Header Ads

najarbandi alok somman 2018

আবগারী শুল্ক কমালেই কমবে তেলের দাম৷ সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছে কেন্দ্র ! #PostEdit

অরুনাভ সেনঃ লাগাতার বাড়ছে পেট্রপন্যের দাম৷ডিজেল,পেট্রলের দাম কমার লক্ষন নেই,মোদি সরকারের ইচ্ছাও নেই আবগারী শুল্ক কমিয়ে পেট্রল,ডিজেলের দামে লাগাম টানার৷ ভারতের তেল কোম্পানিগুলি এখন প্রতিদিন পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ায় ও কমায়। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার বলছে তারা তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করে না আর। কিন্তু গত ৪ বছরে তারা কীভাবে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়েছে, তা পরিষ্কার হয়ে যাবে নীচের তথ্যগুলিতে চোখ রাখলেই। এখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে এটা ঠিকই, কিন্তু ২০১৪ সালের এপ্রিল মাস থেকে বহুদিন পর্যন্ত সেই বাজারে তেলের দাম অনেকটাই কমে গিয়েছিল। এখন তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ৮০ ডলারের একটু বেশী হলেও, ২০১৫ সালের অগাস্টে তা নেমে ৩০ ডলার হয়েছিল। কিন্তু তখনও ভারতে মোদি সরকার তেলের দাম কমায়নি,অর্থাৎ পেট্রোপন্যের দাম কমুক,এটা কখনই চায়নি বিজেপির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার৷তাহলে এত,বিকাশের কথা কেন?আসলে সবটাই ধোঁকাবাজি,আইওয়াশের চেষ্টা৷ সাধারণ মানুষকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার কোনও সুফলই ভোগ করতে দেয়নি সরকার। বরং তেলের দাম কমতে থাকলেও, তখন এক্সাইজ ডিউটি বাড়িয়ে গেছে সরকার। ফলে তেলের দাম কমেনি ভারতে এটা হল আসল সত্য৷ অদ্ভুত একটা চিত্র দেখুন,মোদি সরকারের কেরামতি৷তারা ঠিক কতটা আবগারী শুল্ক গত ৪ বছরে বাড়িয়েছে একটি পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যাবে৷২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে কেন্দ্রের এক্সাইজ ডিউটি ছিল পেট্রোলে ৯.৪৮ টাকা ও ডিজেলে ৩.৫৬ টাকা। এখন সেটা বাড়তে বাড়তে পেট্রোলের ক্ষেত্রে ১৯.৪৮ টাকা ও ডিজেলের ক্ষেত্রে ১৫.৩৩ টাকা হয়েছে,অর্থাৎ মোদি সরকার লাগাতার বাড়িয়েছে এক্সাইজ ডিউটি৷ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও এই এক্সাইজ ডিউটি বাড়িয়েই গিয়েছে কেন্দ্র,ফলে তেলের দাম কমার সুফল সাধারন মানুষকে পেতে দেননি মোদি সরকার৷অথচ তারাই যদি দাবি করে বিকাশ,কিংবা জনদরদী সরকারের তকমা,তাহলে সেটি কত বড় দ্বিচারিতা হয়,বুঝতে নিশ্চয়ই সবাই পারছেন৷ এবারের বাজেটে ২ টাকা করে এক্সাইজ ডিউটি কমালেও, রাস্তা ও পরিকাঠামো সেসের লেভি বাবদ ৮ টাকা করে প্রতি লিটারে বসিয়ে দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। সরকার যদিও বলছে পেট্রোল-ডিজেলের দাম তারা আর ঠিক করে না, কিন্তু কর্নাটক নির্বাচনের সময় কিভাবে তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল?আবার নির্বাচন শেষ হতেই টানা বেড়ে চলেছে পেট্রোল-ডিজেলের দাম৷অবশ্য কখনও,কখনও ১পয়সা দাম কমার খবর সংবাদ মাধ্যমে শোনা গিয়েছে৷একটি বিষয় স্পষ্ট মুখে তেলের দাম বাড়া বা কমায় সরকারের কোনও ভূমিকার কথা স্বীকার না করা হলেও কর্ণাটক নির্বাচন দেখিয়ে দিয়েছে তেলের দাম বাড়া বা কমার সিদ্ধান্তের পিছনেও থাকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত৷তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে ঘুরপথে সরকারও তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করে?কর্নাটক ভোটের সময় তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকা,তারপর লাগাতার দাম বাড়া সেই প্রমান জোরালো করে৷ এটাই বাস্তব সত্য৷ অর্থাৎ সরকার ইচ্ছা করলে তেলের দাম কমাতে পারে,এক্সাইজ ডিউটি কমালেও কমতে পারে তেলের দাম,কিন্তু মোদি সরকারের সেই স্বদিচ্ছা নেই৷আজ এই পেট্রপন্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে চলছে ভারত বনধ৷কংগ্রেস,বাম দলগুলি সহ অন্যান্য বিরোধী দলের পেট্রল,ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি সহ মোদি সরকারের বিভিন্ন জনবিরোধী নীতির প্রতিবাদে ১২ঘন্টার বনধে সারা দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন করেছেন৷বোঝাই যাচ্ছে মানুষের পেটে ঘা দিয়ে একের পর এক জনবিরোধী নীতি কেন্দ্রীয় সরকার গ্রহন করার ফলে মোদি সরকারের জনপ্রিয়তা দ্রুত কমছে৷অবিলম্বে আবগারী শুল্ক কমাক কেন্দ্র,তাহলে তেলের দাম কমবে৷সাধারন মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাবেন৷
Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.