Header Ads

TGT বেতনক্রম ও CAS সুবিধার দাবিতে ডেপুটেশন BGTA-র।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ আজ উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাকপুর মহকুমার অন্তর্গত সরকার পোষিত বিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েট  শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ সর্বভারতীয় স্তরে প্রচলিত  টিজিটি ( Trained Graduate Teacher ) বেতনক্রম এবং Career Advancement Scheme এর দাবিতে  ‘বৃহত্তর গ্রাজুয়েট টিচার্স আসোসিয়েশন’ (BGTA) উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কমিটির পক্ষ থেকে বারাকপুর D.I.এর নিকট ডেপুটেশন করে দাবি পত্র তুলে দেওয়া হয়। তাদের দাবি গ্রাজুয়েট স্কেলের বেতন বঞ্চনার প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে BGTA এর করা মামলার  রায়কে মান‍্যতা দিয়ে সর্বভারতীয় স্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১ লা জানুয়ারী, ২০০৬ থেকে গ্রেড পে ৪৬০০ টাকা সহ ১৩(a) স্কেল দিতে হবে। সেই সঙ্গে রাজ্যের সরকারি বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের সঙ্গে সমহারে ৩ বার CAS এর সুবিধা দিতে হবে। কেন্দ্র থেকে রাজ্য সব ক্ষেত্রেই NCTE র নিয়মে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়, তাই বেতন কাঠামোর ক্ষেত্রেও সামঞ্জস্য থাকাটা ন‍্যয়সংগত। সভায় উপস্থিত জেলা কমিটির সভাপতি সুকৃতি মাইতি বলেন , “পশ্চিম বঙ্গে সরকার পোষিত/সাহায্য প্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলিতে নিযুক্ত স্নাতক  শিক্ষক-শিক্ষিকাগন বিগত দুই দশকেরও অধিক কাল যাবৎ সর্বভারতীয় স্তরে প্রচলিত স্নাতক-শিক্ষক বেতনক্রম থেকে বঞ্চিত। পশ্চিম বঙ্গে রাজ্য শিক্ষা দপ্তর প্রনীত রোপা রুলস্ ২০০৯ এ স্নাতক শিক্ষকদের বেতনক্রম ধার্য্য করা হয় : ৭১০০---৩৭৬০০ টাকা, গ্রেড পে- ৪১০০ টাকা এবং পে ফিক্সেশন করে প্রারম্ভিক মূল বেতন হয় ১২৭৫০ টাকা। আর স্নাতকোত্তর শিক্ষক- বেতনক্রম ধার্য্য করা হয় ৯০০০---৪০৫০০ টাকা, গ্রেড পে ৪৮০০ টাকা এবং পে ফিক্সেশন করে প্রারম্ভিক মূল বেতন হয় ১৫৯৬০ টাকা। উভয়ের প্রারম্ভিক মূল বেতনের পার্থক্য দাড়ায় ৩২১০ টাকা। ঐ একই সময়কালে  সর্বভারতীয় স্তরে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষকদের অভিন্ন বেতন কাঠামো দেওয়া হয়:- ৯৩০০-৩৪৮০০ টাকা, এবং স্নাতকোত্তর শিক্ষকদের গ্রেড পে হয় ৪৮০০ টাকা আর স্নাতক শিক্ষকদের গ্রেড পে হয়- ৪৬০০ টাকা। উভয়ের প্রারম্ভিক মূল বেতনের পার্থক্য দাঁড়ায় ১৮১৫০-১৭১৪০=১০১০ টাকা ( যেটা পঃবঙ্গে ৩২১০ টাকা )। এক্ষেত্রে লক্ষণীয় এই যে পশ্চিম বঙ্গের শিক্ষা দপ্তর স্নাতকোত্তর শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সর্বভারতীয় স্তরের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে বেতন কাঠামো (৯০০০-৪০৫০০ টাকা) তৈরি করে তাদের গ্রেড পে ধার্য করেন ৪৮০০ টাকা যা সর্বভারতীয় স্তরে ৪৮০০ টাকাই। দুর্ভাগ্যজনকভাবে পঃ বঙ্গে স্নাতক শিক্ষকদের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক ভাবে নিম্নতর বেতনক্রম (৭১০০----৩৭৬০০) গ্রেড পে ধার্য্য করা হয় ৪১০০ টাকা। উল্লেখ্য সর্বভারতীয় স্তরের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে পশ্চিমবঙ্গে রোপা রুলস্ ২০০৯ এ স্নাতক শিক্ষকদের 13(a ) স্কেল হওয়া উচিত ছিল যার প্রারম্ভিক মূল বেতন হওয়া  (Band Pay +GP ১০২৮০+৪৬০০) মিলে ১৪৮৮০ টাকা। ডেপুটেশনে উপস্থিত জেলা কমিটির সম্পাদক দ্বীপ্ত কুমার লস্কর বলেন “সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে কর্মরত স্নাতক শিক্ষকদের সমগ্র কর্মজীবনে তিন বার (৮, ১৬ এবং ২৫ বছরে) ক্যারিয়ার অ্যাডভান্সমেন্টের সুবিধা (CAS) প্রদানের মাধ্যমে উচ্চতর বেতনক্রমে উন্নীত করা হয়। আর সরকার পোষিত/সাহায্য প্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলিতে কর্মরত স্নাতক শিক্ষকদের ঐ সুবিধা সমগ্র কর্মজীবনে মাত্র একবার (১৮ বছরে ) দেওয়া হয়। যার ফলে সরকার পোষিত/সাহায্য প্রাপ্ত বিদ্যালয়ের স্নাতক শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ আর্থিক ভাবে  ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।  হাইকোর্ট ইতিমধ্যে দু দশক ধরে চলে আসা বেতন বৈষম্য দূরীকরণের জন্য পে কমিশন ও সরকার পক্ষকে আদেশ দিয়েছেন কিন্তু তার কোনো প্রতিফলন সদ্য প্রকাশিত পে কমিশন রিপোর্ট এ পায়নি।" তাদের আরও দাবি সাম্প্রতিক web based staff pattern এর নামে Normal section এ নিযুক্ত গ্রাজুয়েট শিক্ষকদের upper primary section এ দেখানো হচ্ছে যেটা সম্পূর্ণ অনৈতিক। তাই এ রাজ্যের বঞ্চিত গ্র্যাজুয়েট ক্যাটেগরির শিক্ষকরা নিজেদের ন্যায্য দাবি অর্জনের লক্ষ্যে জোটবদ্ধ হয়েছেন এবং “বৃহত্তর গ্র্যাজুয়েট টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন” এর নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু করেছেন। ডেপুটেশনে উপস্থিত বিজিটিএর *রাজ‍্য সভাপতি ধ্রুব পদ ঘোষাল* জানান "বেতন বঞ্চনার অবসান চেয়ে রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর ও অর্থ দপ্তরে দাবিপত্র দিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি। এই অনৈতিক বেতন কাঠামোর সংশোধন চেয়ে গত ৫ই নভেম্বর আমরা নবান্নে *মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের*  দপ্তরে দাবি পত্র দিয়ে এসেছি কিন্তু এখনও পর্যন্ত নবান্ন থেকে কোনো রকম প্রতিক্রিয়া পাইনি।  এই ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি না মিটলে আগামী দিনে রাজপথে নেমে মিছিল করে বিক্ষোভ দেখানো ছাড়া উপায় থাকবে না। দুঃখের বিষয় এই যে রাজ‍্যের গণতান্ত্রিক সরকারের শাসন বিভাগ বিচার বিভাগের (হাইকোর্টের) নির্দেশকে কার্যকর করতে টালবাহানা করছে। এরকম ঘটলে মানুষ গণতন্ত্রের উপর আস্থা হারাবে।"
Loading...

No comments

Theme images by lishenjun. Powered by Blogger.