পে-কমিশন, ডিএ; "মুখ্যমন্ত্রীর সভায় যাওয়া মানে অন্য সরকারি কর্মীদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা"

নজরবন্দি ব্যুরোঃ মহার্ঘ্য ভাতা আর পে কমিশন নিয়ে রাজ্য সরকারের প্রতি ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে। কেন্দ্রে যেখানে সপ্তম পে কমিশন চলছে রাজ্য সেখানে আটকে আছে পাঁচে! মহার্ঘ্য ভাতাতেও রয়েছে অনেক ফারাক। একুশের মঞ্চে ভাষন দিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইঙ্গিত দেন নতুন বেতন কমিশনের। তিনি জানিয়েদেন পে কমিশনের রিপোর্ট পেলেই সঙ্গে সঙ্গে তা কার্যকর করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। রাজ্য সরকার সাধ্যমত চেষ্টা করবে কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির। অন্যদিকে বকেয়া ডিএ-র দাবিতে আদালতে মামলা করা রাজ্য সরকারি কর্মীদের জয় হয়। দেশের ক্রেতা মূল্যসূচক বা সিপিআই এর উপর ভিত্তি করে এ রাজ্যের সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা দিতে নির্দেশ দেয় স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল বকলমে স্যাট।পাশাপাশি কত ডিএ বকেয়া, নির্ধারণ করতে হবে ৩ মাসের মধ্যে আর দিতে হবে ৬ মাসের মধ্যে!
কিন্তু স্যাটের নির্দেশ পাওয়ার পরেও রাজ্য সরকারের কোন হেলদোল নেই। বরং সূত্র জানাচ্ছে রাজ্যসরকার স্যাটের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথা ভাবছে! যদিও মুখ্যমন্ত্রী আগামী ১৩ই সেপ্টেম্বর নেতাজী ইন্ডোরে তৃণমূল প্রভাবিত সরকারি কর্মী সংগঠনের সভায় যোগ দিয়ে কিছু সুখবর ঘোষণা করবেন বলে জানিয়েছিলেন পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
অন্যদিকে সরকারী কর্মীদের কাছে কনফেডারেশন অফ স্টেট গভমেন্ট এমপ্লয়িজের পক্ষ  সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় আবেদন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় না অংশ নিতে।
মলয় মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সরকার এতটাই উদাসীন ২৬শে জুলাই থেকে এতদিন হয়ে যাওয়ার পরেও রায়ের সার্টিফায়েড কপিটাই তোলেনি!  মহামান্য রাজ্য ট্রাইবুনাল, 'ডিএ মামলা'র রায় প্রেক্ষিত, মাননীয় মুখ্য সচিব মহাশয়কে যে নির্দেশ (২৬|০|০৭|১৯) দিয়েছেন তা আমাদের কর্মচারী বন্ধুদেরকে আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। ১] AICPI অর্থাত ক্রেতা মূল্য সূচক অনুসারে বছরে দু কিস্তি মহার্ঘভাতা রাজ্য কর্মীদের দিতে হবে। ২] ৫ম বেতন কমিশনের বকেয়া (২০০৯ সালের ১ লা জুলাই থেকে ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৬) মহার্ঘভাতা সরকার কি ভাবে মেটাবে তা (প্রকাশিত রায় থেকে) তিন মাসের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দিতে হবে এবং তা ৬ মাসের মধ্যে সরকারকে মিটিয়ে দিতে হবে। ৩] ষষ্ঠ বেতন কমিশন লাগু হওয়ার আগেই ৫ম বেতন কমিশনের সব বকেয়া মিটিয়ে দিতে হবে। ৪] তবে, ষষ্ঠ বেতন কমিশন লাগু হওয়ার ১ বছরের মধ্যে বা ৬ মাস। এই দুই'এর মধ্যে, যেটা কম সময় সেই নির্দেশ মেনেই বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার সুযোগ পাবে। ৫] দিল্লি/চেন্নাই-এ কর্মরত এই রাজ্যের কর্মীদের AICPI অর্থাত ক্রেতা মূল্য সূচক অনুযায়ী ডিএ দেওয়াকে চুরান্ত বৈশম্য বলে ভর্ৎসনা করে, বিগত দিনের প্রদান করা ডিএ যে আর ফিরিয়ে নেওয়া যাবে না, তাও রায়ে উল্লেখ করেছেন। বলা হয়েছে। সরকার মনে করলে তাদের অন্য কোনও ভাতা সরকার দিতে পারেন। সেটাও ওই রায়ে উল্লেখ করেছেন।
উল্লেখিত "ডিএ মামলা"র রায়,কর্মচারিদের কাছে এক ঐতিহাসিক রায়। এই মামলার রায়কে সরকার যদি বিন্দুমাত্র অবহেলিত করেন বা রায়'কে অমান্য করে, পে-কমিশন বা ডিএ নিয়ে ব্যতিক্রমী কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। আমরা কনফেডারেশন অব স্টেট গভঃ এমপ্লয়িজ (আইএনটিইউসি) তৎখনাত রাজ্য ট্রাইবুনালে দৌড়ে গিয়ে নালিশ জানাব। কর্মচারী বন্ধুরা, আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকুন। আমাদের কোনও উদ্বিগ্ন হওয়ার কারন নেই। কারণ মহামান্য আদালত নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারকে ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এখন থেকে বছরে দু'কিস্তি ডিএ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই এখন আর কর্মচারিদের নয়, এখন সরকারের মাথাব্যাথা। এমতাবস্থায়, বন্ধুরা আপনারা যদি শাসক দলের কর্মচারী সংগঠনের নির্দেশ মেনে, সরকারের হাত শক্ত করতে ১৩|০৯|১৯ নেতাজী ইনডোর স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন, তবে তা হবে সমগ্র কর্মচারী সমাজের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা। যা ইতিহাসের পাতায়ও লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে।
Loading...

No comments

Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.