Header Ads

najarbandi alok somman 2018

দিল্লীর লাল ঝড় আগামী ১০ই সেপ্টেম্বর থেকে আছড়ে পড়বে বাংলার প্রতিটি বুথেঃ সূর্যকান্ত মিশ্র

নজরবন্দি ব্যুরোঃ আগামী ১০ই সেপ্টেম্বর থেকে অধিকার যাত্রায় 'তৃণমূলের অত‍্যাচারের' বিরুদ্ধে গর্জে উঠবে বাংলা। সি পি আই (এম)-র রাজ্য সম্পাদক সূর্য কান্ত মিশ্র একথা জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকতা ও মেরুকরণের রাজনীতির বিরুদ্ধেও একই সঙ্গে পথে নামবেন পশ্চিমবাংলার মানুষ। ১৯৯৫-২০১৩ অবধি ভারতে ২,৯৬,৪৬৬ জন কৃষককে ঋণের দায়ে আত্মহত্যা করতে হয়েছে। গত ২-৩ বছর যাবত কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করা বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ হিসেবে জানিয়েছে, কৃষক আত্মহত্যার তথ্য অনেক রাজ্য সঠিকভাবে দিচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গ থেকে যেমন জানানো হয়েছে যে কৃষক আত্মহত্যার সংখ্যা নাকি 'শূন্য'। এর পরেও সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে সরকার হলফ জানিয়েছে গত চার বছরে ৪৮০০০ কৃষক ঋণের দায়ে আত্মহত্যা করেছেন। অন্যদিকে ১৯৫৭’তে অর্থনীতিবিদ গুলজারিলাল নন্দা’র নেতৃত্বে ১৫তম ইন্ডিয়ান লেবার কংগ্রেস বলেছিল –“শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি, চারজনের পরিবারের প্রতিজনকে প্রতিদিন ২৭০০ ক্যালরির ব্যালান্স ডায়েট, পরিবার প্রতি বছরে ৬৫ মিটার কাপড়, সরকারি আবাসন প্রকল্পে প্রদত্ত এলাকার সংশ্লিষ্ট ঘর ভাড়া এবং জ্বালানি, বিদ্যুৎ সহ বিবিধ খরচা পুরোপুরি ভাবে বহন করার উপযুক্ত হওয়া প্রয়োজন ।”

১৯৯২’এ সুপ্রিম কোর্ট এই ন্যূনতম মজুরির উপর আরও ২৫% ছেলেমেয়ের পড়াশুনা, চিকিৎসা, বিনোদন এবং উৎসবের জন্য সংযোজনার নির্দেশ দেয়। সব মিলিয়ে বর্তমান বাজারমূল্যে ন্যূনতম মজুরিটা প্রায় মাসিক ২৬,০০০ টাকা। বাস্তবে, যে ন্যূনতম মজুরিটুকু উপার্জন করেন দেশের মাত্র ৭% শ্রমিক। আর তুলনায় মাসিক ১০,০০০ টাকারও কম উপার্জন করা শ্রমিকের সংখ্যাটা ৬৮% । কৃষকের ফসলের মূল্য নেই, শ্রমিকের শ্রমের ন্যায্য মজুরি নেই।বেকারের কাজ নেই। আর্থিক উদারীকরণের যুগে আজ দেশে সবচেয়ে অবহেলিত দেশের বুনিয়াদি ভিত্তির কারিগর শ্রমিক এবং কৃষকরা। সূর্যকান্ত মিশ্র এর বিরুদ্ধে গোটা দেশে শ্রমজীবী মানুষের যে বিক্ষোভ আছড়ে পড়ছে, তার উল্লেখ করে বলেন, মহারাষ্ট্রের কিষাণ লং মার্চে ৫০,০০০ কৃষক সেদিন নাড়িয়ে দিয়েছিল মহারাষ্ট্র সরকারকে। দাবি আদায়ের প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হয়েছিল সরকার। কিন্তু লড়াই থামেনি। আন্দোলন জন্ম দিয়েছে আরও বড় আন্দোলনের। গোটা দেশের শ্রমিক-কৃষকরা আজ রয়েছেন দিল্লির রাজপথে।


রক্তপতাকা হাতে এদিনের ঐতিহাসিক কিষাণ মজদুর সংঘর্ষ যাত্রার মধ্যে দিয়ে সূচনা হয়েছে ভারতের শ্রমজীবী মানুষের গণ-আন্দোলনের নতুন পথচলা। মিশ্র বলেন, সেই গণ-আন্দোলনের ব্যাটনই হাতে তুলে নেবে বাংলা। আগামী ১০ই সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যব্যাপী বিপিএমও-র উদ্যোগে সংগঠিত অধিকার যাত্রা। ৭লক্ষ মানুষ ২৪ দিন টানা ৫০হাজার কিলোমিটার পায়ে হেঁটে পৌঁছে যাবে বাংলার প্রতিটি কোণে, ৭৭,২৪৭ বুথে। প্রতিবাদী মানুষের শ্লোগানে মুখরিত হবে বাংলা। তৃণমূলের অত্যাচারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠবে বাংলা। প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকতা ও মেরুকরণের রাজনীতির বিরুদ্ধে পথে নামবে বাংলা। সূর্যকান্ত মিশ্র আরও বলেন, এই কিষাণ মজদুর সংঘর্ষ যাত্রায় দিল্লিতে আমাদের রাজ‍্যের অংশগ্রহণ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। এই মহাসংগ্রামগুলির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের অধিকার যাত্রা শুরু হতে চলেছে। অনুকরণ নয়, নিছক অনুসরণও নয় বাংলার সংগ্রামী জনগণকে সারাদেশের শ্রেণী ভারসাম‍্যের পরিবর্তনে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমাদের রাজ‍্যকে দেশব‍্যাপী গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার জন‍্য গণসংগ্রামের অগ্রবর্তী ঘাঁটি হিসাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতেই হবে।
Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.