কোন এক অজানা কারণে আচমকা বন্ধ ‘ভবিষ্যতের ভূত’-এর প্রদর্শন!

নজরবন্দি ব্যুরোঃ একটু আগে থেকে শুরু করি।তখন কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব চলছে।উৎসবের মঞ্চ থেকেই তিনি নন্দন চত্বর জুড়ে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
একটি আলোচনা সভায় বলেছিলেন ‘‘সিনেমা এখন আর পরিচালক, প্রযোজকদের বিষয় নয়, নন্দন প্রাঙ্গণে যাঁর ছবি ছড়িয়ে আছে, বাস্তবে তিনিই বোধহয় সিনেমার একমাত্র ব্যক্তিত্ব।’’ মন্তব্যের সমর্থনে ওনার যুক্তি ছিল, ‘‘একটি চলচ্চিত্র উৎসবের প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ছবিসর্বস্ব হোর্ডিং, কাট আউট লাগানো হবে কেন? এটা অর্থহীন এবং মোটেই নান্দনিক নয়। এবার হইত আর বলেদিতে হবে না ঐ ব্যক্তিটি কে? তবুও বলছি তিনি পরিচালক অনিক দত্ত। তাঁর পরিচালিত ছবি ‘ভবিষ্যতের ভূত’। কিন্তু ছবি মুক্তির এক দিনের মধ্যে অর্থাৎ শনিবারই এ রাজ্যের প্রায় সমস্ত সিনেমা হল থেকে সরিয়ে নেওয়া হল ছবিটি! এ দিন বিকেলে বিভিন্ন হলে যাঁরা ছবিটি দেখতে গিয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশকেই বলা হয়েছে, ‘সিনেমা উঠে গিয়েছে’।

 আগে থেকে টিকিট কাটা থাকলে তার টাকা ফেরত দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে বিভিন্ন জায়গায়। পরিচালক এই ব্যাপারে কি জানালেন? তিনি বললেন ‘‘মুক্তির দিন তিনেক আগে প্রযোজকদের কাছে পুলিশের তরফে ছবিটি দেখতে চাওয়া হয়। কিন্তু প্রযোজকেরা জানিয়ে দেন, ছবিটি সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র নিয়ে এসেছে। ফলে, ছবিতে এমন কিছু নেই যা থেকে সমস্যা হতে পারে। আমার মনে হয়, ছবিটির প্রদর্শন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রযোজকেরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’’কিন্তু কেন আচমকা বন্ধ করে দেওয়া হল সিনেমাটি? কোনও হল কর্তৃপক্ষই এ বিষয়ে কথা বলতে চাননি।ছবিটি দেখতে গিয়ে দর্শকদের কে বিভিন্ন হলে বলা হয়েছে টেকনিক্যাল ইস্যুর জন্য সিনেমাটা দেখানো যাবে না। বা কোথাও বলা হয়েছে ওপর মহল থেকে অর্ডার আছে।

ছবি দেখতে গিয়ে এমন বিড়ম্বনার মধ্যে পড়ে ক্ষুব্ধ দর্শকরা। একই রকম ভাবে ক্ষুব্ধ ওই ছবির কলাকুশলীরাও।এ দিন ছবিটি দেখতে যাওয়া দর্শকদের প্রশ্ন, কী এমন রয়েছে যাতে ‘ওপরমহল’ তা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হল? প্রথম দিনই যাঁরা সিনেমাটি দেখেছেন, তাঁদেরই কয়েক জনের ব্যাখ্যা, আসলে পরিচালক তাঁর ছবিতে বুঝিয়েছেন, কিছু মানুষ তাঁদের কাজ, চিন্তাভাবনা বা রাজনৈতিক বিশ্বাসের জন্য জীবিত অবস্থাতেই কোণঠাসা হয়ে যায় এই সমাজে। দেখিয়েছেন, শাসক-ক্ষমতা বা সমসাময়িক সিস্টেমের দিকে যে বা যাঁরা আঙুল তুলেছেন তাঁরাই অবশেষে ভূতে বিলীন হয়েছেন।


 পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি, মাচা থেকে মঞ্চ, ভিলেনের মাথায় অক্সিজেন কম যাওয়া, চড়াম চড়াম থেকে হোক কলরব— সমসাময়িক অনেক ঘটনাই অনীক রেখেছেন তাঁর চিত্রনাট্যে। তাহলে একজন শিল্পীর স্বাধীনতা কোথায়? রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয়ও সরকারের সমালোচনায় মুখোর থাকেন এই ব্যাপার গুলো নিয়ে। আর সেই একই ঘটনা ঘটে রাজ্যে। না পরিচালক মহাশয়ের চলচ্চিত্র উৎসবে করা মন্তব্যের ফল হাতেনাতে পাচ্ছেন তিনি? উত্তর জানার অপেক্ষায় রাজ্যবাসী।
Loading...

No comments

Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.