Header Ads

বাগরির আগুনে অনেকের কাজ হারানোর আশঙ্কা,প্রশ্ন মিলবে কি বোনাস?

অরুনাভ সেন: ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে বাগরি মার্কেটের ব্যবসায়ীদের বিপুল ক্ষতি কিভাবে পূরণ হবে কেউ জানেন না৷আগুনকে নিয়ন্ত্রনে আনতে দমকলের অদম্য লড়াইকেও সবাই কূর্ণিশ করছেন,কিন্তু ভয়াবহ এই আগুনের লেলিহান শিখা তুলনামূলক ছোট ব্যবসায়ীদের মেরুদন্ড ভেঙে দিল৷
যারা একটু বড় মাপের ব্যবসা করেন হয়ত পরে তারা ক্ষতি সামলে উঠতে পারবেন,কিন্তু যারা ক্ষুদ্র তাদের সব পুঁজি গিলে খেল আগুনের লেলিহান শিখা৷আপাতত কিছুদিনের জন্য কাজ হারানোর কালো মেঘ অসংখ্য মানুষের জীবনে যারা পুড়ে যাওয়া দোকানগুলিতে কাজ করতেন৷যাদের প্রায় সবারই বেতনের শর্ত নো ওয়ার্ক,নো পে৷তবে মালিকের সঙ্গে সুসম্পর্ক,কিংবা অন্য কর্মীকে আড়াল করে কারো,কারো হয়ত বেতন কাটা হতনা,কাজে যোগ না দিতে পারলে,বা অনেক দেরীতে কাজে যোগ দিলেও৷

সকাল ১০টা,সাড়ে দশটায় কাজে যোগ দেওয়াই অলিখিত নিয়ম,খদ্দেররা তখনই সবে দোকানে আসা শুরু করেন,সন্ধে ৭টা পর্যন্ত মোটামুটি ডিউটির সময়৷মাঝখানে ২০/২৫মিনিটে টিফিনের বিরতি৷টিফিন বলতে ১০টাকার মশলা মুড়ি,কিংবা কারো টিফিন বক্সে সাত সকালের তৈরি দুটি আটার রুটি আর এক রকমের সবজি,কেউ বা ছাতুর সরবতে টিফিন করে নেন৷প্রায় সারাদিন দাঁড়িয়ে থেকেই কাজ,বসার সুযোগ খুবই কম,পাইকারী ব্যবসার ক্ষেত্রে যা হয়৷সারাক্ষন খদ্দেরের চাপ,একটি খদ্দেরের অর্ডারের স্লিপের মাল দেওয়া,শেষ হলেই আবার নতুন কাষ্টমারের স্লিপের মাল মিল করা৷

কাষ্টমারের অর্ডারি স্লিপের প্রতিটি মাল নিখুঁত ভাবে মিল করতে বারেবারে মালিকের গোডাউনে যাওয়া৷পরপর সারিবদ্ধ ভাবে একই তলায় গোডাউন আছে এমন নয়৷কোনওটা হয়ত তিন তলায়,কোনওটা আবার ৪তলায়৷কলকাতার বিশেষত বড়বাজার লাগোয়া বেশীরভাগ পাইকারী বাজারের চিত্র মোটামুটি এমনই,ব্যতিক্রম নয় বাগরিও৷গোডাউনগুলির অবস্থা তথৈবচ৷আলো,বাতাস প্রবেশ করেনা,একবার সেখানে ঢুকলে মনেই হবে না দ্বিতীয়বার যাই৷তবুও মানুষগুলিকে দিনে কতবার গোডাউনগুলিতে ঢুকতে হয় বলা মুশকিল৷কিন্তু পেট বড় বালাই,কেউ দিনে ২০০,কেউ ২৫০,কেউ ৩০০টাকা,একটু পুরনো,মালিকের অতি বিশ্বস্ত কর্মচারী হলে দিনে ৪০০টাকার বেতনের লোককেও খুঁজে পাওয়া যায়৷তবে তারা সংখ্যায় কম৷এরা বেশীরভাগই আসেন জেলা বা দূরের কোনও মহকুমা শহর থেকে৷

সকালের সেকেন্ড কি থার্ড ট্রেন ধরা,ঘন্টা আড়াই/তিনের ট্রেন জার্নি করে কাজে যোগ দেওয়া,আবার রাতে সাড়ে সাতটা,আটটা,সাড়ে আটটার ট্রেন ধরে বাড়ি ফেরা৷এই মানুষগুলির এটাই রোজনামচা৷রবিবারটা অবশ্য ছুটি মেলে৷কিন্তু মানুষগুলির চোখ-মুখে কখনও হতাশার ছবি চোখে পড়েনা৷বরং সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পরেও রবিবারের ছুটিকে সবার মত তারাও উপভোগ করেন৷কম বেতন হলেও সবাই তাকিয়ে থাকতেন দুর্গাপুজোর দিকেই৷বোনাস মিলবে৷ঠিক বেতনের সম পরিমান অর্থ৷পুজোর দিন ১৫আগেই এই অর্থটা হাতে আসত৷সবাই পরিবারের হাতে তুলে দিতেন নতুন পোশাক৷বাড়তি অর্থে পুজোর কটা দিন আনন্দময় করে রাখার গ্যারান্টি থাকতো৷কিন্তু এবার কি হবে?পুজোর ঠিক আগে যে দোকানগুলো পুড়ে গেলো সেগুলি কবে খুলবে?দোকানের মালিক কি কর্মীদের বসিয়ে বেতন দেবেন!

যতদিন না তিনি নতুন করে ব্যবসা শুরু করছেন৷যদি তারা বেতন না দিতে পারেন কর্মীরা হঠাৎ করে কোথায় নতুন কাজ পাবেন?কিভাবে চলবে তাদের সংসার?কেমন ভাবে কাটবে তাদের পুজো?বাগরির আগুন অনেক নিন্মবিত্ত পরিবারের মানুষের জীবনে ডাল ভাতের নুন্যতম নিশ্চয়তা ভেঙে খানখান হয়ে যাওয়ার ভ্রুকুটি উঁকি মারছে৷অনিশ্চয়তা আর হঠাৎ নেমে আসা অন্ধকার সরণিই এখন এই মানুষগুলির জীবনের চলার পথ৷তবুও আশা করি এই তমসাচ্ছন্ন পরিবেশ দ্রুত কাটবে৷বাগরিও দ্রুত বিকিকিনির স্বাভাবিক অবস্থায় পৌঁছবে৷যারা কাজ হারানোর আশঙ্কা করছেন,তারাও দ্রুত পুরনো কর্মস্থলে কাজে যোগ দেবেন৷ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসয়ীরা সব হারানোর যন্ত্রনা ভুলে নতুন উদ্যোমে আবার শুরু করবেন ব্যবসা৷

No comments

Theme images by sndr. Powered by Blogger.