একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীতে থার্ড কাউন্সেলিং এর দাবিতে অবস্থান ডেপুটেশন আগামীকাল।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ আগামীকাল অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে রাজ্যের মাধ্যমিক পরীক্ষা। এই মাধ্যমিক পরীক্ষায় দিনই রাজ্যের একদল চাকরিপ্রার্থী অবস্থান ও ডেপুটেশনের ডাক দিয়েছে এসএসসি দপ্তরে। স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগের ক্ষেত্রে কমিশনের নানান ত্রুটি ও উদাসীনতা আগেও বারবার লক্ষ করা গেছে, এবার সংযোজন স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীর ওয়েটিং প্রার্থীদের নিয়োগ। এসএসসি এর মাধ্যমে একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা হয়েছিল ২০১৬ সালের ৪ ই ডিসেম্বরে, এবং প্যানেল প্রকাশিত হয়েছিল প্রায় একবছর পর ২০১৭ সালের ২৭ শে নভেম্বর, মোট ৫৭১১ শূন্যপদে। প্রথম ও দ্বিতীয় দফার কাউন্সেলিং পাঁচ মাসের মধ্যে শেষ হলেও অবশিষ্ট শূন্যপদে তৃতীয় দফার কাউন্সেলিং কমিশন এখনও শুরু করেনি। প্রথম দফার কাউন্সেলিং হয়েছিল ২০১৮ সালের ২৭ শে জুলাই থেকে ৪ ই আগস্ট পর্যন্ত। এই দফায় মোট ৩৭৭০ জন জন প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। অবশিষ্ট শূন্যপদে দ্বিতীয় দফার কাউন্সেলিং হয়েছিল ২০১৮ সালের ২৮ থেকে ৩০ শে আগস্ট পর্যন্ত এবং এই দফায় মোট ১১০৮ জন প্রার্থীকে নিয়োগ পত্র দেওয়া হয়। দুই দফা মিলিয়ে মোট ৪৮৭৮ জনকে নিয়োগ পত্র দেওয়া হলেও অভিযোগ এখনো ৮৩৩ জনের নিয়োগপত্র তো দূরের কথা কাউন্সেলিং পর্যন্ত করায়নি কমিশন, এছাড়াও কিছু নন জয়নিং সিট রয়েছে সব মিলিয়ে হাজারেরও বেশী সংখ্যক চাকুরী প্রার্থীর নিয়োগ এখনো বাকি রয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য কমিশনের গ্যাজেটে আপ টু ডেট ভ্যাকেন্সিতে নিয়োগ ও রেশিও মেইনটেইন করে নিয়োগের কথা বলা আছে, কমিশন এই দুটি নিয়ম মানছেনা বলে চাকরি প্রার্থীদের অভিযোগ।
এই প্রসঙ্গে এসএসসি ছাত্র যুব অধিকার মঞ্চের এক সদস্য তুহিন শুভ্র মণ্ডলের বলেন "আমরা ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে বারবার কমিশনে গেলেও কমিশনের তরফ থেকে প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছুই মেলেনি। এমত অবস্থায় আমরা আগামী ১২ ই ফেব্রুয়ারিতে ফের কমিশনে যাচ্ছি একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীর ওয়েটিংদের দ্রুত নিয়োগ ও আপ টু ডেট ভ্যাকেন্সিতে নিয়োগের দাবিতে। এর পরেও যদি না আমাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয় তাহলে আমরা চরম পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য থাকিব।" একদিকে স্কুলগুলোতে যখন শিক্ষক শিক্ষিকার অভাবে পঠন পাঠন ব্যাবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তখন নিয়োগের ক্ষেত্রে কমিশনের উদাসীনতা অত্যন্ত অপ্রাসঙ্গিক। যদিও মাধ্যমিক পরীক্ষা থাকায় তারা মাইক পারমিশন পায়নি এসএসসি ছাত্র যুব অধিকার মঞ্চ , তাই আপাতত শান্তিপূর্ণ অবস্থান ও ডেপুটেশন হবে বলে খবর।
মাধ্যমিক শিক্ষকও শিক্ষাকর্মী সমিতির পক্ষে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সম্পাদক অনিমেষ হালদার জানান, "দীর্ঘদিন এস এস সি পরীক্ষা হচ্ছে না। এতদিন পর নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলেও প্রত্যেকটি স্তরেই নানান অনিয়ম ও অভিযোগ দেখা যাচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণীর নিয়োগ প্রক্রিয়া পুরোপুরি ভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর নবম-দশম শ্রেণির নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। কিন্তু গত বছরের জুলাই ও আগস্টে একাদশ-দ্বাদশ এর প্রথম ও দ্বিতীয় কাউন্সিলিং হলেও আশ্চর্যজনক ভাবে দেখা গেল থার্ড কাউন্সেলিং না হয়েই নবম দশম শ্রেণীর নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু যায়। ফলে চরম অসহায়তার মধ্যে পড়েছেন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর এম্প্যালেন্ড ও ওয়েটিং লিস্টে থাকা চাকরিপ্রার্থীরা।
আমরা এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পরেই STEA এর সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ মিত্র এসএসসি দপ্তরে কথা বলেন। চেয়ারম্যান যথারীতি মৌখিক আশ্বাসই দিয়েছিলেন। তাই ১২ তারিখে চাকরিপ্রার্থীদের যে শান্তিপূর্ণ ঐক্যবদ্ধ অবস্থান-ডেপুটেশন হচ্ছে তাকে আমরা সর্বতোভাবে সমর্থন করি।"
শিক্ষক শিক্ষাকর্মী শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের রাজ্য কমিটির যুগ্ম সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, শিক্ষা দপ্তরের খামখেয়ালিপনা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের ফল ভোগ করতে হচ্ছে উচ্চশিক্ষিত বেকারদের যারা এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে এম্পানেলড হয়ে আছে। বছরের পর বছর এই জিনিস চলতে পারে না। অবিলম্বে নিয়োগের দাবিতে তাদের এই আন্দোলনকে আমরা সর্বতোভাবে সমর্থন করি এবং আমরা আন্তরিকভাবে তাদের পাশে রয়েছি।
DESCRIPTION OF IMAGE

No comments

Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.