'জমুরিয়ত,ইনসানিয়াত,কাশ্মীরীয়ত' এর ডঙ্কা কি বাজবে উপত্যকা জুড়ে?

নজরবন্দি ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ী, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিভ এয়্যালায়েন্স (এনডিএ) ক্ষমতায় কেন্দ্রে। ঠিক সেই সময়ে উপত্যকায় পা রেখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ী 'জমুরিয়ত, ইনসানিয়াত, কাশ্মীরীয়ত' এর বার্তা ছুঁড়ে দিয়েছিলেন। বার্তা ছিল লাউড এন্ড ক্লিয়ার 'শান্তির'। আমল দেয়নি কেউই। পাকিস্তান, আইএসআই, পাক সেনা, হিজবুল বা লস্কর-ই-তৈবার মতো জঙ্গি সংগঠন। ঘরের ভিতরেও এই বার্তা শুনে ভ্রুকুঁচকে ছিল উগ্র হিন্দুতবের ধ্বজাধারী আরএসএসের মতো সংগঠন। কিন্তু এই বার্তা ছিল সময়োপযোগী, বাস্তবভিত্তিক। ৩৭০ ধারা বহাল তখন উপত্যকায়। 'আজাদির' স্লোগান তখনও উপত্যকায় উঠেছে, আজকের মতো। কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ীর বার্তা সব পক্ষকেই ভাবিয়ে তুলেছিল।

 আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ এন্ড হিজ কোম্পানির কৌশল ৩৭০ ধারা রদ জমুরিয়ত, ইনসানিয়াত, কাশ্মীরীয়তের বার্তায় জোর ধাক্কাই শুধু নয়, ব্যক্তি স্বাধীনতা, মানবাধিকার, সমানাধিকার তত্ত্ব এর ওপর কষিয়ে ঠাপ্পড়। আধাসামরিক বাহিনীর ভারী জুতোর আওয়াজ, কালশনিকভ হাতে উর্দিধারিদের রক্তচক্ষু, ছররা গুলি বর্ষণ কাশ্মীরি তরুণ সমাজকে জাতীয় জীবনের মূলস্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য যথেষ্ট। ৩৭০ ধারা বিলোপ চলতি বছরের ৫ আগস্ট। এই তারিখের এক বছর আগে থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী উপত্যকা জুড়ে জারি রেখেছিল 'অপারেশন অলআউট', জঙ্গি বিরোধী দমন অভিযান। সুনির্দিষ্টভাবে দক্ষিণ কাশ্মীর জুড়ে অপারেশন অলআউট জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে ত্রাসের সৃষ্টি করতে পারলেও কাশ্মীরি 'আবাম' বা জনতা, বিশেষত তরুন সমাজ প্রতিবাদে পাথর হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েছিল।
 জায়গায় জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী তথা সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অমিত শাহ এন্ড হিজ কোম্পানির অধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে। ৩৭০ ধারা রদ করে উপত্যকার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা নয়, অধিকার লুঠ করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ এন্ড হিজ কোম্পানি। জমুরিয়ত,ইনসানিয়াত, কাশ্মীরিয়ত এই ষড়যন্ত্রের থেকে শত যোজন দূরে অবস্থান।
Loading...

No comments

Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.