Header Ads

najarbandi alok somman 2018

ভাঙড় আবার শাসক দলের অণুকুলে! টাকার প্রলোভনেই বাজিমাত সরকারের!

নজরবন্দি ব্যুরো: প্রায় ১ বছরের বেশি সময় ভাঙড়ে পা রাখতে পারেনি রাজ্য সরকার। নিজের এলাকায় কোণ ঠাসা হয়ে পড়েন আরাবুল ইসলাম ও রাজ্জাক মোল্লার মতন দাপুটে নেতারা। সেই ভাঙড়ে কি এমন ঘটনা ঘটলো যেখানে এই ভাঙড় আন্দোলনের নেতা অলীক চক্রবর্তী ধরা পড়ার পরেও সহজে জামিন পেলেন এবং তার পরেই অনড় আন্দোলনকারীদের সম্মতিতেই গত মঙ্গলবার প্রায় পরিত্যক্ত চেহারা নেওয়া প্রস্তাবিত পাওয়ার গ্রিডে আবার পা রাখলেন সরকারি আমলারা! এই প্রশ্ন গুলো উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে। সূত্রের দাবি, অলীক মে মাসে ভুবনেশ্বরে গ্রেফতার হওয়ার আগে একাধিকবার চিকিৎসা করাতে ভাঙড়ের বাইরে গিয়েছিলেন। কিন্তু কোনও বার পুলিশ খবর পায়নি। তাই গ্রেফতার করা যায়নি ভাঙড় আন্দোলনের শীর্ষ-নেতাকে। আর এর পরেই নতুন কৌশল নেয় প্রশাসন। একদিকে আন্দোলনকারীদের ক্রমাগত প্রচুর অর্থের প্রলোভন দেখানো, এর পাশাপাশি প্রশাসনিক চাপ বাড়ানো। আর তার মধ্যেই পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেই, পরিকল্পনা মাফিক আরাবুল ইসলামকে গ্রেফতার করে আন্দোলনকারীদের একটা বার্তা দেবার চেষ্টা। সূত্রের খবর থেকে পাওয়া, নির্বাচনের পরেই প্রশাসনের কাছে খবর আসে অলীককে দেখতে এক চিকিৎসক আসছেন। সেই চিকিৎসকের সমস্ত কিছুর খবর চলে যায় প্রশাসনের কাছে। সেই চিকিৎসক কবে কখন কোন গাড়ি চড়ে মাছিভাঙা গ্রামে অলীক চক্রবর্তীকে দেখতে যাচ্ছেন তা পুঙ্খনাপুঙ্খ জানত নবান্নের কর্তারা। এর পরে অলীক চক্রবর্তী যে ক’দিনের মধ্যেই চিকিৎসা করাতে বাইরে যাবেন, তা আগেভাগেই জানত পারে পুলিশ। সতর্কতা হিসাবে, জেলা পুলিশের পাশাপাশি কলকাতা পুলিশের এসটিএফ এবং সিআইডি ভিন রাজ্যের হাসপাতালে আগেই পৌঁছে যায়। এই ঘটনার কিছু দিনের মধ্যে জেলা পুলিশের কাছে চলে আসে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। অলীক ভাঙড় ছাড়ার আগে এক সহযোগীর মাধ্যমে ৪০০০ টাকা দিয়ে একটি মোবাইল কেনেন। সিম-কার্ড নেওয়া হয় শুক্লা ভুঁইমালির নামে। এই সমস্ত তথ্য, এমনকি মোবাইলের আইইএমআই নম্বরও পৌঁছে যায় পুলিশের কাছে। আর এই ঘটনার পরেই কমিটির অন্দর মহলেই ভাঙন ধরেছে এটা বুঝে যায় প্রশাসনের কর্তারা। আর এর পরে যা হবার তাই হয়েছে, গ্রেফতার হন অলীক চক্রবর্তী। তবে সেই সময় তার চিকিৎসা জরুরি ছিল। তাঁকে একদিকে যেমন চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, এর পাশাপাশি তাকে হেফাজতে নিয়ে প্রথমেই আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং সঙ্গে প্রচুর টাকার প্রলোভন। সূত্রের খবর, ভাঙড় থানাতে অলীক চক্রবর্তীকে নিয়ে এসে, তাঁর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ চার সহযোগী— মীর্জা হাসান, অলি মহম্মদ, সাজারুল ইসলাম এবং মোশারফ হোসেনের সঙ্গে সামনা সামনি কথা বলতে দেওয়া হয়। প্রশাসন এক দিকে আলোচনার দরজা খোলা রাখে, অন্য দিকে রাজি না হলে যে আইনি পদক্ষেপ আরও জোরালো হবে এবং তাঁর অবস্থা যে ছত্রধরের মতন হবে তা বুঝিয়ে দেয় রাজ্য প্রশাসন। আর তাতেই বাজিমাত করে মমতার প্রশাসন। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছিল রাজ্য সরকার। ইউএপিএ-তে অভিযুক্ত থাকার পরও, আলোচনার স্বার্থে অলীক চক্রবর্তীর জামিন নিয়ে ঝামেলা হয় নি। কলকাতার অন্যতম সেরা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসারও বন্দোবস্ত হয়। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর, অলীক চক্রবর্তীর নতুন ঠিকানা এখন নিউটাউনের একটি বিলাসবহুল আবাসন
Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.