Header Ads

সাধারণ মানুষই শক্তি, সততাই পাথেয়। ইলেক্টোরাল বন্ড ফিরিয়ে বুঝিয়ে দিলো সিপিআইএম।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ মানুষই তাদের শক্তি, আর সততাই পাথেয়। একথা আরও একবার বুঝিয়ে দিলো সিপিআইএম। বিধানসভা ভোট উপলক্ষে কর্পোরেট সংস্থার দেওয়া ইলেকটোরাল বন্ড ফিরিয়ে দিলো সিপিআইএম। দলীয় মুখপত্র পিপলস ডেমোক্রেসিতে এমন তথ্য জানিয়েছেন পলিটব্যুরো সদস্য প্রকাশ কারাত।

প্রথমেই বলে নেওয়া ভালো, কি এই ইলেক্টোরাল বন্ড? কোনো কর্পোরেট সংস্থা কোনো রাজনৈতিক দলকে সাহায্য করতে চাইলে ব্যাঙ্ক থেকে ইলেক্টোরাল বন্ড কিনে তা ওই রাজনৈতিক দলকে প্রদান করতে পারে। বন্ড ক্রয় করার ১৫ দিন পর্যন্ত ওই টাকা বৈধ থাকবে। দেশের কিছু বিশেষ স্টেট ব্যাঙ্ক থেকে কেনা যাবে বন্ড। ১০০০ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত বন্ড মূল্য৷ ২০১৭-২০১৮ অর্থবর্ষে বাজেট পেশের সময় এই ইলেক্টোরাল বন্ডের ঘোষনা করা হয়। কেন্দ্রের তরফে দাবি করা হয়, এতে দুর্নীতি কমবে। যদিও সিপিআইএম-এর বক্তব্য, এর ফলে মোটেই স্বচ্ছতা আসবে না। বরং দুর্নীতিকে আইনের রক্ষাকবচ প্রদান করা হল।

আসন্ন পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোট। সেই ভোট উপলক্ষে একটি কর্পোরেট সংস্থা ইলেক্টোরাল বন্ড প্রদান করতে চেয়েছিল সিপিআইএম-কে। কিন্তু সেই বন্ড প্রত্যাখ্যান করা হয় সিপিআইএম-এর তরফে। নৈতিকতা এবং স্বচ্ছতাকেই এক্ষেত্রে বড় করে দেখা হয়। প্রকাশ কারাত তাঁর প্রতিবেদনে বলেন, যদিও দল আর্থিক সমস্যার মধ্যে রয়েছে তবুও এই বন্ড প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। কারণ, এই ইলেক্টোরাল বন্ড আসলে কেন্দ্রীয় সরকারের দুর্নীতি ঢাকার এক প্রচেষ্টা মাত্র, বলেন কারাত। এটি আসলে ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দলের টাকা আদায় এবং টাকার জোরে রাজনৈতিক ব্যবস্থা কিনতে চাওয়ার এক পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র মাত্র। বিষয়টি আরও বুঝিয়ে বলেন তিনি। তাঁর মতে, আগে কোনো বড় কাজের বরাত পেতে হলে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলকে মোটা টাকা 'উপহার' দিতে হত। সেই ব্যবস্থাকেই আইনের বর্ম পড়ালো কেন্দ্রের সরকার। আনা হল ইলেক্টোরাল বন্ড। কিন্তু এই বন্ড যদি স্বচ্ছ হয় তাহলে কোন রাজনৈতিক দলকে কোন সংস্থা সাহায্য করে তার কিছুই প্রকাশ্যে আনা হয়না কেন? প্রশ্ন তোলেন কারাত? এই যুক্তিতেই ইলেক্টোরাল বন্ড গ্রহণ করেনি সিপিআইএম। এদিকে রাজনৈতিক দল গুলি যখন দুর্নীতিতে গলা পর্যন্ত ডুবে রয়েছে তখন সিপিআইএম-এর এই কড়া প্রত্যাখ্যান নজর কাড়ে বৈকি!
Theme images by sndr. Powered by Blogger.