Header Ads

najarbandi alok somman 2018

বিজেপি-তৃণমূল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ না পুরোটাই লোক-দেখানো? পড়ুন বিশ্লেষন। #PostEdit

অরুনাভ সেনঃ পেট্রোপন্যের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধিতে কংগ্রেস,বাম দলগুলি সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলির ডাকা ভারত বনধকে তৃণমূল সমর্থন না করায় হতবাক হয়েছেন রাজ্যের মানুষ৷অথচ তৃণমূল সর্বদা দাবি করছে তারা  বিজেপির চরম রাজনৈতিক শত্রু, আবার সেই দলটিই  বিজেপির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারে পেট্রোপন্যের মূল্যবৃদ্ধিতে লাগাম না পরাতে পারার ব্যর্থতা সহ নানা ইস্যুতে বিরোধীদের ডাকা ভারত বনধকে সমর্থন করল না৷তাহলে রাজনীতিতে  তৃণমূলের স্ট্যান্ড কি?বিজেপি বিরোধীতা নাকি বিজেপি সম্পর্কে নরম মনোভাব!

তৃণমূল বিরোধী রাজনীতিবিদরা বলছেন বিজেপি সম্পর্কে তৃণমূলের দ্বিচারিতা রন্ধ্রে,রন্ধ্রে,অস্থি,মজ্জায়৷ভুল তারা বলছেন কি?অতীতে সংসদেও দেখা গিয়েছে বহু ক্ষেত্রে মোদি সরকারকে বিব্রত না করার কৌশল নিয়েছে তৃণমূল,যার জন্য বারবার বাম ও কংগ্রেস নেতৃত্ব অভিযোগ করেছেন তৃণমূল ও বিজেপি মুদ্রার এপিঠ ও ওপিঠ৷অর্থাৎ তৃণমূল বিজেপিকে চটাতে চায় না৷বরং নিন্দুক বলছেন কোথাও আছে  দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে একটি অলিখিত সমঝেতা!চিটফান্ড,নারদ সহ অন্যান্য কেলেঙ্কারিতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলোর অত্যন্ত ধীর গতির তদন্ত বিরোধীদের অভিযোগকে কার্যত মান্যতা দিচ্ছে৷অর্থাৎ তৃণমূলের বিজেপি বিরোধীতা,কিংবা বিজেপির তৃণমূল বিরোধীতায়  কোথাও যেন একটা গন্ডি আছে৷দুটি দলই দুজনকে একটা নির্দিষ্ট সীমারেখা পর্যন্ত রাজনৈতিক আক্রমন করে, আবার নিজেদের গুটিয়ে নেয়৷
সন্দেহ নেই বাংলায় বিজেপি ক্রমশ শক্তি সঞ্চার করছে৷সাম্প্রতিক কালের বিভিন্ন নির্বাচন গুলির প্রবণতায় স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে বিজেপি এই রাজ্যে ক্রমশ তৃণমূলের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠছে৷তাহলে তাদের তৃণমূল বিরোধীতায় কেন চড়া সুর থাকবে না?বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি থেকে প্রধানমন্ত্রী এই রাজ্যে এসে তৃণমূলকে জোরালো ভাবে রাজনৈতিক আক্রমন করেছেন এমন দাবি সম্ভবত বিজেপি সমর্থকরাও করতে পারবেন না!নিন্দুক বলছেন আসলে বিজেপির জাত শত্রু বামেরা৷তাদেরকে রাজনৈতিক ভাবে আরও দূর্বল করতে বিজেপির আগ্রহ বেশি৷স্বভাবত যেখানে তৃণমূলও বাংলায় বামেদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিজেপি কখনও চাইবে না তীব্র তৃণমূল বিরোধী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তৃণমূলকে বিব্রত করতে,কিংবা বাম-কংগ্রেসকে শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ  দিতে৷বরং তারা অপেক্ষা করছে বামেদের শক্তি আরও ক্ষয় হোক৷এটাই বঙ্গ রাজনীতির আসল সমীকরন৷
কিন্তু তৃণমূল ও বিজেপি কখনও,কখনও তাদের রাজনৈতিক বিরোধীতা এত উচ্চগ্রামে নিয়ে যায় রাজনৈতিক সচেতন বিজেপি বিরোধী মানুষেরাও ভাবেন বোধহয় সত্যিই তৃণমূল, বিজেপির  বিরোধী৷অপরদিকে বিজেপি সমর্থক যারা আছেন, গ্রামে,গঞ্জে শাসকের যাবতীয় চোখরাঙানি উপেক্ষা করে দলীয় সংগঠনকে মজবুত করছেন তারাও ভাবেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সত্যিই তৃণমূল বিরোধীতা এবার আরও সক্রিয়তা দেখাবেন৷কিন্তু কোথায় কী?বরং বঙ্গ রাজনীতিতে তৃণমূল-বিজেপির রাজনৈতিক লড়াই একটা নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত গিয়ে হঠাৎ থমকে যায়৷কিন্তু তৃণমূলের না হয় কিছু বাধ্যবাধকতা আছে৷অন্তত তারা তীব্র বিজেপি বিরোধী অবস্থান নিলে হয়ত কেন্দ্রীয় এজেন্সি গুলোকে দিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বকে বিব্রত করা হবে!কিন্তু রাজ্য বিজেপির হারানোর কিছুই নেই৷তাহলে লোকসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েকমাস আগে তাদের তৃণমূলের বিরুদ্ধে তেমন রাজনৈতিক আন্দোলন কোথায়?অথচ হাতে ইস্যু ছিলনা এমন নয়৷পঞ্চায়েত ভোটের হিংসা থেকে বোর্ড গঠন, মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙে  মানুষের মৃত্যু কিংবা আরও অনেক ইস্যু নিয়ে  ধারাবাহিক রাজনৈতিক আন্দোলন করা যেত৷ কেবল কলকাতা কেন্দ্রীক কিছু আন্দোলন করে  মানুষের মন জয় করা যায়না৷বিশেষত বঙ্গীয় রাজনীতিতে যারাই ক্ষমতা লাভ করেছে,তাদেরই আছে তীব্র ধারাবাহিক রাজনৈতিক আন্দোলনের ঐতিহ্য৷বামেরা কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন করে তবেই ১৯৭৭ সালে সরকার চালানোর ছাড়পত্র পেয়েছিলো,আবার তৃণমূলও বামেদের বিরুদ্ধে সিঙ্গুর,নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সুফল ঘরে তুলেছে ২০১১সালে৷বিজেপি নেতৃত্ব নাকি হিন্দি বলয়ে খারাপ ফলের আশঙ্কা করছেন৷
তারা বাংলা থেকে লোকসভায় অন্তত ২২টি আসন জেতার ব্যাপারে আশাবাদী৷কিন্তু কিভাবে সেটি সম্ভব?মেরুকরণের রাজনীতিতে বড্ড জোর ভোট বাড়তে পারে,কিন্তু ২০/২২টা সিট জিততে গেলে দরকার মজবুত সংগঠন,তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগের বিরুদ্ধে লাগাতার প্রচার,ধারাবাহিক আন্দোলন৷কিন্তু সেই আন্দোলনের ইচ্ছাটা কি বিজেপির রাজ্য কিংবা শীর্ষ নেতৃত্বের আছে?প্রশ্ন উঠবেই,প্রশ্ন উঠছে৷অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞই বলছেন বামেদের হীনবল করতে,কংগ্রেসকে সাইনবোর্ডে পরিণত করতে বঙ্গ রাজনীতিতে তৃণমূলকে আসলে ফাঁকা মাঠে গোল করার সুযোগ দিচ্ছে বিজেপি৷অনেকে এটাও বলছেন ১৯-র ভোটে সরকার গড়ার প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলে বিজেপিকে তৃণমূলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে!হয়ত সেই কারনেই কখনও তৃণমূলের বিরুদ্ধে বাংলায় সর্বশক্তি দিয়ে বিজেপি ঝাঁপাবে না৷কোনও সন্দেহ নেই  বামেদের বিজেপি জাত শত্রু বলে মনে করে৷তাদের কাছে তৃণমূল সরকারের পতন কিংবা তৃণমূলকে রাজনৈতিক ভাবে বিব্রত করার থেকে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ বাংলায় বামপন্থীদের আরও দূর্বল করা৷সেই লক্ষেই হাঁটছে বিজেপির রাজ্য কিংবা শীর্ষ নেতৃত্ব৷উল্টোদিকে যে দলটি দাবি করে তাদের বিজেপি বিরোধীতায় কোনও খাদ নেই,তারা কিভাবে মোদি সরকারের  বিরুদ্ধে  কংগ্রেস,বাম সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির ডাকা বনধ বিরোধীতা করল?প্রশ্ন তাহলে উঠবে তৃণমূলের বিজেপি বিরোধীতা কি তাহলে রন্ধ্রে,রন্ধ্রে দ্বিচারিতায় ভরপূর,সবটাই আইওয়াশের চেষ্টা৷আসলে দুটি দলই কেউ কাউকে এমন রাজনৈতিক বিরোধীতা করবে না,যেখানে তাদের বিব্রত হতে হবে৷বরং আইওয়াশের নিরন্তর চেষ্টা চলছে,বলছেন বাম ও কংগ্রেস নেতৃত্ব,তাদের বক্তব্য বাংলায় বাম ও কংগ্রেসকে  শক্তিহীন করতে তৃণমূল,বিজেপি একই সরণি হাঁটছে৷একজনের দরকার দিল্লির কূর্শি,অন্য দলটির বাংলার৷

