রাজ্য সরকারের এলটিসি ঘিরে দুর্নীতিঃ মলয় মুখোপাধ্যায়

নজরবন্দি ব্যুরোঃ বিগত বাম আমলে হোম এন্ড ট্র্যাভেলস(এলটিসি) তে স্যান্ডিং অর্ডার ছিল। ক্ষমতার পালাবদলে রাজ্য সরকার শর্ত আরোপ করে। সরকারি কর্মচারিদের মুচলেকা দিতে হবে, এলটিসিতে তাঁরা যাতায়াত খারচ ছাড়া অন্য কোন বাড়তি সুবিধাযুক্ত খরচ যেমন হোটেলে থাকা, খাওয়ার খরচ জমা দেননি নি।
সম্প্রতি রাজ্যের অর্থ দফতর নয়া এই নির্দেশিকা জারি করেছে। আর এই নির্দেশিকা ঘিরে দানা বেঁধেছে নতুন বিতর্কের। কনফেডারেশন অব স্টেত গভর্নমেন্টস এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, '২০১৫ সালের সেপটেম্বর মাসে রাজ্য সরকার সার্কভূক্ত দেশগুলোতে ভ্রমণের জন্য এলটিসিতে নির্দেশ জারি করে। এরপর সরকারি আধিকারিকেরা দফতর থেকে ৮০ শতাংশ অগ্রিম নিয়ে টি্কিট কেটে বিদেশে ভ্রমণে যায়।' মলয়বাবুর কথায়, ' এখন রাজ্য সরকারের অর্থ দফতর বলছে টাকা ফিরিয়ে দাও। এখানে সরকারি কর্মচারিদের দোষ কোথায় বোঝা যাচ্ছেনা। বিদেশে ভ্রমণে যাওয়ার খরচ কত পরতে পারে স্থান অনুসারে তাঁর খোঁজ খবর রাখার দায়িত্ব রাজ্যের অর্থ দফতরের। যেহেতু তাঁরা অগ্রিম অর্থের অনুমোদন দেওয়ার অধিকারি।' এখানে থেমে না থেকে মলয় মুখোপাধ্যায় বলেছেন, 'খোঁজ খবর না নিয়ে অর্থ দফতর এলটিসিতে দেদার অগ্রিম অর্থ মঞ্জুর করেছে। এখন দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে সরকারি কর্মচারিদের বিরুদ্ধে। এর পিছনে বড় চক্র জড়িত।' এই প্রসঙ্গে মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, সরকারি কর্মচারিরা নিরাপরাধ। এলটিসিতে বড় রকমের দুর্নীতি রয়েছে। এর দায় রাজ্যের অর্থ সচিবের ঘাড়েও বর্তায়। বলির পাঠা করা হচ্ছে সরকারি কর্মচারিদের।' সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দাবি করেছেন, 'টাকা দিয়ে ফের টাকা ফিরিয়ে নেওয়া রুলসে নেই। অর্থ দফতরের আধিকারিকেরা এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। রাজ্য সরকারের সমস্ত দফতরের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকেরা, এমনকি পুলিশ মহলের উচু পদে থাকা আধিকারিকেরাও এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে। এখন যত দায় সরকারি কর্মচারিদের ওপরে চাপানোর চেষ্টা চলছে। আমরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যাবো।'
Loading...

No comments

Theme images by caracterdesign. Powered by Blogger.