Header Ads

বামেরা কবে প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পাবে সেটাই বড় প্রশ্ন! আগামীদিনের ডুয়েল তৃণমূল বনাম বিজেপি! কেন?

অরুনাভ সেন, নজরবন্দিঃ বামপন্থীরা জেল ভরো আন্দোলন করলেন৷দিকে,দিকে মানুষের উচ্ছাস ছিল চোখে পড়ার মত৷সোশ্যাল মিডিয়ায় বাম,কর্মী সমর্থকেরা উচ্ছাস দেখালেন যেন তারা বিরাট যুদ্ধ জিতেছেন!তাই কি!হ্যাঁ এটা ঠিক,দীর্ঘদিন পরে বামেদের একটা আন্দোলনে মানুষের সমাগম,স্বতঃস্ফূর্ততা বাম সমর্থকদের মুখের হাসি চওড়া করেছে৷যদিও পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর বাংলায় বঙ্গ সিপিএমের তেমন কোনও কর্মসুচী চোখে পড়েনি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের৷

প্রায় একতরফা আধিপত্য বজায় রেখে দিকে,দিকে তৃণমূল তাদের জয়ের মার্জিন বাড়িয়েছে৷বাম কর্মী সমর্থকেরা যখন নমিনেশন জমা দিতে পারছিলেন না বলে অভিযোগ করেছেন তখনও উচ্চ নেতৃত্ব তেমন ইতিবাচক পদক্ষেপ নেননি,যেখানে কর্মীদের কাছে বার্তা থাকত আপনাদের পাশে আছি কমরেড৷কোথায় সেই বার্তা?কেন স্রেফ বাম মতাদর্শে বিশ্বাসী একজন সাধারন মানুষ বাম রাজনীতি করার অপরাধে জেলে যাবে,অথবা মিথ্যা মামলায় ফাঁসবেন?বাম নেতৃত্বের কি সেই আন্তরিকতা আছে ২৪ঘন্টার মধ্যে রাজ্য সিপিএম অথবা বাম নেতৃত্ব তাদের পাশে দাঁড়াবে৷আইনি সহায়তা থেকে যাবতীয় সমস্যা তারা মোকাবিলা করবে৷৩০ জন মানুষকে কেটে খেয়ে ফেলেছেন এই দম্পতি! গ্রেপ্তার বিকারগ্রস্ত নরখাদক।


আসলে যারা বুক চিতিয়ে এখনও লড়াই করার ক্ষমতা ধরেন বা বামপন্থীদের ঝান্ডা হাতে নিয়ে তৃণমূলের মোকাবিলা করতেন সেই অকুতোভয় কর্মীরা নেতৃত্বের দূর থেকে সব কিছু দেখে প্রতিবাদ না করার মানসিকতা দেখে কার্যত হতাশ৷গ্রাম বাংলায় কি শহর কলকাতায় সেই কর্মীরা মাঠে নেই৷তারা বিশ্বাস করেন বাম আদর্শে,কিন্তু স্থানীয় রাজনীতির বাধ্যবাধকতা অথবা চাপের মুখে তারা কেউ দল ছেড়ে তৃণমূলে যাচ্ছেন,অন্তত এই গ্যারান্টি পেয়ে মিথ্যা মামলায় জেলে পচতে হবে না,বা তাদের কোনও বিপদ হলে স্থানীয় নেতৃত্ব তাদের পাশে দাঁড়াবে৷আসলে তৃণমূলকে দোষারপ করে লাভ নেই,তৃণমূল বরাবরই বলেছে বাম সহ যেকোনও দলের সৎ নেতা,কর্মীরা তাদের দলে যোগদান করলে তারা তাদের স্বাদরে গ্রহন করবেন৷বাস্তবে সেটাই ঘটছে৷তৃণমূলের ছত্রছায়ায় বিগত দিনের কমরেড অনেক নির্ভয়ে নিরাপদ জীবনযাপন করছেন৷

