Header Ads

প্রাথমিক শিক্ষকরা মাসে ১৮৬ কোটি দান করেন রাজ্যের উন্নয়নে! স্বীকার করুন, চিঠি শিক্ষামন্ত্রীকে।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ গত মাসেই প্রাথমিক শিক্ষকদের অনশন আন্দোলন ঝড় তুলেছিল রাজ্যে। ১৪ দিন অনশনের শেষে শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা আজও শিক্ষকদের কাছে ধোঁয়াশা পূর্ণ। সেই প্রসঙ্গেই খোলা চিঠিতে শিক্ষামন্ত্রীকে নতুন ঘোষণা করার দাবি জানালেন এক আন্দোলনকারী শিক্ষক।
তিনি যা লিখেছে তা অসম্পাদিত ভাবে দেওয়া হল,
 মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গ সরকার,
বিষয়ঃ প্রাথমিক শিক্ষকদের ন্যায্য বেতন ও উন্নয়ন।
 মহাশয়,
আমরা পশ্চিমবঙ্গের বঞ্চিত প্রাথমিক শিক্ষকদের ন্যায্য বেতন দাবি করে দীর্ঘদিন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আন্দোলন করছি একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের ছাতার তালায়। জাতি,ধর্ম, বর্ণ দূরে সরিয়ে রাজনৈতিক মতাদর্শের উর্দ্ধে উঠে পেশাগত ন্যায্য অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করতে আমাদের সংগঠিত আন্দোলন চলছে এবং যতদিন পর্যন্ত না ন্যায্য অধিকার (বেতন কাঠামো) সুপ্রতিষ্ঠিত হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত এ লড়াই জারি থাকবে। মূলত আমাদের দাবিটা হল NCTE নির্ধারিত যোগ্যতায় যখন নূতন নিয়োগ হচ্ছে এবং পূরনো শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক ভাবে NCTE নির্ধারিত যোগ্যতায় মানে উন্নীত করা হয়েছে, তাহলে আমাদের NCTE নির্ধারিত বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন দিতে হবে। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে ২৪টি রাজ্য NCTE নির্ধারিত বেতন কাঠামো মেনে নিলেও, পশ্চিমবঙ্গের সরকার মানবে না কেন?
বিগত দেড় বৎসর ধরে পথের আন্দোলনে দিশেহারা হয়ে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়, পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক শিক্ষকদের সম্পর্কে একাধিক বাক্য বা শব্দ প্রয়োগ করেছেন যেটা শিক্ষকদের পক্ষে অত্যন্ত অপমানকর ও দুর্ভাগ্যজনক। যদিও পরবর্তীতে অনেক‌ ক্ষেত্রে পুণরায় ঢোক গিলতে হয়েছে। অতি সম্প্রতি অনশন আন্দোলন কর্মসূচি চলাকালীন এই অরাজনৈতিক সংগঠন ও শিক্ষকদের সম্পর্কে অনেক ভুল শব্দচয়ন করেছেন। সর্বোপরি মহামান্য মন্ত্রী স্যারের মন্তব্য হল - রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ। আর উন্নয়নকে ব্যহত বা বন্ধ করে বেতন বৃদ্ধি নয়। ধন্যবাদ মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কে উন্নয়ন বন্ধ না করে বেতন বৃদ্ধি করা সম্ভব নয় এই মন্তব্য করার জন্য। মন্ত্রী মশাই উন্নয়ন বন্ধ করে বেতন বৃদ্ধি করার কথা আমরা এক বারের জন্য বলিনি। আমরা বলেছি ন্যায্য বেতন বা যোগ্যতা অনুযায়ী সর্বভারতীয় বেতনক্রম।
সর্বোপরি ২০০৯ সাল থেকে বাংলার ১৮৬০০০(প্রায়) প্রাথমিক শিক্ষক তাদের ন্যায্য সাম্মানিক প্রতিমাসে ১০০০০ - ১৫০০০ টাকা কম পাচ্ছে বা সরকার কম দিচ্ছে। অর্থাৎ প্রাথমিক শিক্ষকদের থেকে প্রতিমাসে সরকার কমপক্ষে ১৮৬০০০ × ১০০০০ = ১৮৬ ০০০০০০০ টাকা বা ১৮৬ কোটি টাকা প্রতি মাসে বা ১৮৬ ×১২ = ২২৩২ কোটি টাকা বৎসরে বা বিগত দশ বছরে ২২৩২ × ১০ = ২২,৩২০ কোটি টাকা সরকারি উন্নয়ন তহবিলে দান করেছেন বা সরকার বাধ্যতামূলক নিয়েছেন। এখানে উল্লেখ্য যে এটা নূন্যতম , প্রকৃত অর্থে আরো অনেক বেশি। সুতরাং সবুজ সাথী থেকে কন্যাশ্রী সহ একাধিক শ্রী তহবিলের উন্নয়ন প্রকল্প প্রাথমিক শিক্ষকদের ন্যায্য বেতন থেকে নিয়ে হয়েছে এটা সরকার স্বীকার করুন ও ঘোষণা করুন রাজ্যের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রাথমিক শিক্ষকদের থেকে নেওয়া টাকার পরিমাণ। কারন প্রাথমিক শিক্ষকদের ন্যায্য বেতন দেওয়া হয়না এটা সর্বজনবিদিত ও মাননীয় মন্ত্রীও একাধিক বার তা পর্দার আড়ালে স্বীকার করেছেন। অথবা
যেদিন থেকে যোগ্যতা মানের বৃদ্ধি হয়েছে সেদিন থেকে প্রত্যেক শিক্ষককে অনুদান বাবদ কর্তন বলে বিল দেওয়া হোক এবং আগামী যতদিন পর্যন্ত না বেতন বঞ্চনার নিরসন হচ্ছে ততদিন প্রত্যেক মাসে সরকারি তহবিলে অনুদান বাবদ জমা বিল দেওয়া হোক। তাহলে সাধারন মানুষ থেকে সমগ্র সমাজ অন্তত জানবেন করের টাকায় নয়, প্রাথমিক শিক্ষকদের অনুদানের টাকায় রাজ্যের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে। আর আমরা প্রাথমিক শিক্ষকরা অন্তত এটা ভেবেই শান্তি পাবো যে আমরা শুধু জাতির মেরুদণ্ড নয়, রাজ্যের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ও উন্নয়ন রক্ষা করার মূল কারিগর। আমরা প্রাথমিক শিক্ষকরা দেশ ও জাতির উন্নয়নে প্রতিমাসে যে অর্থ প্রদান করি তার স্বীকৃতি দিন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নতুবা ন্যায্য বেতন দিন। যথাযথ সম্মান সহ- সিদ্ধানন্দ পুরকাইত দক্ষিণ ২৪ পরগণা।
Loading...

No comments

Theme images by enjoynz. Powered by Blogger.