Header Ads

করোনা আক্রান্ত জাহাজে বন্দী ডায়মন্ড হারবারের যুবক, প্রশাসনের দ্বারস্থ পরিবার

নজরবন্দি ব্যুরোঃ জাহাজে আঁটকে রয়েছেন যাত্রীরা। জাহাজ ভিড়তে দেওয়া হচ্ছে না বন্দরে। জাহাজের নাবিক থেকে শুরু করে যাত্রীরা উৎকণ্ঠায় প্রহর গুনছেন। কিন্তু কেন তাঁদেরকে নামতে দেওয়া হল না? কারণ একটাই করোনা ভাইরাসের দাপোট। আর এই জাহাজে আঁটকে পড়া মানুষজনের মধ্যে হুহু করে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস। আর এই অবস্থাতেও জাহাজে থাকা যাত্রীরা উৎকণ্ঠায় প্রহর গুনছেন। গত নভেম্বরে কাজে যোগ দিয়েছিলেন সেফ স্বরূপ চাঁপাদার। স্বরূপ দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের রামনগর থানা এলাকার বাসিন্দা। গত ৬ মাস আগে বিয়ে হয়েছিল তাঁর। দেশে স্ত্রী ছাড়াও বাবা মা রয়েছেন। নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন স্বরূপ।
 তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় জাহাজের ছবি তুলে ধরে সাহাজ্যের জন্য আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর কথায় ‘মৃত্যু তাণ্ডব শুরু হয়েছে জাহাজে’। অন্যদিকে রীতিমত আতঙ্কিত হয়ে স্বরূপকে দেশে ফেরানোর আবেদন জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দারস্থ হয়েছেন। বুধবার স্বরূপের পরিবারের লোকজন দেখা করেন স্থানীয় বিডিও এবং ডায়মন্ড হারবারের মহকুমা শাসকের সঙ্গে। প্রশাসনের তরফেও সব রকমের সাহায্য করার কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি ইতিমধ্যেই জেলাশাসককে জানানো হয়েছে। কিভাবে দ্রুত তাঁদের ফিরিয়ে আনা যায় সে বিষয়ে আলাপআলোচনা চলছে। এ প্রসঙ্গে ডায়মন্ড হারবারের মহকুমা শাসক সুকান্ত সাহা বলেন “ আমরা খবর পেয়েছি। পরিবারের লোকজনদের আতঙ্কিত না হওয়ার কথা বলেছি।
 প্রশাসনের তরফে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তাঁকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে।” উল্লেখ্য, জাপানের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল 'ডায়মন্ড প্রিন্সেস’ নামে একটি ক্রুজ শিপ। জাহাজটিতে যাত্রী রয়েছেন ২,৬৬৬ জন। এঁদের মধ্যে ১৬০ জন ভারতীয়। ক্রু মেম্বাররা রয়েছে ১,০৪৫ জন। ৪ ফেব্রুয়ারি জাহাজের মধ্যে এক হংকংয়ের বাসিন্দা করোনায় আক্রান্ত হয়। যাত্রীদের মধ্যে ৫ জন বাঙালি রয়েছেন। আগেই ৬১ জনের দেহে করোনা মিলেছে। কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে তাঁদেরকে। নতুন করে আরও ৩২ জন নোভেল করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ১৫০ জন আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁদের উদ্ধার করতে কোন জাহাজই এগিয়ে আসেনি। জাহাজে নিজেদের কক্ষের মধ্যে আঁটকে রয়েছেন যাত্রীরা। আইসোলেশন ওয়ার্ড না থাকায় কার্যত মৃত্যুর মুখমুখি যাত্রীরা।
Loading...

No comments

Theme images by lishenjun. Powered by Blogger.