উল্টোদিকে যারা তৃণমূলের ঘোর বিরোধী তারা পদ্ম শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন৷রাজ্য বিজেপির নেতারাও তাদের কর্মীদের যতেষ্ট আগলে রাখছেন৷তাদের বিপদে পাশে থাকছেন৷বার্তা দিচ্ছেন কর্মীদের আমরা আপনাদের পাশে আছি৷স্বভাবত রাজ্যে আজ তৃণমূলের প্রতিদ্বন্ধী বিজেপি৷সর্বভারতীয় সভাপতির বাংলায় আসা,প্রধানমন্ত্রীর সভায় বিপুল মানুষের উপস্থিতি প্রমান করছে আগামী লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে বেশ কঠিন প্রতিদ্বন্ধীতার মুখে ফেলবে বিজেপি৷আসলে বেশিরভাগ মানুষই তাদের রাজনৈতিক স্ট্যান্ড নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন৷নোটবন্দি,জিএসটির মত সিদ্ধান্তে মানুষের হয়রানি বাড়লেও বাংলায় বিজেপির উত্থানের বড় কারন বাম কর্মী,সমর্থকেরা যারা জীবনে কখনও তৃণমূলকে ভোট দেবেন না,তাদের দৃড় বিশ্বাস একমাত্র মোদি-অমিত শাহ,দিলীপ ঘোষেরা পারবে মমতাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে৷স্বভাবত এই কর্মী সমর্থকদের ধরে রাখার জন্য বাম নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত এমন কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে পারেন নি,যেখান থেকে কর্মীরা বিশ্বাস করতে পারেন বামফ্রন্ট পারবে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ করতে৷

বাম কর্মী,সমর্থকদের সেই বিশ্বাস প্রতিদিন হারিয়ে যাচ্ছে,তারা বিশ্বাস করছেন বিজেপিই একমাত্র দল যারা পারবে তৃণমূলের সঙ্গে সেয়ানে,সেয়ানে টক্কর দিতে৷বাম নেতারা কেবল প্রেস বিবৃতি আর বছরে একটা বিগ্রেড,আর একটা জেল ভরো কর্মসূচী নিয়ে ব্যস্ত থাকুন৷কর্মসূচীতে জনসমাগম দেখে উচ্ছসিত হয়ে আত্মতুষ্টি লাভ করুন৷সাধারন কর্মী,সমর্থকদের পাশে দাঁড়াবার মানসিকতা তারা হারিয়েছেন৷তাদের বিপদে দলের উচ্চ নেতৃত্বকে পান না৷সেই অভিমানেই মূলত একেবারে গ্রাসরুট লেভেলের বাম কর্মী,সমর্থকরা দলত্যাগ করে হয় তৃণমূলে যাচ্ছেন,অথবা পদ্ম শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন৷এটাই আগামীদিনের বঙ্গ রাজনীতির চালচিত্র৷এই চিত্র বদল করার কোনও চেষ্টা বাম নেতৃত্বের নেই৷তারা কেবল আগে থেকে নির্ধারিত কর্মসূর্চীর সাফল্যে খুশী৷

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কিভাবে রাজনীতি করতে হয়,অথবা রাজ্য বা জাতীয় রাজনীতির জ্বলন্ত কোনও ইস্যুতে কিভাবে মানুষকে প্রভাবিত করতে হয় কিভাবে তৈরি করতে হয় সেই আন্দোলনের রূপরেখা,কিংবা কেমন ভাবে প্রবাহিত হবে আন্দোলনের গতি প্রকৃতি,সেই সব বিষয় নিয়ে তাদের কোনও হেলদোল নেই৷স্বভাবত সাধারন মানুষের প্রশ্ন বামেদের সমর্থন করে কি লাভ তারা কি পারবে তৃণমূল কে হারাতে!বরং তৃণমূল বিরোধী বাম সমর্থকরা বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন,আগামীদিনে এই প্রবণতা আরও বাড়বে৷বামেরা রাজ্য রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা কবে ফিরে পাবে সেটা তাদের আন্দোলনের উপর নির্ভর করবে,তবে আগামীদিনে বঙ্গ রাজনীতি তৃণমূল বনাম বিজেপির ডুয়েলে জমে উঠবে একথা নিশ্চিত বলা যায়৷
Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.