Header Ads

najarbandi alok somman 2018

বন্ধ! শেষ পর্যন্ত আপনি হেরে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী? #Editorial

অর্ক সানাঃ ভারত বন্ধ চলছে দেশজুড়ে। দেশের বিজেপি বিরোধী প্রায় সবকটা দল বন্ধে অংশগ্রহণ করলেও করেনি তৃণমূল কংগ্রেস। বন্ধের ইস্যু সমর্থন করলেও কর্মসংস্কৃতির পুজারী রাজ্যে কর্মসংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার কারিগর তথা ১৯৯৮ সাল থেকে ক্ষমতায় আসার আগে ২০১১ সাল পর্যন্ত ৭৩ বার বন্ধ করার রেকর্ড ধারী তৃণমূল কংগ্রেস অংশগ্রহন করেনি ধর্মঘটে বরং সর্বশক্তি দিয়ে প্রশাসন কে নামানো হয়ে বন্ধ কে ব্যার্থ করে দেওয়ার জন্যে। সরকারি কর্মচারিদের উপর ফতোয়া জারি করা হয়েছে মাইনে কেটে নেওয়ার, চাকরি জীবন থেকে একদিন ছেদ করার। কিন্তু বন্ধ কি ব্যার্থ হল রাজ্যে? একাধিক সংবাদমাধ্যম সকাল থেকে প্রানপনে দেখানোর চেষ্টা করছে বন্ধ ব্যার্থ! অফিস-কাচারি, বাস-ট্রেন-ট্রামে ভর্তি লোকজন এক্কেবারে অন্যদিনের মতই।

কিন্তু সঠিক চিত্র কি তাই বলছে? একদমই না। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা এমনকি খোদ কলকাতার বুকে অন্তত ৭০% মানুষ রাস্তায় বেরননি। বাজার হাট ৫০% র কাছাকাছি খোলা থাকলেও তাতে ক্রেতা কেমন হয়েছে তা সেই বিক্রেতাদের থেকে ভাল কেউ বলতে পারবেন না। বেসরকারি বাস অন্য দিনের থেকে অন্তত ৮০% কম চলছে। রাজ্য অতিরিক্ত ৮০০ সরকারি বাস নামিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে। অর্থাৎ আজ বেসরকারি বাসের সব যাত্রী সরকারি বাসে উঠবেন সুতরাং সরকারি বাসের আয় স্বাভাবিক ভাবেই রেকর্ড গড়বে অন্য দিনের থেকে। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী বা পার্থ চট্টোপাধ্যায় দিনের শেষে যখন প্রেস মিট করে বলবেন কর্মনাশা বন্ধ সম্পুর্ন ব্যার্থ করে দিয়েছে রাজ্যের মানুষ সেই সময় সাধারণ অন্যদিনের থেকে সরকারি বাস আজ কত টাকার টিকিট বেশি বিক্রি করল তাঁর হিসেব দিতে পারবেন? সম্ভবত দেবেন না, কিন্তু হিসেব দেওয়া উচিত।

অন্য কথায় আসা যাক, রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। উন্নয়নের মশারি গলে বর্তমান প্রধান বিরোধী  বিজেপি বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে সামান্য ভাল ফল করলেও কংগ্রেস, আর বামেরা কার্যত ধুলোয় মিশে গেছে, না আছে লোকবল না আছে সমর্থক। তার উপর এই বন্ধে সামিল হয়নি ফরওয়ার্ড ব্লক। তাই লড়াইটা সিপিআইএম-কংগ্রেস বনাম তৃণমূল-বিজেপির। বন্ধের প্রেক্ষাপটে তৃণমূল আর বিজেপি দুটো দলকে এক হিসেবে ধরে নিলে রাজ্য অন্যদিনের মতই সচল ও স্বাভাবিক থাকার কথা। কিন্তু হল কই? যে রাজ্যের মানুষ মমতা বন্দোপাধ্যায় কে এত ভালোবাসে, যে রাজ্যের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্ত হিসেবে বিজেপি-কে নিয়ে স্বপ্ন দেখে তাঁদের সবার জন্যেই এই বন্ধ অপ্রাসঙ্গিক। বাদি-বিবাদী পক্ষ যখন মিলে মিশে একাকার তখন রাস্তায় স্বাভাবিকের থেকে ১% মানুষ কম বেরোলেই বন্ধ সফল, স্বাভাবিকের থেকে ১% অফিস হাজিরা কম হলেই বন্ধ সফল, স্বাভাবিকের থেকে ১% দোকান না খুললেই বন্ধ সফল, স্বাভাবিকের থেকে ১% যানবাহন কম চললেই বন্ধ সফল।
রাজ্য সরকার দিনের শেষে বলতে পারবে শতাংশ টা ১ না আরও বেশি নাকি শূণ্য! আর প্রেস মিটের সময় সরকারি বাসে আজকের মুনাফার হিসেব? চিত্রটা পরিষ্কার হয়ে যাবে, আপনি জিতলেন না হেরে গেলেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী?
Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.