Header Ads

চিরকালের ঋতুপর্ন! শেষ হয়ে হইলনা শেষ! তাঁর ফেলে যাওয়া উপলব্ধির আনাচে কানাচে!

নজরবন্দি ব্যুরোঃ সালটা ১৯৯২। বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম মহীরুহ সত্যজিৎ রায়ের প্রয়ান ঘটেছে। সেই সময়েই তৈরি হল একটি নতুন ছবি, 'হীরের আংটি'। নতুন প্রজন্মের আর একজনকে যেন কেউ ব্যাটন ধরিয়ে দিয়ে বলেছিল, "তোমার হল শুরু, আমার হল সারা"। এতক্ষণে পাঠক বুঝে গেছেন কার কথা বলছি। হ্যাঁ, তিনি ঋতুপর্ণ ঘোষ।

জন্মদিনে তাঁর স্মৃতি ঘিরে ধরে তামাম চলচ্চিত্রপ্রেমীকে, তা বলাই বাহুল্য। বন্ধ দরজার আড়ালে গহীন মনের গোপন চাপানউতোর কিংবা ডিনার টেবিলে মধ্যবিত্তের কিছু সাজানো কথার ফাঁকে আটকা পড়ে যাওয়া অসংখ্য না বলা কথাকে প্রেক্ষাগৃহের আলোআঁধারিতে আনার সাহস দেখিয়েছিলেন ঋতুপর্ন ঘোষ। আসলে তিনি তো সাফল্যকে জোর করে ঘরে তোলার জন্য ছবি তৈরি করেননি, বরং বাস্তবকে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করার তাগিদটাই ছিল মুখ্য। একেবারে নতুন সেইসমস্ত চিন্তাভাবনার রূপদানের বিষয়টি দর্শকের ওপরেই ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। বলা বাহুল্য, তাঁর ব্যক্তিজীবনে আলোকপাত করে তাঁর ছবি।
 আবার একই ভাবে ঋতুপর্নের জীবন তাঁর চলচ্চিত্রকে পূর্ণতা দেয়। এ যেন এক অবিচ্ছেদ্য পারস্পরিক বোঝাপড়া। ধীরে ধীরে তাঁর জীবনে এলো বদল। পরিবর্তন এলো তাঁর উপলব্ধিতে। বদল হল সাজ, ভাবনা। প্রভাবিত হল তাঁর ছবিও। সৃষ্টি করলেন 'চিত্রাঙ্গদা', 'আরেকটি প্রেমের গল্প'এর মতো ভিন্নস্বাদের ছবি। চরিত্ররা সেখানে অন্যপথে হাঁটে, অন্য কথা বলে। দর্শক মুখোমুখি হল এক নতুন সত্যের, যাকে অনেকেই সত্য বলে মানতে পারলো না, আবার এড়িয়ে যেতেও পারলো না। এখানেই ঋতুপর্ন ঘোষের সাফল্য। তাঁর দর্শকের সামনে তিনি বারবার ভাবনার নতুন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন, সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলা চলচ্চিত্র।
 সাবালক হয়েছে বাঙালির মানসিকতা। ঋতুপর্ন ঘোষ শুধুমাত্র চলচ্চিত্র নির্মাতা, এটা বললে তাকে সঠিকভাবে বর্ননা করা হয় না। ছবি তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন ম্যাগাজিনের এডিটর হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর লেখা সম্পাদকীয় ম্যাগাজিন গুলিকে পরিপুষ্ট করেছে বারবার। টেলিভীষনে টক শো-ও হোস্ট করেছেন তিনি। সত্যি বলতে ঋতুপর্ন ঘোষ সম্পর্কে বলতে গেলে বোধহয় থামতে জানতে নেই! তবু কোনো এক নিষ্ঠুর শক্তি থামিয়ে দিয়ে গেল সবকিছু। ২০১৩ সালের ৩০ মে হঠাৎই শেষ হয়ে গেল সবকিছু। নিভে গেল তাঁর জীবনদীপ। পেছনে ফেলে গেলেন 'শেষ হয়ে হইলনা শেষ'এর পথচলাকে।
DESCRIPTION OF IMAGE
Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.