ভোট কর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবিতে ডেপুটেশন শিক্ষক ঐক্য-মঞ্চের!

নজরবন্দি ব্যুরো: আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে ভোট কর্মীদের নিরাপত্তা দাবিতে চিফ এলেক্টরাল অফিসার সহ বিভিন্ন জেলার ডিএম এবং আঞ্চলিক স্তরে বিভিন্ন এলাকার বিডিওর কাছে শিক্ষক শিক্ষাকর্মী শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের পক্ষ থেকে ডেপুটেশন চলছে।
গত ৩০ শে জানুয়ারি কলকাতায় নির্বাচন কমিশনের দপ্তর অ্যাডিশনাল ইলেক্টোরাল অফিসার সঞ্জয় বসু সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এক প্রতিনিধি দল, পরে তাদের দাবি পত্র পেশ করেছিলেন। কিছু প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেলেও সুনিশ্চিত ভাবে বিভিন্ন বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে পারেননি সঞ্জয়-বাবু। তাই আগামী ১৯ এ মার্চ, কলকাতার নির্বাচন কমিশনের দপ্তর পুনরায় ডেপুটেশনের কর্মসূচি দিল শিক্ষক শিক্ষাকর্মী শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চ।
এই প্রসঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী-শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের রাজ্য কমিটির যুগ্ম সম্পাদক কিংকর অধিকারী ও ভাস্কর ভট্টাচার্য্য বলেন ভোটকর্মীর নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা যে গুরুত্বপূর্ণ দাবীগুলি নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরছি সেগুলি হল--

১।  আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে ভোট-গ্রহণের জন্য বুথ পিছু প্রিজাইডিং অফিসারের সহিত 6 জন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী সহ অন্যান্য বাহিনী দিয়ে ভোটার এবং ভোট কর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।

২।  স্পর্শকাতর বুথগুলিতে দ্বিগুণ হারে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবস্থা রাখতে হবে।

৩।  ভোট গ্রহণের শেষে ভোট বাক্স জমা দেওয়ার পর রিলিজ অর্ডার দিয়ে দিলেই নির্বাচন কমিশনের সমস্ত দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। ভোট গ্রহণের জন্য ভোট কর্মীদের বাড়ি থেকে বাহির হওয়ার পর থেকে বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত তাঁর জীবনের সমস্ত নিরাপত্তার ভার নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে। 

৪।  ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে ভোট কর্মীদের যথাযথ নিরাপত্তাসহ থাকা, খাওয়া এবং শৌচালয়ের যথেষ্ট ব্যবস্থা রেখে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করতে হবে।

৫।  প্রিজাইডিং অফিসারের অভিযোগের ভিত্তিতে সেক্টর অফিসার বা রিটার্নিং অফিসার যথাযথ ভূমিকা পালন না করে প্রিজাইডিং অফিসারকে অনৈতিক কাজে বাধ্য বা প্ররোচিত করলে নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনকে তৎক্ষণাৎ উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৬। শুধু মৌখিক আশ্বাস নয়, একজন ভোটকর্মী বাড়ি থেকে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে পৌঁছানো এবং ভোটিং মেটেরিয়ালস জমা দেওয়ার পর বাড়ি ফেরার জন্য উপযুক্ত যানবাহন যথেষ্ট পরিমাণে রাখতে হবে।

৭।  ভোটকর্মীদের হতাহতের ঘটনায় তৎক্ষণাৎ উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। যে কোন ভোটকর্মী অসুস্থ বা আহত হলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ সহ চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে।

৮।  প্রতিবন্ধীদের ভোট কর্মী হিসাবে নিয়োগ করে তাঁদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

৯। ভোট কর্মীদের পোস্টাল ভোট বুথ অনুযায়ী গণনা না করে বিধানসভা বা লোকসভা কেন্দ্রের সমস্ত পোস্টাল ব্যালটকে একসাথে মিশিয়ে গণনা করতে হবে।

১০।  ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ভেতরে এবং বাইরে সিসিটিভি বসাতে হবে পুরো বিষয়টি স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনা করার জন্য।

১১।  ভোট সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য কমিশনের ডাকা বৈঠকে অন্যান্যদের পাশাপাশি ঐক্যমঞ্চের প্রতিনিধিদেরও ডাকতে হবে। কেননা, আমরাই কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েও ভোট গ্রহণ করার কাজটি করে থাকি।

উল্লেখিত এই দাবিগুলি কার্যকর করার দাবিতে দীর্ঘদিন থেকে সোচ্চার এই মঞ্চ। লোকসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর ঐক্য মঞ্চ ভোট কর্মীদের নিরাপত্তা দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন দপ্তরে বিক্ষোভ ও ডেপুটেশন দিয়ে চলেছে। আগামী ১৯ শে মার্চ, মঙ্গলবার বেলা ১১ টার সময় কলকাতায় চিফ এলেক্টরাল অফিসে মঞ্চের পক্ষ থেকে ডেপুটেশনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টি যথার্থভাবে গুরুত্ব দিয়ে কমিশন যদি তার ভূমিকা পালন না করেন তাহলে ঐক্য মঞ্চের পক্ষ থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের আহ্বান জানানো হবে বলে বলা হয়েছে।


















Loading...

No comments

Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.