রাজ্যে তৈরি হবে নতুন রেকর্ড! তৃণমূলের হাত ধরে ৪২ – ০ হতে চলেছে লোকসভা!! Editorial




অর্ক সানা, সম্পাদক(নজরবন্দি): সবংয়ের পর নোয়াপাড়া এবং উলুবেড়িয়া। তৃণমূল এগিয়ে ছিলই কিন্তু মূল লড়াই হচ্ছিল বিজেপি ও সিপিআইএমের মধ্যে, দ্বিতীয় হওয়ার লড়াই!! আর এই দুই লড়াইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে ব্যাবধানের ফায়দা তুলেছে তৃণমূল। ব্যবধান বাড়াতে বাড়াতে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।

সবং-এ মান রক্ষা করে শেষপর্যন্ত বিজেপিকে হারিয়ে দ্বিতীয় হয়েছিল সিপিআইএম। আর নোয়াপাড়া, উলুবেড়িয়ায় হল উল্টোটা। তৃণমূল নোয়াপাড়ায় জয়ী হল ৬৩ হাজারেরও বেশি ভোটে, উলুবেড়িয়ায় ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার!!
আরও পড়ুন “তৃণমূলের জেনুইন ভোট বড়জোর ২৫-৩০%, বাকিটা লুঠের”- খোঁচা মুকুল রায়ের!
কংগ্রেস কার্যত মুছে গেল দুই জায়গা থেকেই। একটা লোকসভা আসনে মাত্র ২৩০০০ ভোট প্রাপ্তি মানে কংগ্রেসের অস্তিত্ব যে সঙ্কটে তা ধরে নিতে দোষ কোথায়? পাশাপাশি নোয়াপাড়ায় প্রাপ্তি ১০ হাজার ভোট!
অন্যদিকে বিজেপি এবং সিপিআইএম দ্বিতীয় স্থানের জন্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চালিয়ে গেল নোয়াপাড়াতে, উলুবেড়িয়াতে অবশ্য তেমন হাড্ডাহাড্ডি হয়নি। দুটি ক্ষেত্রেই দ্বিতীয় হল বিজেপি। এবার আসাযাক নোয়াপাড়ার কথায়। মুকুল রায় বিজেপি যোগদানের পর রাজ্যে যে তিনটি উপনির্বাচন হল তার সব কটিতেই বেশ ভালো ভোট বেড়েছে বিজেপির। কিন্তু নোয়াপাড়া ছিল মুকুল রায়ের খাসতালুক। সে কারণে সবার আলাদা লক্ষ ছিল ওই আসনে, সবাই ভাবছিলেন বিজেপি অর্থাৎ মুকুল জোর টক্কর দেবে তৃণমূল কে। টক্কর দিল তবে সিপিআইএম কে, দ্বিতীয় স্থানের জন্যে! দ্বিতীয় হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের সঙ্গে বর্তমানে মুকুলের দল বিজেপির ব্যাবধান ৬৩ হাজারেরও বেশি ভোট! বিজেপির ভোট বেড়েছে ১৫ হাজার তাতে কি? বিজেপি প্রার্থী সন্দীপ বাবু বলছেন নৈতিক জয়! এ কেমন নৈতিক জয়? বামেদের সাথে জিতে নৈতিক জয় না ৬৩০০০ ভোটে হেরে নৈতিক জয়? আসলে পরাজয় হল কার? বিজেপির না মুকুল রায়ের!!


