জ্যোতি বসু, আবালবৃদ্ধ বনিতার প্রকৃত জননেতা। #SpecialArticle

অরুনাভ সেনঃ আজ সবার জ্যোতি বসুর কথা মনে পড়ছে৷আসলে তিনি কমিউনিষ্ট হয়েও কোথাও যেন অতিক্রম করেছিলেন প্রতিষ্ঠানকে৷হয়ত সেই জন্য তিনি বাঙালির হৃদয়ে জন নেতা,আবেগে জননেতা,তিনিই প্রকৃত জননেতা জ্যোতি বসু৷সন্দেহ নেই ভারতীয় রাজনীতিতে তিনি কিংবদন্তী৷বাংলার সাম্প্রতিক রাজনীতিতে হয়ত আজ অনেকে নষ্টালজিক হয়ে বলছেন জ্যোতি বসুরা ক্ষনজন্মা৷
আর দ্বিতীয় জ্যোতি বসু হয়ত ভারতীয় রাজনীতিতে আসবেন না!তাঁর জন্মদিন,সবাই শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করবেন এটাই স্বাভাবিক৷শুধু এটুকু বলা যায় তিনি বাংলার প্রান্তিক মানুষকে "মানুষ" হিসেবে নিজের পরিচয় দেওয়ার স্পর্ধার অধিকার দিয়েছিলেন৷তিনি জমিদার,জোতদারদের সারাদিন খাটিয়ে গরিব মানুষদের প্রাপ্য পারিশ্রমিকের অধিকার আদায় করতে শিখিয়েছিলেন৷তিনি জ্যোতি বসু,ভারতীয় রাজনীতির বর্নময় চরিত্র,কিংবদন্তি৷একটু ফ্লাশ ব্যাকে ফেরা,একজন বিলেত ফেরত ব্যারিস্টার,যার প্র্যাকটিসে গোছা,গোছা টাকা আয় করার কথা,জীবনকে উপভোগ করার কথা উচ্চবিত্ত জীবনের অনায়াস স্বাচ্ছন্দ্যে,কিন্তু তেমন কিছু ঘটল তাঁর জীবনে৷
বরং ভাগ্যের কি পরিহাস তিনি ভিড়ে গেলেন আমার-আপনার মত সাধারন খেটে খাওয়া মানুষের ভিড়ে৷তিনি সমাজকে দেখেছেন প্রকৃত বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এবং তাকে রূপায়ন করেছেন যথার্থ প্রথম শ্রেণীর শিল্পীর ন্যায়৷বস্তুবাদী,প্রগতিশীল মানুষ বাস্তবতাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে না,বস্তুবাদী রাজনীতিবিদ অবশ্যই বাস্তবতার রিপোর্টার নন,কিন্তু মিথ্যার সঙ্গে তাঁর কল্পনার সমঝেতা থাকবে না৷সুর্দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থাকা অবস্থায় জ্যোতি বসুর বিভিন্ন কর্মকান্ডের মধ্যেই সব প্রমানিত৷নিঁখুত পলিটিক্যাল কেরিয়ার,সাফল্যের ঝকঝকে সিঁড়ি বেয়ে কেবলই জনগনের জন্য নিজেকে সমর্পিত করার আন্তরিক তাগিদ জ্যোতি বসুকে কোটিতে স্বতন্ত্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করেছে৷আদর্শের সঙ্গে স্বার্থের দ্বন্দ্ব ব্যক্তি জীবনের বেশ অপরিহার্য অঙ্গ৷মানুষ জ্যোতি বসুর জীবনে নিশ্চয়ই আদর্শের সঙ্গে ব্যক্তি স্বার্থের সংঘাত বেঁধেছে,কিন্তু সবাই জানেন অবলীলাক্রমে তিনি অতিক্রম করেছেন ব্যক্তি স্বার্থের প্রাচীর৷
স্ট্যান্ট দেওয়া বা গিমিকের রাজনীতি নয়,সমষ্ঠির সামগ্রিক উন্নতির জন্য তাঁর রাজনৈতিক ভাবনা আজ দেশের মাটি ছাড়িয়ে সারা বিশ্বে সমানভাবে সমাদৃত৷শিল্পায়নের লক্ষে তাঁর আন্তরিকতা প্রমান করেছে সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী হওয়ার অর্থ কেবল নৈতিকতা,মূল্যবোধ বা আদর্শের কচকচানি নয়৷বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভাবে প্রভাবশালীদের ব্যারিকেড ভেঙে সাধারন মানুষের মৌলিক উন্নতিতে কিছু করা৷অন্তত দেশের সমকালীন পরিস্থিতি অনুযায়ী বিকল্প অর্থনীতির জন্ম দেওয়া,যার মধ্যে মিলবে মার্কসবাদের ছোঁয়া,যা মানুষকে দুটো অন্ন,বস্ত্র সহ অন্যান্য মৌলিক চাহিদার যোগান সহজ করবে৷তাই আজ বলতে ইচ্ছা করে দৃপ্তকন্ঠে রাজনীতি,শুষ্ক রাজনীতি তাঁকে দিয়েছে গ্ল্যামার৷তিনি জ্যোতি বসু,তিনি বরেণ্য,তিনি বাঙালির চিরকালের জননেতা৷
Loading...

No comments

Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.