Header Ads

বিয়ের টোপ দিয়ে নাবালিকা পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার এক যুবক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ বিয়ের অভিনয় করে নাবালিকাদের পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার এক যুবক। দিল্লি থেকে এক নাবালিকাকে উদ্ধার করল পুলিশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট থানার হোটর স্টেশনের কাছ থেকে ওই যুবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতের সঙ্গে থাকা আরেক নাবালিকাকে উদ্ধার করে বাড়ি পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে ধৃত রফিকুল পুরকাইত(৩৬) ডায়মন্ড হারবারের বাসুলডাঙার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সেপ্টেম্বরের ৩ তারিখ থেকে নিখোঁজ মগরাহাটের বাসিন্দা একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী। পরিবারের লোকজন কোন খোঁজ না পেয়ে ৭ তারিখে মগরাহাট থানায় নিখোঁজ ডাইরি করান। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে নেমে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশের হাতে উঠে আসে। পুলিশ জানতে পারে ডায়মন্ড হারবারের এক যুবক রফিকুল পুরকাইতের সঙ্গে ছাত্রীর আলাপ হয় ফোনের মাধ্যমে। এরপর একদিন ওই যুবক ভুয়ো কাজী ওফিসে ছাত্রীকে বিয়ে করে দিল্লি নিয়ে চলে যায়। দিল্লির গাজিয়াবাদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে ছাত্রীকে জোর করে আটকে রাখে রফিকুল। মাঝে মধ্যেই ছাত্রীকে বেধড়ক মারধর করত বলে অভিযোগ।
এমনকি ছাত্রীকে দেহ ব্যবসার জন্য চাপ দেওয়া হত বলেও অভিযোগ। মোটা টাকার বিনিময়ে ছাত্রীকে বিক্রির চেষ্টা চালাচ্ছিল রফিকুল। এরমাঝে দিল্লিতে আত্মীয়ের বাড়িতে ছাত্রীকে রেখে ডায়মন্ড হারবার চলে আসে রফিকুল। এরপর এলাকার আরেক নাবালিকা তরুণীকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে এমাসের ১৮ তারিখে বিয়ে করে। সংসার পাতার নাম করে এই নাবালিকাকে পাচারের উদ্দেশ্যে লোকাল ট্রেনে চেপে বসে রফিকুল। সেই সময় রফিকুলের নাগাল পেয়ে যায় তদন্তকারী পুলিশ অফিসরা। আগেই রফিকুলের খোঁজ চালাচ্ছিল পুলিশ। তার ফিরে আসার খবর যায় মগরাহাট থানায়। সাথে সাথেই তৎপর হয়ে ওঠে মগরাহাট থানার পুলিশ। রফিকুল ও নাবালিকার পিছু নিতে শুরু করে। এরপর মগরাহাট থানার পুলিশ হোটর স্টেশনের কাছে রফিকুলকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। গ্রেফতার করা হয় রফিকুলকে। উদ্ধার হওয়া নাবালিকা তরুণীকে বাড়ি পাঠায় পুলিশ। ধৃতকে জেরা করে নিখোঁজ তরুণীর খোঁজ পাওয়া যায়।
 তৎক্ষনাৎ দিল্লির গাজিয়াবাদের উদ্দেশ্যে রওনাদেন মগরাহাট থানার তদন্তকারী অফিসার অংশুপতি মালাকার ও এসআই শীর্ষেন্দু ব্যানার্জির নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী। দিল্লি পুলিশের সহযোগিতায় গাজিয়াবাদের শাহিবাবাদ থানার শালিমার গার্ডেন থেকে উদ্ধার করা হয় মগরাহাটের নিখোঁজ ছাত্রীকে। ফিরিয়ে আনা হয় তাকে। শনিবার ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতে ছাত্রী গোপন জবানবন্দি দেয়। এদিনই মগরাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিককে সঙ্গে নিয়ে ডায়মন্ড হারবারের এসডিপিও শ্যামল কুমার মন্ডল সাংবাদিক সম্মেলন করে পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন।
Loading...

No comments

Theme images by lishenjun. Powered by Blogger.