দলবদলের পুরধাপুরুষ সুব্রত মুখার্জী কিছুদিন আগে বলেছিলেন “বিজেপির ভোট বাড়লে সুবিধা তৃণমূলের। কারন তৃণমূল থেকে একটা ভোটও কমবে না। বরং বিরোধী ভোট ভাগ হয়ে মার্জীন উত্তোরোত্তর বৃদ্ধি পাবে তৃণমূলের।” মুকুল রায় ফ্যাক্টর কাজ করলে নিশ্চিত ভাবে বিজেপির ভোট বাড়ার পাশাপাশি ভোট কমত তৃণমূলের। কিন্তু তা হল কই?
অন্যদিকে কিছুদিন পরেই রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট, তারপরেই লোকসভা নির্বাচন। যা ট্রেণ্ড তাতে পঞ্চায়েতে বিরোধীরা কিছু জায়গাতে জিতলেও বৃহত ক্ষেত্র লোকসভায় বিরোধী শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। কিন্তু কিভাবে?
দার্জিলিং এর কথায় আসাযাক… দার্জিলিং-এ বিমল গুরুং ফ্যাক্টর ছিলেন এখনো আছেন তা অস্বীকার করা যায়কি? অন্যদিকে বিমল গুরুং কে চাপে রেখে বিনয় তামাং এর ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছেন কৌশলী মমতা। তবে বিমল কে একেবারে খরচের খাতায় ফেলে দেননি তার প্রমাণ সিআইডি চার্জশিট। অমিতাভ মালিকের মৃত্যুর পর এমন হাওয়া উঠেছিল যাতে মনে হচ্ছিল এই বুঝি বিমল গুরুঙ্গের এনকাউন্টার করে দিল পুলিশ। অমিতাভের স্ত্রী বিউটি তো দাবী করেই ছিলেন তাকে কোন এক সিনিয়ার পুলিশ অফিসার কথা দিয়েছেন বিমল কে এনকাউন্টার করা হবে! কিন্তু বাস্তব বলছে এনকাউন্টার তো অনেক দুরের কথা গ্রেফতারই হননি বিমল, সিআইডি চার্জশিট পর্যন্ত দেয়নি। এর পরেও পাহাড়ে ঘাসফুল ফোটার জন্যে জমি তৈরি হয়নি বলবেন কোন নিন্দুকে??

মুর্শিদাবাদ, কংগ্রেস বলা ভাল অধীরের গড় সেই গড়ে ইতিমধ্যেই বেশ বড় ফাটল ধরেছে। সে ফাটল মেরামত করার মত যন্ত্রপাতি কংগ্রেসের আছে কি? মনে তো হয়না। অন্যদিকে একমাত্র প্রতিরোধ হতে পারে মৌসম বেনজির নুরের আসনটিতে। তবে সেখানেও ভোট ভাগের খেলায় জিতে যেতে পারে তৃণমূল। রায়গঞ্জ, সেলিম নিশ্চিত ভাবে ভাল কাজ করেছেন, করছেন। কিন্তু আসন ধরে রাখা মুশকিল তা বলাই বাহুল্য। আবার কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে দীপাই নাকি হতে পারেন তৃণমূলের প্রার্থী! আসানসোল, বাবুল জিতেছিল। কিন্তু আবার জিতবে কি? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কানে কি এতদিনে যায়নি দোলা সেন – মলয় ঘটক দ্বন্দের কথা। নিশ্চিত ভাবেই গেছে।

দলনেত্রী গতকাল কোর কমিটির বৈঠকে খুব নির্দিষ্ট ভাবে বলেছেন “কেউ কারো কাজে নাক গলাবে না”। এই নাক গলানো ব্যাপারটা যদি সত্যিই বন্ধ করে সবাইকে একদল-একপ্রতীক এই দীক্ষায় দীক্ষিত করতে পারেন তাহলে আসানসোলেও তৃণমূলের ফিরে আশা খুব কঠিন নয়। কাজেই দলবদলের পুরোধাপুরুষ তথা পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ সুব্রত বাবুর কথাই যে মিলে যাচ্ছে তা বলাই বাহুল্য।
২০১৯ লোক সভায় এরাজ্য রেকর্ড সৃষ্টি করে তৃণমূল কে ৪২ – ০ তে জেতাতে চলেছে সে সম্ভাবনা ক্রমশ প্রবল হচ্ছে তা বলা খুব একটা অনুচিত হবে কি?
সব শেষে একটা অনুরোধ তৃণমূল নেত্রীকে, ভোট লুঠের অভিযোগ ছাড়া যেন জয় পায় তৃণমূল সেদিকে লক্ষ্য রাখলে ভালো হয়। কারন মানুষের আশীর্বাদ টুকুই কাম্য, লুঠ নয়!! গনতন্ত্রের যেন গনহত্যা না হয়।


Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*