Header Ads

ATAL BIHARI VAJPAYEE

রাত পোহালেই রাজপথে সৃষ্টি হবে 'বঞ্চিত' প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলনের ইতিহাস!! #Exclusive

নজরবন্দি ব্যুরোঃ সেই মহেন্দ্রক্ষন উপস্থিত, আর মাত্র কয়েক ঘন্টা। রাত পোহালেই মহানগরের রাজপথে হতে চলেছে ঐতিহাসিক শিক্ষক সমাবেশ। PRT স্কেলের দাবীতে আগামীকাল উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারী টিচার্স এসোসিয়েশনের আহ্বানে কলকাতায় হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের সর্ববৃহৎ অরাজনৈতিক প্রাথমিক শিক্ষক সমাবেশ।

প্রায় ৫০০০০ প্রাথমিক শিক্ষকের পদধ্বনি রোলিত হবে কলকাতার রাজপথ। ভারতবর্ষের প্রতিটি রাজ্যে প্রাথমিকে নিয়োগ হয় NCTE নিয়ম মেনে, উচ্চমাধ্যমিকে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর ও ২ বছরের ডিএলএড। বেতনও দেওয়া হয় সেই যোগ্যতা অনুযায়ী সারা ভারতবর্ষে, PRT স্কেল।
 ব্যতিক্রম শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ। নিয়োগ NCTE নিয়ম মেনে হলেও বেতন দেওয়া হয় মাধ্যমিক যোগ্যতার, পে ইন দ্য পে ব্যান্ড ₹৫৪০০-₹২৫২০০ ও গ্রেড পে ₹২৬০০। যেখানে কেন্দ্রের ষষ্ঠ বেতন কমিশনের বেতন কাঠামো অনুযায়ী পে ইন দ্য পে ব্যান্ড ₹৯৩০০-₹৩৪৮০০ ও গ্রেড পে ₹৪২০০। সবচেয়ে লজ্জ্বার বিষয় হল, ভারতীয় রেলের একজন সাফাইকর্মী এর বেতন যেখানে ₹২৯৩৯০, সেখানে আমাদের পশ্চিমবঙ্গের একজন প্রাথমিক.শিক্ষকের বেতন মাত্র ₹১৯৩০৬।
কেন্দ্রীয় ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ীই শুধুমাত্র আমাদের রাজ্যের একজন নবনিযুক্ত প্রাথমিক শিক্ষক পান প্রতিমাসে ₹১০০১৯ কম। সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সেই পার্থক্য বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ₹২০০০০ এর কাছাকাছি। এই ক্ষোভেরই আঁচ পড়তে চলেছে কলকাতার রাজপথে। ইতিপূর্বে রাজ্যের শিক্ষাসচিব, শিক্ষামন্ত্রী, প্রতিটি জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শককে ডেপুটেশন, স্মারকলিপি প্রদান করেও বেতন বৈষম্যের কোন সুরাহা না হওয়ায় এই মহামিছিল ও মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে UUPTA। দল মত নির্বিশেষে সমস্ত শিক্ষক সংগঠন ও সমস্ত বঞ্চিত প্রাথমিক শিক্ষকদের ডাকা হয়েছে উক্ত সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য। প্রতিটি জেলায় অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে ওই দিনের সমাবেশ নিয়ে।

 জেলায় জেলায় সমাবেশে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি তুঙ্গে। ওইদিন প্রথমে সকাল ১১টার সময় কলকাতার সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে শুরু হবে মহামিছিল যা গিয়ে শেষ হবে রানী রাসমণি এভেনিউ তে। তারপর দুপুর ১২ টা থেকে সেখানে শুরু হবে মহাসমাবেশ। সমাবেশে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষাজগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। ইতিমধ্যেই UUPTA এর রাজ্য কমিটির সভাপতি সন্দীপ ঘোষ প্রতিটি শিক্ষক সংগঠন ও শিক্ষকদের সভায় যোগদানের জন্য দিয়েছেন খোলা চিঠি। সভার জন্য সবরকম অনুমতিও নেওয়া হয়ে গেছে। এখন চলছে চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি। এখন সারা বাংলার প্রাথমিক শিক্ষকদের মুখে ধ্বনিত হচ্ছে একটাই কথা, "আর নয় বঞ্চনা, এবার চাই গুরুদক্ষিণা।"

No comments

Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.