Header Ads

নিজের পরিবার সম্পর্কে স্ট্যালিনের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন ছিল জানেন?

নজরবন্দি ব্যুরোঃ নিজের পরিবার সম্পর্কে স্ট্যালিনের দৃষ্টিভঙ্গি কি ছিল সেটার ওপরেও আলোকপাত হওয়া দরকার । স্ট্যালিনের স্ত্রীর জন্যে কোনও বিশেষ সুযোগ সুবিধা ছিল না । ব্রিটেন থেকে ওয়েব দম্পত্তি রাশিয়া গেছিলেন সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা কেমন সেটা দেখার জন্যে । তাঁরা স্ট্যালিনের স্ত্রীকে খুঁজছেন ।

 জানলেন কোনো একটা কারখানায় কাজ করেন ওনার স্ত্রী । তারা ভাবলেন স্ট্যালিনের স্ত্রী বলে কথা ! নিশ্চই কারখানার কোন বিরাট Executive পদে আছেন । সেখানে গিয়ে দেখা করতে চাইলে একগাদা শ্রমিকের মাঝখান থেকে কালিঝুলি মাখা এক ভদ্রমহিলা বেরিয়ে এলেন । একগাল হেসে বললেন - আমিই স্ট্যালিনের স্ত্রী , বলুন ? বিস্ময় বিমূঢ় ওয়েব দম্পত্তি জিজ্ঞাসা করলেন - আপনি রাশিয়ার First lady , একজন রাষ্ট্রনায়কের স্ত্রী হয়ে কারখানায় লেবারের কাজ করেন ! স্ট্যালিনের স্ত্রী উত্তর দিলেন - আমার স্বামী রাষ্ট্রনায়ক পদে আছেন নিজের যোগ্যতায় , আর আমি নিজের ক্ষমতা ,যোগ্যতা অনুযায়ী একটা সাধারণ শ্রমিকের কাজই করতে পারি , তাই সেটাই করছি । স্ট্যালিনের সন্তানেরা যে স্কুলে পড়তো সেখানে বলা ছিল স্ট্যালিনের ছেলেমেয়ে হিসাবে যেন এদের পরিচয় কেউ না জানে আর এদেরকে যেন আলাদা কোন বাড়তি সুবিধা না দেওয়া হয় । একবার পরবর্তী ক্ষেত্রে স্ট্যালিনের কন্যা শ্বেতলানার জন্যে একটা ভাল ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা হয়েছিল । শুনেই স্ট্যালিন রেগে গেলেন । বললেন আমার মেয়ে তো কি হয়েছে ? ওকি সেন্ট্রাল কমিটির মেম্বার নাকি পলিটব্যুরোর মেম্বার ? যেখানে অন্য সবাই থাকবে সেও ওখানেই থাকবে । তার দেহরক্ষী রিবীন লিখেছেন - শুয়োরের মাংস খুব পছন্দ করতেন স্ট্যালিন । একদিন খেতে গিয়ে দেখলেন কচি শুয়োরের মাংস । জিজ্ঞাসা করলেন কোথা থেকে এল ? শুনলেন কে একজন প্লেনে করে নিয়ে এসেছে । খুব রেগে গেছিলেন ।


বললেন - যে এনেছে তাকে জিজ্ঞাসা করো , প্লেন জলে চলে না তেলে চলে ! জনগনের অর্থ নষ্ট করার ক্ষমতা ওকে কে দিল ? এই হল ক্যারেক্টার । জুকভ লিখেছেন - যুদ্ধের সময়ে মনে হোত স্ট্যালিন যুবক । কখন ঘুমান , কখন খান, আমাদের বোঝার উপায় ছিল না । যখন তখন ডাকছেন , দিনরাত পরিশ্রম করছেন , ব্যাটেল ফিল্ডে চলে যাচ্ছেন । মস্কোয় বম্বিং হচ্ছে , ক্ষতির পরিমান দেখতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দৌড়াচ্ছেন । সেই সময়ে স্ট্যালিন কে বারবার জীবনের নিরাপত্তার জন্যে মস্কো থেকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল কিন্তু উনি মস্কো ছেড়ে এক পাও নড়েননি । সমগ্র রাশিয়ার জনগন দুর্দান্ত নাৎসিদের সাথে মরণপণ লড়াইয়ের জন্য মানসিক শক্তি পেল কোথা থেকে ? এইসব দেখেই তো । মার্শাল জুকভ লিখেছেন - স্ট্যালিনের ছেলে রেড আর্মির সামরিক বাহিনীতে লেফটেন্যান্ট ছিলেন । তিনি যুদ্ধে জার্মান নাৎসিদের হাতে বন্দি হয়ে গেলেন । নরপশু হিটলার স্ট্যালিনের সন্তানকে হাতে পেয়ে তার কি অবস্থা করছে ,চিন্তা করে সবার রক্তহিম হয়ে গেল । এমন সময়ে হিটলারের কাছ থেকে প্রস্তাব এল জার্মানির একজন বন্দি জেনারেলকে মুক্তি দিলে বিনিময়ে স্ট্যালিনের সন্তানও মুক্তি পাবে । স্ট্যালিন উত্তরে লিখলেন সামান্য লেফটেন্যান্ট পদমর্যাদার একজনের মুক্তির বিনিময়ে জেনারেল পদমর্যাদার একজনকে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয় । জুকভ একদিন দেখলেন স্ট্যালিন খুব চিন্তিত আর চুপচাপ । জুকভের মনে হল স্ট্যালিন হয়তো ছেলের কথা ভাবছেন ।