রাজনীতির এই ঘূর্ণাবর্তে  সাধারন রাজনীতি মনস্ক মানুষেরা কেউ ঝুঁকছেন তৃণমূলের দিকে,কেউ বা বিজেপিকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন৷দুই দলের ভোট বাড়ছে৷স্বভাবত খুশী বিজেপি ও তৃণমূল নেতৃত্ব৷কিন্তু দলের নীচু তলার কর্মী সমর্থকেরা কি খুশী হতে পারছেন?বোধহয় নয়৷যে বিজেপি কর্মী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজনীতি করছেন,তিনি অবশ্যই চাইবেন বাংলার তৃণমূলের বিরুদ্ধে আরও চাপ বাড়ানোর রাজণীতি করুক বিজেপি,উল্টোদিকে মোদি সরকারের প্রতি মোহ হারিয়ে যে মানুষগুলো তৃণমূলকে সমর্থন করছেন তাদের কাছে কি বার্তা যাবে,মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ডাকা বনধের বিরোধীতায় যেভাবে তৃণমূল ও সরকার সক্রিয়তা দেখালো তাদের মনে এই প্রশ্ন নিশ্চয়ই ধাক্কা মারবে তাহলে কি তৃণমূলের বিজেপি বিরোধীতা আসলে আইওয়াশের চেষ্ট!৷সব মিলিয়ে এটুকু বলাই যায় বঙ্গ রাজনীতিতে বাম ও কংগ্রেসকে দূর্বল করতে তৃণমূল বিজেপি একই সরণি বেয়ে ছুটছে৷
Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.