দুঃখের আবহে আনন্দের আতিশয্য,চোখের জলে ইতিহাস অনশন মঞ্চে! শুভ জন্মদিন মাস্টারমশাই।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ন্যায্য বেতনের দাবিতে অনশন করছেন ১৮ জন প্রাথমিক শিক্ষক, গত ৯ দিন ধরে বিকাশ ভবনের পাশে চলছে উস্তি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশেনের ধর্না।অনশন বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন রাজ্যের কয়েক হাজার প্রাথমিক শিক্ষক, তাদের দাবি পিআরটি স্কেল অর্থাৎ কেন্দ্রীয় হারে বেতন। গ্রেড পে ৪২০০ টাকা করতে হবে পাশাপাশি বহুদূরে ট্রান্সফার হওয়া ১৪ জন প্রাথমিক শিক্ষককে ফিরিয়ে আনতে হবে।

গতকাল উস্থির পাঁচ জন প্রতিনিধির সঙ্গে বিকাশ ভবনে শিক্ষামন্ত্রীর প্রায় ১ ঘন্টা ১৫ মিনিট বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে দাবি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়ে দেন, "এমন কোন রুল নেই যে পিআরটি স্কেল দিতেই হবে। শিক্ষকদের অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তার বক্তব্য, "ওরা ধর্না অনশন চালিয়ে যাক আমাদের কিছু করার নেই।" শিক্ষকরা আশা করেছিলেন আজ ২১শে জুলাই তৃণমূলের শহীদ দিবসের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন, আসার আলো দেখবেন তাঁরা। কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন "যাঁরা কেন্দ্রের হারে মাইনে চান, তারা কেন্দ্রে যান! কাজ কর্ম নেই রাস্তায় বসে আছে সব!"
অন্যদিকে আজ অনশন মঞ্চ সাক্ষী হল এক ভয়ঙ্কর সুন্দর দৃশ্যের। অনশনকারী শিক্ষক পিন্টু মোদকের আজ জন্মদিন। অনশন চলছে তাই তার জন্মদিনে কেক কাটা হয়নি, মিষ্টিও পাতে পড়েনি বরং জন্মদিন পালন হল গিটারের সুর আর ফুলের স্তবকে। দুঃখের আবহে আনন্দের আতিশয্যে বিরাট শিক্ষক পরিবার কে পাশে পেয়ে আপ্লুত পিন্টু কেঁদেই ফেললেন। নজরবন্দি পরিবারের তরফ থেকেও শুভেচ্ছা রইল শিক্ষক পিন্টু মোদক কে, এমন দিন বার বার আসে না! শুভ জন্মদিন মাস্টারমশাই।
তাঁর সহকর্মীরা অকুন্ঠ ভালবাসা আর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাঁকে। এক সহকর্মী গৌতম সাহা ফেসবুকে শিক্ষকদের গ্রুপে লিখেছেন, "আজ আমাদের সবার প্রিয় অনশনকারী বীর উস্থিয়ান পিন্টু মোদকের শুভ জন্মদিন।তার জন্মদিনে আমাদের হার্দিক শুভেচ্ছা রইল। তার এই সুখের দিনে সমস্ত প্রাথমিক শিক্ষকসম্প্রদায় তোমাকে কুর্নিস করছে। প্রাথমিক সমাজের প্রতি দীর্ঘ বঞ্চনা ও অসম্মানের অবসানে তোমার দৃঢ়চেতা ও সাহসী ভূমিকা চীর স্বরণীয় হয়ে থাকবে।আমাদের ও তার কাছে দিনটা বড়ই বেদনার কারণ গত সপ্তাহ থেকে অনশন করে থাকায় আমরা তোমাকে একটুও কেক বা মিষ্টি খাওয়াতে পারিনি।তবে গিটারের সুরে জন্মদিনের গানে তোমাকে আমরা শুভেচ্ছা জানালাম।সেই দৃশ্য ছিল বড়ই আবেগের। অনেকেই চোখে জল ধরে রাখতে পারল না।তবে তোমার এই আত্মত্যাগ একদিন আমরা সুদে আসলে পুষিয়ে দেবই কথা দিচ্ছি।আজ যাদের জন্য তোমার ও আমাদের অনেকের চোখে মুখে হাসির পরিবর্তে জল নেমে এল সমগ্র প্রাথমিক শিক্ষক সমাজ তাদেরকে কোন দিনই ক্ষমা করতে পারবে না।তোমার দীর্ঘ জীবন কামনা করি ও জীবনে সমৃদ্ধি কামনা করি।দ্রুত অনশন শেষ করে বাড়িতে পরিবারের কাছে ফিরে যাও এই কামনা করি।"

DESCRIPTION OF IMAGE
Loading...

No comments

Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.