আদালতের নির্দেশ মানেননি পে কমিশনের চেয়ারম্যান।আবার আইনের দ্বারস্থ শিক্ষক সংগঠন বিজিটিএ।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ পশ্চিমবঙ্গের সরকার পোষিত ও সরকারি সাহায্য প্রাপ্ত বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক স্তরের জন্য নিযুক্ত গ্র্যাজুয়েট ক্যাটেগরি শিক্ষক গন পরপর দুটি পে কমিশনে (ROPA 98, ROPA2009 ) তাদের প্রাপ্য পে স্কেল থেকে বঞ্চিত হন। যেখানে ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনে একজন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ও গ্র্যাজুয়েট ক্যাটেগরি শিক্ষকের বেসিক পে তে পার্থক্য ছিল মাত্র 1000টাকা সেখানে পশ্চিমবঙ্গে ROPA 2009 এ এই পার্থক্য ছিল 3210টাকা। শুধু তাই নয় পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা দপ্তর 1998সাল থেকে 2013পর্যন্ত NCTE আইন না মেনে সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে অনার্স গ্র্যাজুয়েট দের উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের জন্য নিয়োগ করে এবং উচ্চ পে স্কেল দেয়।

 শুধু তাই নয় রাজ্যের সরকারি স্কুলের শিক্ষক গন বর্তমান নিয়মে সমগ্র কর্মজীবনে তিন বার প্রোমোশন পেলেও সরকার পোষিত ও সাহায্য প্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক গন এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বঞ্চনার শেষ এখানেই নয় পশ্চিমবঙ্গের মাধ্যমিক স্তরের জন্য নিযুক্ত শিক্ষক দের পাস গ্র্যাজুয়েট ক্যাটেগরি নামক এক অবমাননাকর নামে অভিহিত করা হয়। এই সব বঞ্চনার অবসানে এই শিক্ষক গন গড়ে তোলেন বৃহত্তর গ্র্যাজুয়েট টিচার্স এসোসিয়েশন (বিজিটিএ )নামক এক অরাজনৈতিক শিক্ষক সংগঠন।
এই সংগঠনের সদস্য মহঃ সাবির আলি ,সতীশ মাহাতো, অনাথ নাথ প্রমুখ কয়েকশো সদস্যদের করা মামলায় 2018সালের মে মাসে কলকাতা হাইকোর্টের মহামান্য বিচারপতি শেখর বি শরাফ মামলাকারী দের যাবতীয় দাবি খতিয়ে দেখে পে কমিশন কে বিবেচনা করার নির্দেশ দেয়। এছাড়া স্বপন কুমার মন্ডল , নীলাদ্রি সমাদ্দার প্রমুখ কয়েকশো গ্র্যাজুয়েট শিক্ষক দের দায়ের করা অপর দুটি মামলায় হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় শিক্ষক গন পে স্কেল সংক্রান্ত যে সমস্ত অনিয়মের বিষয় জানিয়েছেন তাদের পিটিশনে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এবং হাইকোর্টের নির্দেশে এও বলা হয়েছিল যে প্রয়োজনে শিক্ষা দপ্তর ও অর্থ দপ্তর এর থেকে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি ও সাহায্য নেবে পে কমিশন।
 শিক্ষক দের অভিযোগ কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্যেও পে কমিশন এর তরফে দুই বারই মেম্বার সেক্রেটারি চিঠি দিয়ে জানান যে বিষয়টি চেয়ারম্যানের কাছে যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও এখনও ইতিবাচক কিছু না হওয়ায় শিক্ষক গন আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেন।গতকাল 12.6 .2019 ,মামলাকারীদের তরফে আইনজীবী অনিন্দ্য বসু মাননীয় বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এই ব্যাপারে । মহামান্য বিচারপতি শেখর বি শরাফ ফের নির্দেশ দেন পে কমিশনের চেয়ারম্যানকে নোটিশ দিয়ে বিষয়টা জানাতে । সেই সঙ্গে তিনি নির্দেশ দেন যে, তিন সপ্তাহ পরে এই মামলার পুনরায় শুনানি হবে । এই প্রসঙ্গে বিজিটিএ এর রাজ্য সম্পাদক সৌরেন ভট্টাচার্য্য মহামান্য আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন মাননীয় পে কমিশনের চেয়ারম্যান এর কাছ থেকে আরও সদর্থক ভূমিকা আমরা আশা করেছিলাম কারণ এতে লক্ষাধিক শিক্ষকের আর্থিক ও সামাজিক সুবিচারের বিষয়টি জড়িয়ে। তিনি আরও বলেন যে আমরা তাকিয়ে আছি পে কমিশন চেয়ারম্যান মাননীয় আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কি ব্যবস্থা নিয়েছেন সেই জবাবের দিকে।
Loading...

No comments

Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.