বেতন বড়তে চলেছে প্রাথমিক শিক্ষকদের, কিন্তু কতটা? কোথায় ফাঁকি! #Exclusive

নজরবন্দি ব্যুরোঃ টাকা দিতে হয়েছে তবে চাকরি পেয়েছেন বা টাকার বিনিময়ে চাকরি পেয়েছেন এই অভিযোগ ঘোরাফেরা করে গ্রাম থেকে শহরে। এবার এই অভিযোগের ওপর থেকে পর্দা হটানোর চেষ্টা করলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জী। শিক্ষাবাজেট নিয়ে আলোচনার সময় বৃহস্পতিবার সিপিআইএম বিধায়ক প্রদীপ সাহা অভিযোগ করেন টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়া হচ্ছে রাজ্যে। টাকা দিয়ে অনেকের বাড়ির সব আত্মীয়, এমনকী ড্রাইভারও স্কুলে চাকরি পেয়ে গিয়েছে।
প্রদীপ বাবু আরও বলেন, জনসংখ্যা বাড়লেও ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা কমছে রাজ্যের সমস্ত স্কুলে! কেন? প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকটি ক্লাস পরিচালনার জন্য খুব কম হলেও ৫ জন শিক্ষক প্রয়োজন হয়, সেখানে এক একটি স্কুলে শিক্ষক আছেন ৩ জন৷আরও পড়ুনঃ শিক্ষকদের ওপর আক্রমনের প্রতিবাদে ও PRT-র দাবিতে বিধানসভা অভিযান ৭ই। এছাড়া ক্লাসের বাইরে মিড ডে মিল, কন্যাশ্রীর কাজ, এমনকি জুতো বিলির কাজও করতে হচ্ছে শিক্ষকদের৷তাহলে কীভাবে স্কুলে পড়াশুনো চলবে? শিক্ষামন্ত্রী জবাব দিতে গিয়ে বলেন, "টাকা নিয়ে চাকরির কথা অনেকে বলছেন, সে তো আমিও জানি, শুনিও। কিন্তু কেউ তো সামনে এসে নির্দিষ্ট করে বলেন না, কোন লোকটা এই কাজটা করেছেন!"
তিনি জানিয়ে দেন যারা টাকা নিয়ে চাকরি দিচ্ছেন এবং যারা টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দু-পক্ষের বিরুদ্ধেই দৃষ্টান্তমূলক ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, স্কুল সার্ভিস কমিশনের অস্বচ্ছতা মেটাতে এবার থেকে অনলাইনে প্রকাশ করা হবে সফল পরীক্ষার্থীদের নামের তালিকা, তুলে দেওয়া হবে ওয়েটিং লিস্ট।
শিক্ষকদের জন্যেও পার্থ বাবু ভাল খবর দেন। এদিন, তিনি বলেন দীর্ঘদিন প্রাথমিক বা উচ্চ প্রাথমিকের শিক্ষক থাকাকালীন নতুন ভাবে পরীক্ষা দিয়ে কেউ উঁচু ক্লাসের শিক্ষক হলে, তিনি তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা ও বেতনে বাড়তি সুবিধা অর্থাৎ ‘পে প্রোটেকশন’ পাবেন। পাশাপাশি, মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র এবং শিশু শিক্ষাকেন্দ্রের সম্প্রসারকদের পার্শ্বশিক্ষকদের সমতুল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, কলেজের অতিথি শিক্ষকদের মধ্যে যাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নিয়মমাফিক যোগ্যতা রয়েছে, তাঁদের কলেজে সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে স্থায়ী করার ক্ষেত্রে বাড়তি ‘ওয়েটেজ’ দেওয়া হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। অন্যদিকে বেতন বৃদ্ধি ইস্যুতে তিনি বলেন, SSK/MSK দের সমকাজে সম বেতনের দাবি মেটাবে রাজ্য। পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষকদের মাদ্রাসা শিক্ষকদের হারে গ্রেড পে দেবে রাজ্য সরকার। অর্থাৎ বেতন হতে পারে ৭১০০ / ৩২০০ - ৩৬০০!
তবে এই সিদ্ধান্তে খুশি নন প্রাথমিক শিক্ষকরা, উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারী টিচার্স অ্যাশোসিয়েসান এর সম্পাদিকা পৃথা বিশ্বাস জানিয়ে দেন তাঁরা পিআরটি স্কেলের দাবি থেকে নড়ছেন না। কারন হিসেবে তিনি বলেন "মাদ্রাসা শিক্ষকদের যোগ্যতামান উচ্চমাধ্যমিক পাশ, ডিপ্লোমা থাকলে ভালো না থাকলেও চলে কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে উচ্চমাধ্যমিকে ৫০% নাম্বার অথবা গ্রেজুয়েট হতেই হবে পাশাপাশি ডিএলএড ২ বছরের ডিপ্লোমা বাধ্যতামূলক! তাহলে বেতনক্রম একই কিভাবে হতে পারে? পিআরটি স্কেল না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের দাবী থেকে একচুল নড়ছি না আমরা।" 
Loading...

No comments

Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.