Breaking News

প্রাথমিকে বেতন বৈষম্যের তীব্র প্রতিবাদ এবার মালদা জেলায়। বঞ্চনার কথা মেনে নিলেন DI

নজরবন্দি ব্যুরোঃ বেতন বৈষম্যের প্রতিবাদে এবার গর্জে উঠল মালদা জেলা।
সর্বভারতীয় ও অন্যান্য সব রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের সঙ্গে আমাদের এই রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকদের বিপুল বেতন বৈষম্য নিয়ে গর্জে উঠল সারা মালদা জেলার প্রাথমিক শিক্ষক সমাজ।


UUPTA, মালদা জেলা শাখা এর উদ্যোগে হয়ে গেল বিশাল শিক্ষক সমাবেশ সহ প্রতিবাদী পদযাত্রা ও জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাঃ) মহাশয়ের কাছে স্মারকলিপি প্রদান। প্রশাসনিক রিপোর্ট অনুযায়ী হাজার ঊর্ধ্ব শিক্ষক সমাবেশ হয়েছিল উক্ত সভায়। শিক্ষিকাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতন। দুপুর আড়াইটায় মালদা কলেজ মাঠে শিক্ষকদের বিপুল সমাবেশ হয়।

শিক্ষিকা বর্ণালী ঝা বন্দোপাধ্যায় এর কথায় - "এই বিপুল বঞ্চনা আর মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষকের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে পথে নামা।" জেলা শাখার সহ সভাপতি, রথিন দাসের কথায় - "যেখানে আমাদের পাশের রাজ্য ঝাড়খণ্ডের প্রাথমিক শিক্ষক রা ৩৫ হাজার টাকার বেশী বেতন পাচ্ছে, সেখানে সেই একই যোগ্যতায় নিযুক্ত হয়ে আমরা কেন মাত্র ১৯ হাজার টাকায় চাকুরী করব?"

যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ সরকার বলেন , "এভাবে আর চলতে দেওয়া যায় না। পে কমিশন লাগু হওয়ার আগে আমাদের বেতন কাঠামো সংশোধন না হলে, আমরা সেই পে কমিশন মানছি না।"

এরপর ঠিক বিকেল তিনটের সময় এক প্রতিবাদী মিছিল সংগঠিত হয় প্রায় হাজার ঊর্ধ্ব শিক্ষক শিক্ষিকার উপস্থিতিতে। মিছিল রবীন্দ্র এভিনিউ হয়ে রাজ হোটেলের সামনে দিয়ে ফোয়ারা মোড় হয়ে গিয়ে পৌঁছায় মালদা জেলা শিক্ষা ভবনের সামনে।

এক পুলিশ কর্তার কথায়, "এত মানুষের এইরকম অভূতপূর্ব শান্তিপূর্ণ মিছিল খুব কমই দেখা যায়।"
এরপর বিকেল চারটায়, UUPTA, মালদা জেলা শাখার সভাপতি, মানস গোস্বামীর নেতৃত্বে আট জনের প্রতিনিধি দল মাননীয় ডি আই সাহেবের কাছে গিয়ে ডেপুটেশনের কপি জমা করেন।

মানস গোস্বামী স্পষ্টভাবে ডি আই সাহেব কে বলেন, "উচ্চমাধ্যমিক ও দুই বছরের ডি এল এড যোগ্যতা থাকা স্বত্বেও প্রাথমিক শিক্ষকদের মাধ্যমিক যোগ্যতার বেতন দেওয়া শুধু বঞ্চনাই নয়, অসম্মানজনকও বটে।" তিনি সরকারী বেতন প্রদানকারী ওয়েবসাইট i-OSMS এ শিক্ষকদের ন্যূনতম যোগ্যতা উচ্চমাধ্যমিক থেকে কমিয়ে মাধ্যমিক করে দেওয়ারও তীব্র নিন্দা করেন।

এরপর মাননীয় ডি আই সাহেব এই বঞ্চনার ব্যাপারে সহমত পোষণ করেন ও জানান যে অতিসত্বর তিনি তার ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরে বিষয়টি আনবেন ও ব্যক্তিগতভাবেও ব্যাপারটি তদারকি করে এই বৈষম্য দূর করানোর সদর্থক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
এরপর বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ কর্মসূচীর সমাপ্তি ঘোষণা করেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

No comments