স্ট্যালিনকে জিজ্ঞাসা করলেন - কমরেড আপনার ছেলের কোনও খবর পেলেন ? স্ট্যালিন উত্তর দিলেন - কোথা থেকে , কি করে খবর পাবো ? নিশ্চই খুব অত্যাচার করছে ওরা । তবে আশা করি ও দেশকে বিট্রে করবে না । এরপর কিছুক্ষনের জন্যে চুপচাপ হয়ে গেলেন । তারপরে আবার বললেন - কি ভয়ংকর এই যুদ্ধ ! কত বাবা মা আপন সন্তান হারিয়েছেন । জুকভ বুঝলেন স্ট্যালিন নিজের ছেলে নয় গোটা দেশের সন্তানদের নিয়ে ব্যথিত, চিন্তিত । এই হচ্ছেন মহান স্ট্যালিন । ব্যক্তিগত জীবনে কখনো দু তিনটের বেশি জামাকাপড় পড়তেন না । তার সর্বক্ষণের সঙ্গী যারা ছিলেন তারা লিখেছেন , কোট ছিঁড়ে গেলে ভ্রুক্ষেপই করতেন না । আমরা বলতাম কাজকর্ম তো হচ্ছেই কিন্তু একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসাবে নিজের পোশাকটার প্রতি অন্ততঃ একটু নজর দিন , ছেঁড়াফাটা কোট পড়ে মিটিং attend করতে চলে যাচ্ছেন , এ আবার কি ! উনি কোট খুলে দিয়ে বলতেন - নতুনের দরকার নেই,শুধু সেলাই করে দাও , এমনিতে ঠিকই আছে কোটটা । আমরা অনেক সময়েই শুনতাম না, রাগারাগি করে পুরানো জামা প্যান্ট কেড়ে নিয়ে যেতাম নতুন পোশাক তৈরী করার জন্য । আরও কঠিন ছিল পুরানো জুতো পাল্টে নতুন জুতো পরানো । এই ব্যাপারে একদম শিশুসুলভ আচরন করতেন ।

 রাশিয়ার মতো বিশাল শক্তিশালী দেশের অদ্বিতীয় রাষ্ট্র নায়কের এমন জীবনযাত্রা কল্পনা করা যায় ! বছরে সোভিয়েত সরকার থেকে রাষ্ট্রনায়ক হিসাবে তিনটে কোট পেতেন । তাঁর দেহরক্ষীরা পেতেন দুটি । সেটা নিয়েও দেহরক্ষীদের সাথে ঠাট্টা করতেন । বলতেন - আমি হলাম বড়লোক তাই আমার জন্যে তিনটে কোট আর তোমরা হলে গরীব সেই জনেই সরকার তোমাদের দুটো কোট দেয় । আসলে তিনি যে রাশিয়ার শ্রমিক শ্রেণীর সন্তান এটা কখনো ভোলেননি । যখন মারা গেলেন , কিছু জামা কাপড় জুতো ,ব্যক্তিগত ব্যবহার্য্য কিছু জিনিস , বইপত্র, কয়েকটি রুবল ছাড়া আর কিছু রেখে যাননি ,কারন রেখে যাওয়ার মতো আর কিছুই ছিল না । এই হলেন স্ট্যালিন । এই তো তাঁর জীবন । দেহরক্ষী, পরিচর্চাকারী সহ যারা যারা তার সাথে থাকতেন , তাদের সাথে কখনো বন্ধুর মতো আবার কখনো স্নেহশীল অভিবাবকের মতো আপন হয়ে মিশতেন । গল্পগুজব করতেন, প্রানখুলে আড্ডা মারতেন ,খেলাধুলা করতেন ,খাওয়া দাওয়া করতেন । এটা এঁরা অনেকেই গভীর আবেগে ,শ্রদ্ধায় ও সগৌরবে উল্লেখ করেছেন।

সংগৃহীত 

No comments

Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.