়ে স্থায়ী নির্দেশনামা হোক। এখনও সেই দাবিই করছি।"

এতো গেল খবর! এবার আসা যাক মুখ্যমন্ত্রীর কথায়। মুখ্যমন্ত্রী মাঝে মধ্যেই বলে থাকেন সিপিএমের করা ধার তাঁরা শোধ করছেন, তাই টাকা নেই। কেউ কিছু দাবি করলেই সবসময় একটা উত্তর কমবেশি কমন থাকে তা হল টাকা নেই! কিন্তু তাঁর এই টাকা নেই শব্দবন্ধনী ঘিরে বেশ কিছু প্রশ্ন জন্মায়...
১) সিপিএম বা বামফ্রন্ট তথা কংগ্রেসের সরকার রাজ্যে ৬৪ বছরে যা ধার করেছিল তৃণমূল সরকার গত ৮ বছরেই তার থেকে বেশি ধার করেছে কেন?
২) টাকা যখন নেই তখন রাজ্যবাসীর করের কোটি কোটি টাকা ক্লাব গুলোকে বিলি করা কেন? মুখ্যমন্ত্রী কি জানেননা ক্লাব গুলো যা টাকা পায় সেই টাকার ১% টাকাও সমাজ বা খেলাধুলার কাজে না লাগিয়ে 'মোচ্ছব' করে আর ভাগ করে পকেট ভরায় ক্লাবের মাথা থেকে লেজ সবাই। রাজ্যের সব ক্লাব যারা সরকারি টাকা পেয়েছে তাঁরা কি করেছে তা নিয়ে তদন্ত হোক, প্রকাশ্যে আনা হোক সাধারণ মানুষের করের টাকার হিসেব।
৩) টাকা যখন নেই তখন নিজের, নিজের মন্ত্রীদের আর রাজ্যের বিধায়কদের এত টাকা ভাতা বাড়িয়ে দিলেন কেন? টাকা আসছে কোথা থেকে?
৪) টাকা যখন নেই তখন দলের নেতাদের সরকারি টাকা খরচ করে এত সিকিওরিটি দেওয়ার কি দরকার। বিমান বসুর মত নেতা যার এক ডাকে ব্রিগেডে ১০ লাখ লোক হয় তাঁর সিকিওরিটি লাগেনা কিন্তু অনুব্রত মন্ডলের লাগে কেন?
৫) মন্ত্রীরা সরকারি টাকায় এত দামি গাড়ি কেন চাপছে? স্কুল ভ্যানের মত পুলকার সিস্টেম করলেই তো অনেক টাকা বেঁচে যায়।
৬) এত এত টাকা সরকারি বিজ্ঞাপনের নামে খরচ করে প্রায় প্রতিদিন নিজের মুখের বিজ্ঞাপন করা কেন? সাদাকালো ছোট খাটো বিজ্ঞাপন দিলে তো অনেক টাকা বাঁচে।
৭) কিছুদিন ছাড়া ছাড়াই রাজ্যজুড়ে রাস্তার পাশের ডিভাইডার, ফ্লাইওভার নীল সাদা রঙ করা হচ্ছে কেন? রঙ করার নিয়ম আগের রঙ ঘষে তুলে দেওয়া। সেটা না করে ধুলো পড়ে গেলেই তা পরিষ্কার না করে রঙ চড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে কেন?
৮) ফি বছর বিজনেস সামিট করতে রাজকোষের কোটি কোটি টাকা খরচ হয়, কটা শিল্প এসেছে? ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের নামে এত টাকা খরচ করা হয় কেন...
৯) চিটফান্ড মামলার সিবিআই তদন্ত আটকাটে সরকারি কোষাগারের কোটি কোটি টাকা খরচ করে মামলা লড়া কেন? সরকার কি চিটফান্ডের টাকা লুট করেছিল?
১০) সবুজসাথী সাইকেল দেওয়ার নামে হাজার হাজার সাইকেল পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে! সাইকেল দিতে যত না খরচ হয়েছে তাঁর থেকে বোধ হয় এই প্রকল্পের বিজ্ঞাপন দিতে বেশি খরচ হয়েছে।কেন?

একটা কথা অকপটে বলা চলে রাজ্যের মন্ত্রীরা এতটাই _পদার্থ! যে সরকারি কর্মী ছাড়া রাজ্যটাই চলবে না। তাই তাঁদের বেলায় কাট ছাঁট না করাই বাঞ্ছনীয়! বাকি সরকার বুঝবে। যারা পড়ছেন হয়ত ভাবছেন আমার এত কিছু লেখার কি দরকার! প্রশ্ন করে লাভ কি?
উত্তর, আমার আর কাজ কি! ভোট দিই আর লিখে ফেলি!
DESCRIPTION OF IMAGE
Loading...

No comments

Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.