Header Ads

najarbandi alok somman 2018

রামকৃষ্ণ মিশনকে রাজনীতির আখড়া করা চলবে না ।


 রন্তিদেব সেনগুপ্ত: ভেবেছিলাম লিখব না কিন্তু এখন মনে হচ্ছে রামকৃষ্ণ মিশন সম্পর্কে দু চার কথা না লিখলেই নয় আমি ব্যাক্তিগত জীবনে রামকৃষ্ণ মিশনের দীক্ষিত শিষ্য মিশনের কোনো সন্যাসীকে দেখে আমি দীক্ষাগ্রহণ করিনি সারদা মা- প্রতি অবিমিশ্র শ্রদ্ধা এবং ভক্তির কারণেই মিশনে আমার দীক্ষাগ্রহণ আমার দীক্ষাগুরু প্রয়াত স্বামী আত্মস্থানন্দজি মহারাজ

তাঁর প্রতিও আমার শ্রদ্ধা অসীম স্বামী বিবেকানন্দ প্রতিষ্ঠিত একশো বছরের পুরনো এই প্রতিষ্ঠানটির কোনো রকম বিচ্যুতি আমাকে কষ্ট দেয়, ক্ষুব্ধ করে গত কয়েকবছর ধরে রামকৃষ্ণ মিশনের কার্যকলাপে এই ক্ষোভ এই দুঃখটা বাড়ছিলই   স্বামীজির চিকাগো ভাষণের স্মরণ অনুষ্ঠানে যা হল তারপর এই ক্ষোভটা প্রকাশ করা উচিত বলেই আমি মনে করি রামকৃষ্ণ মিশন কখনো কোনো রাজনীতিতে জড়াবে না --- স্বামী বিবেকানন্দের এটাই নির্দেশ ছিল এই নির্দেশ মেনে রামকৃষ্ণ মিশন কখনো জড়ায়নি রাজনীতিতে কিন্তু স্বামী সুহিতানন্দ স্বামী সুবীরানন্দদের রামকৃষ্ণ মিশন স্বামীজির সেই নির্দেশ থেকে ক্রমেই দূরে সরে এসেছে বিচ্যুত হয়েছে গতকাল বেলুড় মঠে রামকৃষ্ণ মিশনের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্ৰী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদ্যন্ত একটি রাজনৈতিক ভাষণ দিয়েছেন তাকে আমি দোষ দিই না তার মতো একজন মধ্যমেধার রাজনীতিকের নত্বষত্ব জ্ঞান না থাকারই কথা তদুপরি তিনি বলেছেন কন্যাকুমারী নাকি রামকৃষ্ণ মিশনের থেকে দখল করে নেওয়া হয়েছে

এরপর বেলুড় মঠ দখল করে নেওয়া হবে আমার প্রশ্ন মিশনের যে ব্ৰহ্মজ্ঞানী সন্যাসীরা কাল মঞ্চ আলো করে বসেছিলেন তারা কি করছিলেন মুখ্যমন্ত্ৰী না জানতে পারেন কিন্ত এই ব্রহ্ম জ্ঞানীরা তো জানেন একনাথ রানাডের প্রচেষ্টায় কন্যাকুমারীর বিবেকানন্দ শিলা খৃস্টান মিশনারিদের দখলদারি মুক্ত করে সেখানে গড়ে উঠেছিল বিবেকানন্দ স্মারক মুখ্যমন্ত্রীর মিথ্যাভাষণের প্রতিবাদ করবেন না স্বামী সুবীরানন্দ, ? যদি না করেন তাহলে কি ধরে নেব তাদেরও এই রাজনীতিতে সায় আছে মুখ্যমন্ত্ৰী অভিযোগ করেছেন রামকৃষ্ণ মিশনকে নাকি ভয় দেখানো হয়েছে রামকৃষ্ণ মিশন পরিষ্কার বলুক কারা তাদের ভয় দেখিয়েছে যদি বলতে না পারে তাহলে তারা এটা অন্তত বলুন বেলুড় মঠ বা রামকৃষ্ণ মিশন কারো রাজনীতি করার জায়গা নয়

সুবীরানন্দরা এটা বলতে পারবেন না কারণ তারাই রামকৃষ্ণ মিশনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার ছাড়পত্র শাসক দলকে দিয়েছে দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করছি কয়েকবছর যাবত মিশনের বরিষ্ঠ সন্যাসীরা শাসকদলের মনোরঞ্জন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন শাসকদলও মিশনের সন্যাসীদের পাশে বসিয়ে ক্রমাগত রাজনৈতিক বক্তব্য রেখে চলেছেন গত বছর উইম্বলডনে ভগিনী নিবেদিতার স্মৃতিতে স্মারক উন্মোচন করতে গিয়ে স্বামী সুহিতানন্দ বলে এসেছিলেন এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি জানানো হল অথচ উনি খুব ভালো মতই জানতেন ওই স্মারক প্রতিষ্ঠার পিছনে রামকৃষ্ণ মিশন বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো অবদানই ছিল না লন্ডন নিবাসী বাঙালিদের উদ্যোগেই ওই স্মারকটি বসেছিল

আমি এও জানি শুধুমাত্র শাসকদলের পছন্দের ব্যক্তি নয় বলে নিবেদিতার এক জীবনীকারকে মিশনের একটি অনুষ্ঠানে বক্তার তালিকায় রেখেও বাদ দিয়ে দেওয়া হয় স্বামী বিবেকানন্দ রামকৃষ্ণ মিশনের কয়েকজন গেরুয়া ধারীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নন তিনি আমাদের সকলের হৃদয়ে অধিষ্ঠিত এই তথাকথিত সন্যাসীদের হাত থেকে রামকৃষ্ণ মিশনকে বাঁচাতেই হবে তাই রামকৃষ্ণ মিশনের সমস্ত ভক্ত এবং শুভানুধ্যায়ীদের কাছে অনুরোধ, সকলে সমস্বরে একটিই আওয়াজ তুলুন রামকৃষ্ণ মিশনকে রাজনীতির আখড়া করা চলবে না
Loading...



Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.