Header Ads

বাঙালির অধিকার চাই, "জয় বাংলা" স্লোগানে মুখরিত ব্যারাকপুর।

কৌশিক মাইতিঃ গঙ্গার দুই পাড়ে শিল্পাঞ্চল, বাংলার মাটি-বাঙালির মাটি, কিন্তু বাঙালি নিজভূমে পরবাসী। গঙ্গার জলে শিল্পাঞ্চলের আবর্জনার সাথে সাথে বয়ে যায় বাঙালির অশ্রুজল। এলাকা দাপিয়ে বেড়ায় এখানে কর্মসূত্রে আসা বহিরাগতরা, এ দৃশ্য পৃথিবীর অন্য প্রান্তে কল্পনাতীত। পেটের দায়ে এল, কাজ পেল, জাঁকিয়ে বসল- এখন বাঙালি ভয়ে থাকে! শুনতে আজব লাগলেও, সকলেই জানে এটাই রূঢ় বাস্তব। এলাকায় বাঙালি মেয়েরা পথেঘাটে সুরক্ষিত না। এই দুর্গাপুজোর সময় উত্তেজনা ছড়ায় ব্যারাকপুরে। ভাসানের সময় বাঙালি নারীদের ধরে ধরে শ্লীলতাহানী করে বহিরাগতরা, মার খায় বাঙালি কাউন্সিলারও। কিন্তু বাংলার রাজনৈতিক দল গুলোর মধ্যে সেভাবে হেলদোল দেখা যায়নি। সবাই নিরুত্তাপ, বাঙালির হয়ে আওয়াজ তোলার কেউ নেই। কিন্তু এ জিনিস বাঙালি মানবে না। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে ঘুরে দাঁড়াতে হয়- এটাই পৃথিবীর নিয়ম। ব্যারাকপুর নতুন এক দিন দেখল, বাঙালির আশঙ্কার আকাশে এক নতুন আশার সূর্য। গতকাল ২৭ শে অক্টোবর ব্যারাকপুরের মাটি কাঁপল বাঙালির হুঙ্কারে। প্রায় শ খানেক বাঙালির মিছিল দেখল ব্যারাকপুর। বাংলা পক্ষের সভা ও মিছিল ঘিরে উৎসাহ ও উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। এলাকায় বাঙালির কাজের অধিকার, ভাষা আগ্রাসন, উত্তর ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, নারীর সুরক্ষা ও সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরোধিতা সহ নানা পোস্টার দেখা যায় এলাকায়। স্থানীয় মানুষও একসাথে "জয় বাংলা" স্লোগানে মুখর হল।
সভার মূল সুর ছিল বাংলা ও ভারতের মাটিতে বাঙালির অধিকার চাই এবং ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের অবাঙালিরা এখানকার সংস্কৃতিকে আপন করে এখানকার মানুষের সাথে মিলেমিশে থাকুক। উত্তর ভারতীয় সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িকতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে বাঙালি রাস্তায় নেমে প্রতিহত করবে। অধ্যাপক গর্গ চ্যাটার্জী বলেন "উড়ে এসে জুড়ে বসে বাঙালিকেই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক করবেন না, অতিথিকে দরজা দেখাতে বাধ্য করবেন না। আমরা সহিষ্ণু জাতি, শান্তি ও সহাবস্থানে বিশ্বাস করি। এখানে থাকুন, একসাথে বাংলার উৎসবে সামিল হোন। বাঙালির উপর ছ্যাট পুজো, নভ্রাত্রি চাপাবেন না। মা কালী, দুর্গা, শীতলার পুজো করুন। পীর-মাজারে যান। বাংলার ঐতিহ্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। কোনো ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতাকেই এক ইঞ্চিও জায়গা ছাড়া হবে না।" এছাড়াও সাম্প্রতীক দুর্গা পুজোর ভাসানের সময় ব্যারাকপুরে বাঙালি নারীদের শ্লীলতাহানির ঘটনা নিয়ে তিনি বলেন, "বাঙালি নারীর সম্মান নিয়ে খেলবেন না। আমরা গুজরাট মডেল চাই না। বাঙালি নারীর অসম্মান করলে কত গমে কত রুটি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।"
স্থানীয় মানুষদের কথায় বারবার উঠে এল, "এরকম সভা, মিছিল ও সংগঠনের খুব দরকার ছিল।" তাই শিল্পাঞ্চলের বাঙালি যেন কিছুটা অক্সিজেন পেলে বাংলা পক্ষের সভার কারণে। সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে, গতকাল সভার পর থেকে শিল্পাঞ্চলের অনেক মানুষ বাংলা পক্ষে যুক্ত হতে চেয়ে ফোন করেছেন। প্রত্যেকেই নিজ নিজ এলাকায় মিটিং, মিছিল চাইছেন। এছাড়াও সংগঠনের পক্ষ থেকে গঙ্গার দুপাড়ে শিল্পাঞ্চলে বেশি করে নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। রিষড়া ও লিলুয়াতেও আরও জমজমাট সভা ও মিছিল হবে নিকট ভবিষ্যতে। বাঙালি তাকিয়ে থাকবে বাংলা পক্ষের এই আন্দোলন কোনদিকে যায় সেদিকে।
Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.