Header Ads

অব্যাহত বঞ্চনা, প্রাথমিকে ন্যায্য বেতনের দাবীতে আবার আন্দোলনে উস্থি! #Exclusive

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ১৪ দিন অনশন আর ১৫ দিন ধর্নার সামান্য ফল মিলেছিল! যোগ্যতা অনুযায়ী বেতনের দাবি না পূরণ হলেও সরকার ঘোষণা করেছিল গ্রেড পে বাড়ার।কিন্তু তারপর? কতটা বাড়ল বেতন! তাঁর সঠিক চালচিত্র সামনে আসেনি। কতটা খুশি শিক্ষক মহল সে খবরও শিরোনামে আসেনি। সময়ের ধুলোয় কার্যত চাপা পড়ে গিয়েছে উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাশোসিয়েশনের ব্যানারে প্রাথমিক শিক্ষকদের বঞ্চনার বিরুদ্ধে আন্দোলন।

উল্লেখ্য, অরাজনৈতিক শিক্ষক সংগঠন উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারী টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোশিয়েশন যোগ্যতা অনুযায়ী বেতন এবং অনৈতিক ভাবে ট্রান্সফার করে দেওয়া ১৪ জন শিক্ষককে পুনরায় নিজের নিজের জেলায় ফিরিয়ে আনার দাবীতে অনশন করেছিল। অনশনের ১৩ তম দিনে দলীয় শিক্ষক সংগঠনের সভায় বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। যদিও সেখানে তিনি ডাকেননি অনশনকারী শিক্ষক সংগঠনকে। সেই সভা থেকে বেতন কাঠামো সংশোধনের কথা জানিয়েদেন তিনি।গত ২৬শে জুলাই তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পরের দিনই বেতন বৃদ্ধির নির্দেশিকা জারি করে শিক্ষা দফতর। প্রশিক্ষিত প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড-পে ২৬০০ থেকে বেড়ে হয়েছিল ৩৬০০ টাকা।
আর অপ্রশিক্ষিত প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড-পে ২৩০০ থেকে বেড়ে হয়েছিল ২৯০০ টাকা। তবে গ্রেড পে বৃদ্ধি ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষকদের পে-ফিক্সেশন নিয়ে কোন কিছু স্পষ্ট করে বলা ছিল না ওই নির্দেশিকায়। স্বাভাবিকভাবেই বেতন বাড়ার পরে পে-ফিক্সেশন কী হবে তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছিল। যা নিয়ে এখনও রয়েছে ধোঁয়াশা।  পশ্চিমবঙ্গের নবনিযুক্ত রাজ্যপাল শ্রী জগদীপ ধনখড় রাজ্য সরকার কে কটাক্ষ করেন বেতন বৈষম্য ইস্যুতে। তিনি মন্তব্য করেন, "আমাদের হৃদয় ব্যথিত হবে, যদি আমাদের শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়, আমাদের শিক্ষকদের একসঙ্গে সঠিক বেতনের জন্য কাঁদতে হয় এটা হওয়া উচিত নয়।" এই অবস্থায় উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোশিয়েসন তাঁদের রাজ্য কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আবার বঞ্চনার বিরুদ্ধে সরব হবে তাঁরা। উস্থির রাজ্য সম্পাদিকা পৃথা বিশ্বাস এবং রাজ্য সম্পাদক সন্দীপ ঘোষ জানিয়েছেন,  "আবার রাস্তার আন্দোলনে নামতে হচ্ছে উস্থিকে। কারন, গত ২৬ শে জুলাই পোনের দিনের টানা অনশনের পর সরকার দু লাইনের একটি G.O বের করে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন pb2 থেকে pb3 তে বর্ধিত করেন। শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলন করে সাংবাদিকদের বলে দিলেন শিক্ষকদের বর্ধিত বেতন দিতে বাড়তি ১১০০ কোটি টাকা খরচ হবে। সাংবাদিক বন্ধুরা ফলাও করে ছাপিয়ে দিলেন প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন সাত থেকে আট হাজার টাকা বেড়ে গেল।
কিন্তু কার্যক্ষেত্রে আমরা কি দেখলাম, প্রাথমিক শিক্ষকদের সঙ্গে প্রবঞ্চনা করা হল। আমরা শিক্ষা দপ্তর, বিভিন্ন জেলার আধিকারিকদের ডেপুটেশন জমা দিলাম প্রমান সমেত আমাদের বেতন সরকারি G.O অনুযায়ী কি হওয়া উচিত। বিকাশ ভবনের শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে একাধিক বার বৈঠক করলাম। ওনারা বললেন আপনাদের fitment factor file নবান্নে গেছে। নবান্ন জানাচ্ছে এরকম কোন ফাইল আমরা পাই নি।
এরপর শিক্ষা দপ্তর জানাচ্ছেন finance approve করছে না। শিক্ষা দপ্তর আর অর্থ দপ্তরের টানাপোড়েনে চার মাসের বেশি হয়ে গেল কিন্তু আমাদের সঠিক বেতনের হদিস পেলাম না। তাই পশ্চিমবঙ্গের সব প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষিকাদের কাছে আবেদন রাখছি, আমরা আগামী ৬ই নভেম্বর দুপুর ১২ টায় যাদবপুর ইউনিভার্সিটির চার নম্বর গেটের বিপরীতে সমবেত হয়ে মহামিছিল আরম্ভ করব। আমাদের একটাই দাবি থাকবে, আমাদের ন্যায্য বেতন দিতে হবে।"
Loading...

No comments

Theme images by enjoynz. Powered by Blogger.