Header Ads

najarbandi alok somman 2018

আধপেটা খেয়ে বেঁচে থাকা মানুষের দেশে একটা মূর্তির খরচ ৩ হাজার কোটি! #লজ্জা #Editorial

অর্ক সানা (সম্পাদক,নজরবন্দি): ভারতের 'লৌহমানব' ও স্বাধীন ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷ স্বাধীনতার আগে ভারতভূখণ্ডের ৫৬২টি রাজ্যকে একত্রিত করে রিপাবলিক অফ ইন্ডিয়া তৈরি করেছিলেন৷ রাজনৈতিক ভাবধারার বিচারে সর্দার প্যাটেলের উত্তরসূরি হিসেবে নিজেদের দলকে জোর গলায় পরিচয় দিতে শোনা যায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকে। অথচ তৎকালীন ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সর্দার প্যাটেলই হিংসাত্মক কাজকর্মের জন্য আরএসএসকে ব্যান করেছিলেন।

১৯৪৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি প্যাটেল তথা ভারত সরকার আরএসএস দলকে নিষিদ্ধ ঘোষনা করে। মহাত্মা গান্ধীকে হত্যার পর আরএসএস-এর তীব্র সমালোচনা করতে ছাড়েননি সর্দার প্যাটেল। এমনকি এরপরেই হিংসাত্মক কর্মকান্ডের অভিযোগে দলটিকে ব্যান করার সিদ্ধান্ত নেন 'আয়রন ম্যান'। সেই সময় বলা হয়, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ পরিচালিত ক্রিয়াকলাপ জাতীয়তাবাদ বিরোধী। ১৯৪৯ সালে আরএসএস প্রধান গোলওয়ালকর প্রতীজ্ঞাবদ্ধ হন যে দেশের সংবিধান এবং জাতীয় পতাকার সম্মান রক্ষা করবে তাঁর দল। এরপরে আরএসএস এর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত সরকার।
এ তো গেল ইতিহাস, বর্তমানে ফেরা যাক। সর্দার পটেলের ১৪৩তম জন্মবার্ষিকীকে উদযাপন করতে এবং ভারতের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে 'স্ট্যাচু অফ ইউনিটি' স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু এই মূর্তি স্থাপন করার মূল উদ্দেশ্য কি সত্যিই ভারতের 'লৌহমানব' সর্দার বল্লভভাই পটেল কে সম্মান প্রদর্শন? বর্তমানে বিশ্বের সবথেকে উঁচু এই মূর্তি বিশ্বের সামনে ভারতের মাথা কতটা উঁচু করল? বা আদেও করল কি? আমার বিশ্বাস মাথা নিচু হল। বিজেপি সরকারের এই সমালোচনা পড়ে আমার সমালোচনা করার আগে লেখাটা পড়ে নিন। স্বাধীনতার আগে ভারতভূখণ্ডের ৫৬২টি রাজ্যকে একত্রিত করে রিপাবলিক অফ ইন্ডিয়া তৈরি করার জনক সর্দার বল্লভভাই পটেলের মূর্তি তৈরি হবে তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করার জন্যে। আনন্দ সংবাদ, কিন্তু বড় মূর্তি মানেই বেশি সম্মান দেওয়া? আমার বিশ্বাস বিজেপি সমর্থকরা ১০০% ঈশ্বর বিশ্বাস করেন। তাই বিজেপির নেতা মন্ত্রী কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে আমার একটা প্রশ্ন আছে সেটা হল ঠাকুরের মূর্তি ছোট বা বড় হওয়ার ভিত্তিতে কি আপনার বা আপনাদের সম্মান প্রদর্শনের মাত্রা নির্ধারিত হয়? নিশ্চই নয়।অনেকে বলবেন আমাদের দেশের মূর্তি আমেরিকার স্ট্যাচু অফ লিবার্টিকে উচ্চতায় ছাড়িয়ে গেছে, খুব আনন্দ পেলেন ভেবে? দেশাত্মবোধ জেগে উঠল?
ভেবেছেন একবারও আমেরিকার একজন ভিকারি আমাদের দেশের একজন মধ্যবিত্তর থেকে অনেক বেশি সুস্থ এবং সাবলীল জীবনযাপন করেন। আমাদের বিপিএল রয়েছে, বিভিন্ন আবাস যোজনার ঘর পেতে গেলে আজও নেতা থেকে সরকারি কর্মীদের ঘুষ দিতে হয়। আর আবাস যোজনার টাকায় কি রাজপ্রাসাদ তৈরি হয় আমি আপনি সবাই জানি। ভাবছেন অপ্রাসঙ্গিক কথা কেন লিখছি? একটা শব্দও অপ্রাসঙ্গিক লেখা নেই এই কলামে। ঐক্য এনে রিপাবলিক অফ ইন্ডিয়া তৈরি করেছিলেন বল্লভভাই আর সংবিধান লিখেছিলেন বাবা সাহেব, সেই সংবিধানে লেখা রয়েছে "WE THE PEOPLE OF INDIA". অর্থাৎ কোন রাজনৈতিক নেতা মন্ত্রী দল এমনকি রাষ্ট্রপতিও একা ভারত নয়, 'উই' যার বাংলা মানে আমরা, আমরা ভারতের নাগরিক। সবার সমান অধিকার। এই অধিকারের প্রতিষ্ঠা চেয়েছিলেন ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বল্লভভাই। কিন্তু তাঁকে নিয়ে সাদা কথায় মার্কেটিং করা হল।
সর্দার পটেলের মূর্তিটি তৈরিতে খরচ হয়েছে ২ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা! ভাবা যায়?? যে দেশের বেশিরভাগ মানুষ খেতে পায়না, কৃষক কে আত্মহত্যা করতে হয়, ঋণ মুকুবের জন্যে শত-শত কিলোমিটার হেঁটে প্রতিবাদ মিছিল করতে হয় সেদেশে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকার একটা মূর্তি? সর্দার পটেল বেঁচে থাকলে কি লজ্জা পেতেন না।  সরকারের কাজ জনগনের হাজার হাজার কোটি টাকা স্রেফ জলে ফেলে দেওয়া। সরকারের কাজ ভারত মাতা কি জয় বলে মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভাষণ দেওয়া যেটা শুনলেই ভারতবাসীর খিদে মিটে যায়, অর্থের কি দরকার!! কথায় আছে না অর্থই অনর্থের মূল! ভাবছেন সরকার বিরোধী কথা বলছি, বিজেপি বিরোধী কথা বলছি? প্রধানমন্ত্রী কে ছোট দেখানোর চেষ্টা করছি? ভুল করছেন আপনি, আসলে একজন সাধারণ শিক্ষিত করদাতা ভারতবাসী হিসেবে এই লেখাটা আমার আর্তনাদ!
Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.