Header Ads

najarbandi alok somman 2018

বিদ্যাসাগর স্মরণে শিক্ষকদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ বাংলা পক্ষের।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ বাংলা জগতে নতুন পথের প্রদর্শক ছিলেন রাজা রাম মোহন রায়। তাঁর দেখানো পথে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন বিদ্যাসাগর। বিধবা বিবাহের প্রচলন, বাল্যবিবাহ-বহুবিবাহ রদ ও নারীশিক্ষার প্রচারে সারাজীবন লড়ে গিয়েছেন তিনি।
সমাজ সংস্কারের সাথে সাথে সাহিত্যিক বিদ্যাসাগর বাংলা সাহিত্যের গর্ব। বাংলা বর্ণমালার সংস্কার করেন তিনি। সহজে বাংলা শিখতে "বর্ণপরিচয়", "কথামালা" ও "বোধোদয়"-এর মত কালজয়ী বই লেখেন। তিনি ছিলেন সংস্কৃত ভাষায় পন্ডিত। বহু সংস্কৃত গ্রন্থের বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন সেই সময়। তাঁর পরোপকারীতা সর্বজনবিদিত। সবার্থে তিনি ছিলেন "করুণা সাগর", "দয়ার সাগর"। তাঁর করুণাধারায় স্নাত হয়েছেন অগণিত মানুষ। তিনি ছিলেন গরীবের ভগবান।

 কিন্তু এ বাংলা তাকে কী দিয়েছে? যে সম্মান তাঁর প্রাপ্য তিনি তা কখনও পাননি। তিনি বাধ্য হয়ে কলকাতা ছেড়ে জামতাড়ায়( বর্তমান ঝাড়খন্ডে) সাঁওতাল পাড়ায় জীবনের শেষ আঠারো বছর কাটিয়েছিলেন। বাঙালির হৃদয়ের সিংহাসনে কাঙ্খিত স্থান তিনি পাননি। বঙ্কিমচন্দ্রের মত ব্যক্তিত্বও বিদ্যাসাগরকে তুচ্ছজ্ঞান করেছেন। কিন্তু আজ বাঙালি জাতির ঐতিহাসিক সংকট, বাঙালি আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। বাংলা পক্ষ বাংলা ও বাঙালির অতন্দ্র প্রহরী। বাংলা পক্ষ জাতির শিক্ষক বিদ্যাসাগরের জন্মদিন পূর্ণ মর্যাদার সাথে পালন করল। তাঁর জন্মদিন ২৬ সেপ্টেম্বরকে বাংলা পক্ষ বাংলার জাতীয় শিক্ষক দিবস হিসাবে উদযাপন করছে। সেই সাথে, বাংলার ১২ জেলার ১২ জন গুণী শিক্ষক-শিক্ষিকাকে "বাংলার জাতীয় শিক্ষক" সম্মান দিচ্ছে বাংলা পক্ষ। জেলার প্রতিনিধিরা সশরীরে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছে পৌঁছে গিয়ে সম্মান প্রদান করছে।

 যাঁরা জেলায় শিক্ষা বিস্তারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন তাঁদেরই বাংলা পক্ষ বেছে নিয়েছে "বাংলার জাতীয় শিক্ষক" হিসাবে। তারকেশ্বর প্রতিবন্ধী স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা বেলা দে মহাশয়া কে এই সম্মান তুলে দিতে পেরে গর্বিত বাংলা পক্ষ। পশ্চিম বর্ধমানের শিক্ষক শ্রী চন্দ্রশেখর কুন্ডু সমাজ সেবায় নিজেকে অর্পন করেছেন। পুরুলিয়া তথা বাংলার গর্ব শ্রী নরেন হাঁসদা, শিক্ষা বিস্তারে তিনি পথ দেখাচ্ছেন। পাহাড়ের কোলে মাটির দুটো চালায় তিনি পিছিয়ে পড়া অংশের মানুষদের শিক্ষার আলোয় আনছেন, তাঁকে সম্মান প্রদান গর্বের। বাংলা পক্ষ আশা রাখে শুধু ১২ জেলা নয়, বাংলার প্রতিটি জেলায় শাখা খোলা হয়ে গেলে আগামী বছর প্রতিটা জেলার একজন শিক্ষক-শিক্ষিকা "বাংলার জাতীয় শিক্ষক" সম্মান দেবে।
Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.