Header Ads

TGT বেতনক্রমের দাবীতে স্নাতক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের D.I ডেপুটেশন।

 নজরবন্দি ব্যুরোঃ হাওড়া জেলার সরকার পোষিত বিদ্যালয়ের শতাধিক পাশ শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ সর্বভারতীয় স্তরে প্রচলিত টিজিটি ( Trained Graduate Teacher ) বেতনক্রমের দাবি নিয়ে ‘বৃহত্তর গ্র্যাজুয়েট টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (BGTA) এর নেতৃত্বে হাওড়া জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক ( মাধ্যমিক ) এর নিকট ডেপুটেশন দিয়ে নিজেদের দাবিপত্র তুলে দিলেন। তাদের মূল দাবি সর্বভারতীয় স্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১ লা জানুয়ারী,২০০৬ থেকে গ্রেডপে ৪৬০০ টাকা ধরে Pay fixation করতে হবে সেই সঙ্গে রাজ্যের সরকারি বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের সঙ্গে সমহারে CAS এরসুবিধাদিতেহবে। কেন্দ্র থেকে রাজ্য সব ক্ষেত্রেই NCTE র নিয়মে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়, তাই বেতন কাঠামোগত বৈষম্য অনৈতিক।
ডেপুটেশনে উপস্থিত সংগঠনের রাজ্য সভাপতি ধ্রুবপদ ঘোষাল বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে সরকার পোষিত/সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলিতে নিযুক্ত স্নাতক শিক্ষক-শিক্ষিকাগন বিগত দুই দশকেরও অধিক কাল যাবৎ সর্বভারতীয় স্তরে প্রচলিত স্নাতক-শিক্ষক বেতনক্রম থেকে বঞ্চিত। পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য অর্থদপ্তর প্রনীত রোপা রুলস্ ২০০৯ এ স্নাতক শিক্ষকদের বেতনক্রম ধার্য্য করা হয়: ৭১০০-৩৭৬০০টাকা, গ্রেডপে- ৪১০০ টাকা এবং পেফিক্সেশন করে প্রারম্ভিক মূলবেতন হয় ১২৭৫০ টাকা।আরস্নাতকোত্তর শিক্ষক- বেতনক্রম ধার্য্য করা হয় ৯০০০-৪০৫০০ টাকা, গ্রেডপে ৪৮০০ টাকা এবং পেফিক্সেশন করে প্রারম্ভিক মূলবেতন হয় ১৫৯৬০ টাকা। উভয়ের প্রারম্ভিক মূলবেতনের পার্থক্য দাড়ায় ৩২১০টাকা ঐ একই সময় কালে সর্বভারতীয় স্তরে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষকদের অভিন্ন বেতনকাঠামো দেওয়া হয়:- ৯৩০০-৩৪৮০০টাকা, এবং স্নাতকোত্তর শিক্ষকদের গ্রেডপে হয় ৪৮০০ টাকা আর স্নাতক শিক্ষকদের গ্রেডপে হয়- ৪৬০০টাকা। উভয়ের প্রারম্ভিক মূলবেতনের পার্থক্য দাঁড়ায় ১৮১৫০-১৭১৪০=১০১০ টাকা ( যেটা পঃবঙ্গে ৩২১০ টাকা )। এক্ষেত্রে লক্ষণীয় এই যে পশ্চিমবঙ্গের অর্থদপ্তর স্নাতকোত্তর শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সর্বভারতীয় স্তরের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে বেতনকাঠামো (৯০০০-৪০৫০০ টাকা) তৈরি করে তাদের গ্রেডপে ধার্য করেন ৪৮০০ টাকা যা সর্বভারতীয় স্তরে ৪৮০০ টাকাই।দুর্ভাগ্যজনকভাবে পঃবঙ্গে স্নাতক শিক্ষকদের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলকভাবে নিম্নতর বেতনক্রম (৭১০০-৩৭৬০০) গ্রেডপে ধার্য্য করা হয় ৪১০০ টাকা।উল্লেখ্য সর্বভারতীয় স্তরের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে পশ্চিমবঙ্গে রোপা রুলস্ ২০০৯ এ স্নাতক শিক্ষকদের প্রারম্ভিক মূলবেতন হওয়া উচিত ছিল ৫৫০০×১.৮৬=১০২৩০+৪৬০০=১৪৮৩০টাকা।“
সংগঠনের অন্যতম শিক্ষকনেতা পবিত্রকুমার গাঙ্গুলী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে কর্মরত স্নাতক শিক্ষকদের সমগ্র কর্মজীবনে তিনবার (৮, ১৬এবং ২৫বছরে) ক্যারিয়ার অ্যাডভান্সমেন্টের সুবিধা (CAS) প্রদানের মাধ্যমে উচ্চতর বেতনক্রমে উন্নীত করা হয়। আর সরকারপোষিত/সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলিতে কর্মরত স্নাতক শিক্ষকদের ঐ সুবিধা সমগ্র কর্মজীবনে মাত্র একবার (১৮বছরে ) দেওয়া হয়। যার ফলে সরকার পোষিত/সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ের স্নাতক শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।তাই এ রাজ্যের বঞ্চিত গ্র্যাজুয়েট ক্যাটেগরির শিক্ষকরা নিজেদের ন্যায্য দাবি অর্জনের লক্ষ্যে জোট বদ্ধ হয়েছেন এবং “বৃহত্তর গ্র্যাজুয়েট টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন” নামে শিক্ষক সংগঠন তৈরি করেছেন। প্রশাসনিকভাবে District Inspector of Schools (S.E.) শিক্ষকদের আধিকারিক, তাই ওনার মাধ্যমে আমাদের দাবিপত্র রাজ্যের শিক্ষাদপ্তরে পৌঁছে দিতে চাই। রাজ্য শিক্ষাদপ্তর ও অর্থদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আমাদের বঞ্চনার মুক্তি ঘটবে বলে আমরা আশা রাখছি।

No comments

Theme images by sndr. Powered by Blogger.