মধু সংগ্রহে ও চাষে লাভবান হচ্ছেন মৌমাছি পালকরা, হাসি ফুটেছে জমি মালিকদের

দক্ষিন দিনাজপুরঃ বিগত তিন বছর ধরে মধু চাষে লাভবান হচ্ছেন মৌমাছি পালকরা আর মধু চাষের দরুন উপকৃত হচ্ছেন জমির মালিকরা কার্যত হাসি ফুটেছে তাদের মুখে ।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাজুড়ে ব্যাপক সরিষা চাষ হওয়ায় সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহের সবচেয়ে ভালো জায়গা প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে দক্ষিনবঙ্গের বিভিন্ন জেলার মধু চাষিরা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় মধু সংগ্রহ করেন। সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে দক্ষিনবঙ্গের বিভিন্ন জেলার মৌমাছি পালকরা জেলার বুনিয়াদপুর, কুশমণ্ডি, হরিরামপুর, গঙ্গারামপুর, কুমারগঞ্জ, তপন, হিলি, বালুরঘাট সহ এলাকার সরিষা খেতের পাশে বাক্স বসিয়ে দু’মাস ধরে মধু সংগ্রহ করে আবার তাঁরা ঘরে ফেরেন।

বিভিন্ন জেলার মৌমাছি পালকরা অর্থ উপার্জনের জন্য এই জেলায় এসে মধু সংগ্রহ করায় এই জেলার কৃষকরাও উপকৃত হন। কারণ মৌমাছির মধু সংগ্রহের মধ্য দিয়ে ফুলের পরাগ মিলন ঘটে, যার ফলে সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।গত কয়েক বছর ধরে শীত পড়তেই এই জেলায় দক্ষিনবঙ্গের বিভিন্ন জায়গার মৌমাছি পালকরা আসতে শুরু করেন। বাক্স ভর্তি মৌমাছি নিয়ে তাঁরা সর্বত্র বিভিন্ন ঋতুর ফুলের মধু সংগ্রহ করেন। লিচু ফুলের মধু আবার কখনও কেওড়া, গড়ান ফুলের মধু সংগ্রহ করেন। এক সময় মধুচাষিরা ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বাঁকুড়া জেলার ইউক্যালিপটাস ফুলের মধু সংগ্রহ করতেন।
এক মৌমাছি পালক সুকুমার সরকার বলেন, গত তিন বছর ধরে আমরা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাতে মধু সংগ্রহ করতে আসছি। দক্ষিনবঙ্গের বিভিন্ন জেলার অনেক মৌমাছি পালকরাও এই জেলাতে আসেন। কারণ শীতের সময় সরিষা ফুল থেকেই বেশি মধু পাওয়া যায়। উত্তরের হাওয়ার সঙ্গে কুয়াশাছন্ন পরিবেশে মধু সবচেয়ে বেশি সংগ্রহ করা যায়। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাতে শীতের তীব্রতা রয়েছে। শীতের সময়ে এখানকার কৃষকেরা প্রচুর সরিষা চাষ করেন তাই আমাদের মধু সংগ্রহ করতে কোনও সমস্যা হয় না। এই জেলাতে আমরা শীতের দু’মাস থাকি। প্রতি সপ্তাহে এক একটি বাক্স থেকে ২০ কেজি মধু সংগ্রহ করি।

এ মরসুমে ১৫০ টি বাক্স এনেছি। প্রতি সপ্তাহে মধু সংগ্রহ করে আমরা আমাদের কলকাতার মহাজনকে জানাই তাঁরা এসে আমাদের থেকে মধু নিয়ে যান। গত বছরের তুলনায় এবছর আমরা একটু বেশি দাম রেখেছি, প্রতি কেজি ৮০ টাকা করে বিক্রি করছি। এই জেলাতে সর্ষের ফুলের মধু সংগ্রহ করতে এসে আমরা লাভের মুখ দেখি এবারে কি হবে বোঝা যাচ্ছে না। এখনও পর্যন্ত আবহাওয়া আদর্শ না হওয়ায় যথেষ্ট মধু আসছে না।
জেলার এক কৃষি বিশেষজ্ঞ বলেন, মৌমাছি পালকেরা আমাদের জেলায় এসে কৃষকদের উপকৃত করছেন। শুধু সরিষা ফুলই নয় প্রতিটি ফসলের ভালো উৎপাদনের জন্য মৌমাছির অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন জেলার মৌমাছি পালকরা আসতে শুরু করায় জেলার কৃষকেরা আগের তুলনায় বেশি পরিমাণ ফসল ঘরে তুলতে পারছেন।
প্রতিটি বাক্সে একটি রানি মৌমাছি ও হাজার হাজার শ্রমিক মৌমাছি থাকে। তারা ফুলের মধু সংগ্রহ করে কৃত্রিম বাসা তথা বাক্সে জমা করে। এভাবে মৌমাছি পালকেরা সপ্তাহে সপ্তাহে প্রচুর মধু সংগ্রহ করেন জেলা থেকে। তবে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় বিপাকে পড়েছেন ভিন জেলার মৌমাছি পালকরা। তুলনামূলক কম মধু পেলেও হাড় হিমকরা ঠান্ডার তবে তারা এখনি হতাশ হচ্ছেন না।
DESCRIPTION OF IMAGE
Loading...

No comments

Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.