নয়া বিজ্ঞপ্তিতে কিছুটা স্বস্তি। শিক্ষকদের সুখবর দিয়ে ক্ষততে প্রলেপ রাজ্যের!

নজরবন্দি ব্যুরোঃ সম্প্রতি ঘটে যাওয়া লোকসভা নির্বাচনে যথেষ্ট ব্যাকফুটে রাজ্যের শাসক দল। ৪২টির মধ্যে ২২টি আসনে জয় পেলেও বিজেপি ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলে পেয়েছে ১৮টি আসন। তাঁর ওপর রাজ্যের ৪২টি আসনের ৪১টি আসনেই সরকারি কর্মী, শিক্ষকদের ভোটে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছে শাসককে।

এই অবস্থায় রাজ্য সরকারের ঘুম উড়িয়ে কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন রাজ্যের সর্বস্তরের শিক্ষকরা। কদিন আগেই যোগ্যতা অনুযায়ী বেতনের দাবীতে ১৪ দিন অনশন করে প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন UUPTWA বুঝিয়ে দিয়েছে নিজেদের দাবি আদায়ের স্বপক্ষে তাঁরা আন্দোলনকে কতদূর সম্প্রসারিত করতে পারেন।
আরও পড়ুনঃ দেশদ্রোহী মমতা, বিজেপি-র পায়ে ধরবে অথচ লোকে জানবে না! বিস্ফোরক মুকুল।
 যদিও টানা ১৪দিন অনশনের পরে ভেঙেও মচকায়নি সরকার। কিছুটা দাবি মিটলেও বেশিরভাগ দাবিই মেটেনি প্রাথমিক শিক্ষকদের।
অন্যদিকে মহার্ঘ্য ভাতা, বেতন কমিশন নিয়েও সরকারি কর্মীদের মধ্যে রয়েছে চরম ক্ষোভ, যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ মাঝেমধ্যেই বেরিয়ে পড়ছে।
তাই এবার সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কিছুটা ক্ষতয় প্রলেপ বোলানোর চেষ্টা করল রাজ্যের শিক্ষা দফতর। সম্প্রতি স্কুল শিক্ষা দফতর শিক্ষকদের বদলি প্রসঙ্গে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। যেখানে বলা হয়েছে এখন থেকে বদলির আবেদনের ফি মুকুব করছে রাজ্য সরকার। এতদিন বদলির আবেদন করতে গেলে ২০০০ টাকা লাগত যা এখন থেকে আর লাগবে না। এই সিদ্ধান্তে কিছুটা আনন্দিত শিক্ষক মহল।
উল্লেখ্য, প্রাথমিকে শিক্ষকদের ট্রান্সফার ইস্যুটি জ্বলন্ত সমস্যা। বিশেষ করে জেলা ভাগের পর বর্ধমানের একটা বড়ো অংশ ট্রান্সফারের ব্যাপারে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে একাধিকবার। কিন্তু এবার যে অভিযোগ সামনে এল তা বিস্ফোরক! নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষকের অভিযোগ "চেয়ারম্যান ট্রান্সফারের অ্যাপ্লিকেশন জমা নেন না, বলেন ট্রান্সফার বন্ধ আছে অথচ প্রতি ১৫ দিন অন্তর দেখি ২-৩ জন করে ঠিক ট্রান্সফার পেয়ে যাচ্ছেন।
চেয়ারম্যান নিজেই তাদের RELEASE দিচ্ছেন অথচ তিনি নাকি কিছুই জানেন না!" নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকের অভিযোগ, তিনি বিভিন্ন সূত্র মারফত জানতে পেরেছেন এই অনৈতিক ট্রান্সফারের মূলে রয়েছে টাকার খেলা! টাকার অঙ্ক নাকি কমপক্ষে ১ লাখ টাকা। ক্ষোভের সাথে শিক্ষক অভিযোগ করেছেন "এখনও শিক্ষকদের অনেকেই টাকা দিয়ে রেখেছেন শোনা যায়! সেই শিক্ষকদের নাকি কোনদিনই কোনও আন্দোলনে পাওয়া যায় না, যদি ট্রান্সফারটা আটকে যায়! নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকের দাবি, "টাকার বিনিময়ে ট্রান্সফার যেন আমাদের জেলার মিথ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবার মুখেই কুলুপ।
DPSC ও বিকাশ ভবনের চক্কর কাটতে কাটতে অনেকেই অসহায় আত্মসমর্পণ করছেন দালালদের কাছে যদিও সেটা যে জেনুইন হবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। DPSC ও বিকাশ ভবন এই ব্যাপারে ট্রান্সফার প্রার্থীদেরও চরমভাবে হয়রান করে। এ বলে আমি জানিনা ওখানে যান, ওখানে বলে সেখানে যান। মাঝখানে পড়ে নষ্ট হচ্ছে অসংখ্য জীবন, অসংখ্য পরিবার। ট্রান্সফার প্রার্থী দের জীবনের মূল্যবান সময় ও সম্পর্কগুলিতে চলে আসছে তিক্ততা। যদি কারো না হতো তাহলে ব্যাপারটা এতটা খারাপ লাগতো না কিন্তু যখনই বিক্ষিপ্ত ভাবে কিছু জন ট্রান্সফার পাচ্ছেন অথচ চরম সংকট জনক অবস্থায় যারা পড়ে রয়েছেন-তারা পাচ্ছেন না তখনই মন ও শরীর ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে।" নজরবন্দি-র পক্ষ থেকে এই অভিযোগের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করা হচ্ছে প্রশাসনের কাছে, আমরা চাই সত্য উজাগর হোক।
Loading...

No comments

Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.