Header Ads

হাজার হাজার বঞ্চিত শিক্ষকের ধর্না ধর্মতলায়! রাজধর্ম পালনে কি ব্যার্থ সরকার?

নজরবন্দি ব্যুরোঃ পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক শিক্ষকেরা দীর্ঘদিন থেকেই নানান সমস্যায় জর্জরিত। কখনো বা PTT জট তো কখনো TET জট, কখনও বা নির্বাচন কমিশনের অন্যায্য কাজের চাপ তো কখনও বা মিড ডে মিলের চাপ। সমস্যা যেন কোনমতেই প্রাথমিক শিক্ষকদের পিছু ছাড়তে চাইছে না। এর মধ্যেই রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে প্রাথমিকে বেতন বঞ্চনার অভিযোগ।

২০১০ সালে এনসিটিই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেয় প্রাথমিকে শিক্ষক হতে গেলে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হতে হবে ৫০ শতাংশ নম্বর সহ উচ্চমাধ্যমিক পাশ এবং পাশাপাশি দু’বছরের ডিএলএড প্রশিক্ষণ। জোর কদমে শুরু হয় নতুন বিজ্ঞপ্তির প্রয়োগ, ২০১২ সালে শিক্ষকদের যোগ্যতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু হয়। মাধ্যমিক পাশ করা বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা চাকরি করতে করতেই উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন ৫০% বা ততোধিক নাম্বার নিয়ে৷ অন্যদিকে যে সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উচ্চ মাধ্যমিকে ৫০ শতাংশ ছিল না তাঁরা পুনরায় পরীক্ষা দেন এবং ডিএলএড সহ সরকারের সব শর্ত পূরন করেন। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় বেতন কাঠামো নিয়ে!

NCTE এর নিয়মবলে সেই কবে থেকেই শিক্ষকদের যোগ্যতা হয়ে গেছে সর্বভারতীয় মানের। অর্থাৎ উচ্চমাধ্যমিক এ ৫০% নম্বর ও ২ বছরের ডিএলএড। অথচ বেতন পাচ্ছে মাধ্যমিক যোগ্যতার। এমনকি সরকারি বেতন পোর্টালেও তাদের যোগ্যতা করে রাখা হয়েছে মাধ্যমিক। এমতাবস্থায় বেলা সাহা মামলা সহ উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারী টিচার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন গত দু বছর থেকে কিছুটা হলেও প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যে আশার আলো দেখাতে পেরেছে। তারা সমস্ত প্রাথমিক শিক্ষকদের রাজনীতির উর্দ্ধে গিয়ে এক হতে শিখিয়েছে। সবার মধ্যে তাদের নিজেদের বঞ্চনাকে চেনাতে সক্ষম হয়েছে। সঞ্চারিত করতে পেরেছে সর্বভারতীয় মানের বেতন কাঠামোর দাবীতে আন্দোলনেকে। বিগত সাত আট মাসে প্রতিটি জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক, এডুকেশনাল সেক্রেটারি, নবান্ন তে ডেপুটেশন, প্রতিটি আধিকারীককে দাবিশনদ পেশ করা হয়েছে।

গত ৭ই আগস্ট সেইরকমই এক আন্দোলনে প্রায় চল্লিশ হাজার শিক্ষকের পদধ্বনীতে গর্জিত হয়েছিল কলকাতার রাজপথ। এতকিছুর পরেও সরকারের তরফ থেকে কোন সদর্থক বার্তা না পাওয়ায় এবার আবার তারা কলকাতার শহিদ মিনার পাদদেশে অবস্থান বিক্ষোভে বসলেন, ধর্না চলবে আগামীকালও। আজ অবস্থান সমাবেশের উদ্বোধন করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মাননীয় শ্রী অশোক গঙ্গোপাধ্যায় ।  অবস্থান সমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন শিক্ষা ও রাজনৈতিক জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। সকলেই সোচ্চার হয়েছেন PRT স্কেলের দাবীতে। এছাড়াও উপস্থিত হয়েছেন কংগ্রেস নেতা তথা বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান, কংগ্রেস নেতা তথা সাংসদ অধীর চৌধুরী, সিপিআইএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তথা বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী।


প্রসঙ্গত, কেন্দ্র সহ প্রায় সবকটি রাজ্যেই ষষ্ঠ বেতন কমিশন অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতনকাঠামো হল - ৯৩০০-৩৪৮০০ ও ৪২০০। অথচ কেবলমাত্র এ রাজ্যেই যা মাত্র ৫৪০০-২৫২০০ ও ২৬০০। "পশ্চিমবঙ্গে একজন পৌরসভা ড্রাইভার ও প্রাথমিক শিক্ষকের মাসিক বেতন একই। যা শুধুমাত্র দুঃখেরই নয় লজ্জারও বটে।" বলে জানান এক আন্দোলনকারী প্রাথমিক শিক্ষক।
কেন্দ্রের ষষ্ঠ বেতন কাঠামো অনুযায়ী আমাদের রাজ্যের সমস্ত বেতনকাঠামো মানা হলেও ব্যতিক্রম একমাত্র প্রাথমিকে। একজন প্রাথমিক শিক্ষক সেন্ট্রাল এর ষষ্ঠ বেতন কাঠামো অনুযায়ী প্রতি মাসে ১০৯৪৯ টাকা কম বেতন পান! এত বিপুল বেতন ফারাক ঘোচানোর দাবীতেই বারবার পথে নেমেছে UUPTWA, আরও একবার তারা এই একই দাবীতে পথে নেমেছে।
Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.